স্বর্নলতা

12th February 2020 0 Comments

স্বর্নলতা একটি পরজীবী উদ্ভিদ। কোন পাতা নেই, লতাই এর দেহ কান্ড মূল সব। লতা হতেই বংশ বিস্তার করে। সোনালী রং এর চিকন লতার মত বলে এইরূপ নামকরণ। ঔষধি গুন আছে। অনেক ক্ষেত্রি আশ্রয় দাতা গাছের মৃত্যু ঘটিয়ে থাকে।

বাংলায় নামঃ স্বর্ণলতা

বৈজ্ঞানিক নামঃ Cuscuta Reflexa

বিষাক্ত অংশঃ পুরো উদ্ভিদ

বিষক্রিয়ার ধরনঃ প্রজনন ক্ষমতারোধি, বমন সৃজক, গর্ভপাতক।

প্রাপ্তিস্থান : বাংলাদেশের যে কোন অঞ্চল। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে।

এই লতার হস্টেরিয়া নামক চোষক অঙ্গ থাকে। চোষক অঙ্গের মাধ্যমে এটি পোষক উদ্ভিদ থেকে পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে। এটি একবর্ষজীবী লতা। আমাদের দেশে কয়েকটি প্রজাতি আছে। এ লতা অনেক শাখা লতা তৈরি করে পুরো গাছ জড়িয়ে ফেলে খুব কম সময়ে। ফুল থেকে ফল হয়। বীজ থেকে বংশবৃদ্ধি ঘটে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর উষ্ণমণ্ডলীয় এলাকার আদিবাসীদের কাছে লতাটি লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

স্বর্ণলতার রয়েছে নানা ওষধি গুণ। এটি বায়ুনাশক ও পেটব্যথায় কার্যকর। জন্মনিরোধ ও কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে থাকে। স্বর্ণলতার নির্যাস পেটফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্যে দারুণ উপকারী।

আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় স্বর্ণলতা ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসায় একে রক্তদুষ্টিনাশক, পিত্ত ও কফনাশক, বিরেচক, বায়ুনাশক, কৃমিনাশক, খোসপাঁচড়া নিবারণকারী হিসাবে দেখা যায়।

স্বর্ণলতার কিছু ওষধি গুণ-

অরুচি ভাব দূর হয়:
কারও মুখে অরুচি দেখা দিলে বা খেতে ইচ্ছা না করলে স্বর্ণলতা সিদ্ধ করে সেই পানি সেবন করলে অরুচি ভাব কেটে যায়।

মুখের ঘা সারাতে:
মুখে ঘা হলে স্বর্ণলতা সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে কুলকুচো করলে ঘা দ্রুত ভালো হয়।

বায়ুনাশে সমস্যা হলে:
পেটের বায়ুনাশে সমস্যা দেখা দিলে স্বর্ণলতার বীজ চূর্ণ করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

কৃমি ভালো হয়:
স্বর্ণলতা গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে সেই বীজ চূর্ণ করে খেলে কৃমি ভালো হয়।

ক্ষত দ্রুত ভালো হয়:
ক্ষতে স্থানে স্বর্ণলতা পিষে প্রলেপ দিলে ক্ষত দ্রুত ভালো হয়।

জন্ডিস ভালো হয়:
প্রথমে স্বর্ণলতা সংগ্রহ করে থেঁতো করতে হবে। এবার থেঁতো করে সেবন করলে জন্ডিস রোগ ভালো হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.