সুপারি

6th January 2020 0 Comments

সুপারি বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রাচীনকাল থেকেই এদেশের মানুষ পানের সাথে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে সুপারি ব্যবহার করে আসছে। বর্তমানে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাতেও কিছু পরিমাণ সুপারির চাষ হয়ে থাকে। এই গাছ প্রায় ২০-২৫ মিটার লম্বা হয়, গোলাকার কাণ্ডের ব্যাস ৪ থেকে ৭ ইঞ্চি। সুপারির পাতা লম্বা, মধ্য শিরাটি বেশ শক্ত, মধ্যশিরার দু’পাশ থেকে চিরুনির দাঁতের মত সবুজ পত্রফলক সাজানো থাকে, তবে তা নারিকেল ও খেজুরের চেয়ে প্রশস্ত ও কোমল। পাতায় কোন কাঁটা নেই। দীর্ঘ পত্রখোল বা খোলা কান্ডের সাথে লেগে থাকে। সুপারি গাছের ফল ডিম্বাকার থেকে গোলাকার, ছোট। কাচা ফলের রঙ সবুজ, পাকলে হলুদ বা কমলা হয়ে যায়। কাঁদিতে থোকা ধরে অনেক ফল থাকে। কাচা ও পাকা ফল খাওয়া হয়। খোসা ছাড়িয়ে ভিতরে সুগোল যে বিচি থাকে সেটাই খাওয়া হয়। এই বিচি শুকিয়েও খাওয়া হয়। কুচিকুচি করে যাঁতি দিয়ে কেটে পানের সাথে সুপারি খাওয়া হয়। বর্ষাকালে বীজ পুঁতে সুপারির চারা তৈরি করা হয়। লোনা নয় এরকম মাটিতে এক বছর বয়সী চারা ৩ মিটার দূরে দূরে গর্ত করে লাগালেই সুপারি বাগান দাঁড়িয়ে যায়। অন্য গাছপালার মধ্যে বা ছায়া জায়গায় লাগালে সুপারি গাছ ভাল হয়। প্রখর রোদ সুপারি গাছ সইতে পারে না। চারা লাগানোর পর ৬-৭ বছরের মধ্যেই ফল ধরা শুরু করে। তবে বেশি ফল ধরে ১০-১২ বছরের পর থেকে। স্থানভেদে বছরের নভেম্বর-মার্চ পর্যন্ত সুপারি সংগ্রহ চলে। সুপারি গাছ বাংলাদেশ সহ ভারত, শ্রীলংকা, মায়ানমার, পাকিস্তান, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, চীন, প্রভৃতি দেশে সুপারি চাষ করা হয়। সুপারিতে ভেষজ গুন রয়েছে।  

চাষাবাদঃ

বর্ষাকালে বীজ পুঁতে সুপারির চারা তৈরি করা হয়। লোনা নয় এরকম মাটিতে এক বছর বয়সী চারা ৩ মিটার দূরে দূরে গর্ত করে লাগালেই সুপারি বাগান দাঁড়িয়ে যায়। অন্য গাছপালার মধ্যে বা ছায়া জায়গায় লাগালে সুপারি গাছ ভাল হয়। প্রখর রোদ সুপারি গাছ সইতে পারে না। চারা লাগানোর পর ৬-৭ বছরের মধ্যেই ফল ধরা শুরু করে। তবে বেশি ফল ধরে ১০-১২ বছরের পর থেকে। স্থানভেদে বছরের নভেম্বর-মার্চ পর্যন্ত সুপারি সংগ্রহ চলে।


রাসায়নিক উপাদানঃ

কাঁচা সুপারিতে ০.১-০.৫ অ্যালকালয়েড থাকে, যার কারণে মাথা ঘোরে। প্রতি ১০০ গ্রাম সুপারিতে আছে ২৮৯ ক্যালরি শক্তি যোগানোর ক্ষমতা।

উপকারিতাঃ

১। গুড়া কৃমির উপদ্রব দেখা দিলে  সুপারি পিষে গুড়ো করে নিতে হবে। এরপর পানিতে দিয়ে সেদ্ধ করে  ছেঁকে তা সকাল-বিকাল দুইবার খেলে এ রোগের উপশম হবে।

২। সুপারির সঙ্গে বেলশুট (কাঁচা বেল শুকিয়ে চূর্ণ করা)  মিশিয়ে দুই বেলা খেলে রক্ত আমাশয় ভালো হয়।

৩। পেটে অজীর্ণ দেখা দিলে সুপারির ক্বাথ তৈরী করে দিনে দুইবেলা খেলে সেরে যায়।

৪।  ঘা পচে দুর্গন্ধ হলে ক্ষতস্থানে কাঁচা সুপারি ভালভাবে শুকিয়ে খোসাসহ থেঁতো করে তা মিহিচূর্ণ করে ঘায়ে লাগালে ঘা যেমন শুকিয়ে যাবে, তেমনি দুর্গন্ধ ও দূর হবে।

৫। কাঁচা সুপারি খেলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়।

৬। সুপাড়ি পুড়িয়ে গুড়ো করে সেই গুড়ো দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের গোড়া শক্ত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.