হাতি

30th October 2019 0 Comments

চিত্তাকর্ষক প্রাণী হাতি মজার কিছু অভ্যাস

এই সবুজ গ্রহ জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নানান বাহারের বিচিত্র সব প্রাণী। চালচলন, খাদ্যভ্যাস, সঙ্গী নির্বাচন, যৌনতায় তাদের প্রত্যকের রয়েছে পৃথক স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। এই বৈচিত্রময় বিশ্বে বৈচিত্র সব প্রাণীদের সম্পর্কে জানা আমাদের এই ক্ষুদ্র জীবনে কুলিয়ে উঠা সম্ভব নয় মোটেই। তারপরেও দুএকটি প্রাণী নিয়ে কিঞ্চিত জ্ঞান লাভের চেষ্টা মন্দ হয় না। তাতে আর কিছু হোক না হোক চিত্তটা প্রফুল্ল থাকে ক্ষণিকের তরে তা নিশ্চিত।আজকের লেখায় জানবো স্থল জগতে বিচরণ করা সর্বাপেক্ষা স্থূলকায় প্রাণী হাতি নিয়ে। বাংলা ভাষায় হাতির নানাপদের বাহারি নামের অভাব নেই যেমনঃ- গজ, হস্তী, করী ইত্যাদি। রহস্যময় এই প্রাণীটির এমন অনেক গোপনীয় বিষয় আছে যা এখনও উন্মোচিত হয়নি। চিত্তাকর্ষক প্রাণী হাতির মজার কিছু অভ্যাস আছে।

 

 

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক চিত্তাকর্ষক প্রাণী হাতির মজার কিছু অভ্যাসঃ

১/ হাতি পরিবারের নেতৃত্ব দেয় মহিলা হাতি

হাতির সামাজিক কাঠামো অন্য জীবজন্তুর থেকে আলাদা। একটি মহিলা হাতির নেতৃত্বে ২৫ টি হাতি একটি পরিবারের মত একসাথে বাস করে, একে হার্ড বা পশুপাল বলে। হাতি পরিবারে বয়স্ক হাতির প্রভাব অনেক বেশি থাকে, হাতি পরিবারে বয়স ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়। পুরুষ হাতি ৮-১৫ বছর বয়সের মধ্যে পরিবার ত্যাগ করে বা অন্যভাবে বলা যায় যে, হাতি কিশোর বয়সে নিজ পরিবার ত্যাগ করে সঙ্গীর সন্ধানে অন্য ছোট পরিবারের সাথে থাকতে শুরু করে।

২/ হাতির অনেক ঘুম প্রয়োজন হয়না

মানুষের দৈনিক ৮ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন কিন্তু হাতির ৪ ঘন্টা ঘুমালেই হয়। তারা বেশিরভাগ সময় দাড়িয়েই ঘুমায়। গভীর ঘুমের জন্য হাতি এক পাশে ফিরে শোয় এবং অনেক জোরে নাক ডাকে।

৩/ হাতি বুদ্ধিমান প্রাণী

পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান জীবজন্তুর মধ্যে হাতি একটি। স্থলজ জীবজন্তুর মধ্যে হাতির মস্তিস্ক সবচেয়ে বড়। হাতির মস্তিস্কের ওজন ৫ কিলোগ্রাম। হাতির বিষাদ, হাস্যরস, সহানুভূতি, সহযোগিতা, আত্মসচেতনতা, সরঞ্জাম ব্যবহার এবং চমৎকার শেখার ক্ষমতা আছে। হাতির ব্রেইনের হিপ্পোকেম্পাস অঞ্চল অনেক উন্নত থাকে যা আবেগ ও স্থান সংক্রান্ত সচেতনাতার জন্য দায়ি। হাতি তাদের মৃতদের সম্মান দেয় এবং মৃতদের জন্য আচার-অনুষ্ঠান করে।

৪/ হাতির গর্ভকালীন সময় দুই বছর

পৃথিবীর স্থলজ প্রাণীদের মধ্যে হাতির গর্ভকালীন সময় সবচেয়ে দীর্ঘ হয়, যা ২২ মাস স্থায়ী হয়। মানুষের বাচ্চার ওজন সর্বোচ্চ ৭ পাউন্ড হয় আর হাতির বাচ্চার ওজন হয় ২৬০ পাউন্ড। হাতির বাচ্চা জন্মের কিছুক্ষণ পরই দাঁড়াতে পারে।

৫/ দীর্ঘ জীবনকাল

সাধারণত একটি হাতি ৬০-৮০ বছর বাঁচে। যদি কোন হাতি অসুস্থ হয় তখন হার্ডের অন্য সদস্যরা খাবার এনে দেয় এবং তাঁকে দাঁড়াতে সাহায্য করে। যদি হাতিটি মারা যায় তাহলে পালের সবাই শান্ত হয়ে যায়। তাঁরা মৃত হাতির জন্য অগভীর কবর খনন করে এবং ধুলা মাটি ও গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে দেয়। এই কবরের সামনে তাঁরা কিছুদিন অবস্থান করে। মৃত হাতির সঙ্গীর মধ্যে বিষণ্ণতার লক্ষণ দেখা যায়।

৬/ গজদন্ত

হাতির ইনসিজর দাঁত রূপান্তরিত হয়ে গজদন্ত হয় যা জীবনভর বৃদ্ধি পায়। পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ হাতির গজদন্ত বছরে ৭ ইঞ্চি বৃদ্ধি পায়। এশিয়ান মহিলা হাতির গজদন্ত থাকেনা।

৭/ শুঁড়

হাতির নাক ও উপরের ঠোঁটের সমন্বয়ে হাতির শুঁড় গঠিত হয়। হাতির শুঁড় হাতির অনেক গুরুত্ব পূর্ণ ও কার্যকরী অঙ্গ। হাতির শুঁড় অনেক শক্তিশালী হয় যা দিয়ে গাছের ডালপালা চিরে ফেলতে পারে। পানি পান করার জন্য ও গোসলের জন্য ও শুঁড় ব্যবহার হয়। শুঁড় দিয়ে হাতি একবারে ১৪ লিটার পানি শোষণ করতে পারে। শরীরে পানি, বালি বা মাটি ছিটানোর জন্য শুঁড় ব্যবহার হয়। হাতি সাঁতার কাটতে পারে এবং ডুব সাঁতারের সময় শ্বাস নেয়ার জন্য শুঁড়ের সাহায্য নেয়।
এছাড়াও হাতির অনেক বেশি বড় কান থাকে যা শরীরের তাপ বিচ্ছুরিত হতে সাহায্য করে। হাতি আওয়াজের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। হাতির শব্দ এক মাইল দূরের অন্য হাতিরা শুনতে পায়। হাতি আনন্দ প্রকাশের জন্য কান নাড়ায়।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.