শাপলা

30th October 2019 0 Comments

শাপলা পুষ্প বৃক্ষ পরিবারের এক প্রকার জলজ উদ্ভিদ। এ পরিবারভূক্ত সকল উদ্ভিদই শাপলা নামে পরিচিত। সাদা শাপলা ফুল বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। এই ফুল সাধারণত ভারত উপমহাদেশে দেখা যায়। হাওড়-বিল ও দিঘিতে এটি বেশি ফোটে। এই ফুল প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। থাইল্যান্ড ও মায়ানমারে এই ফুল পুকুর ও বাগান সাজাতে খুব জনপ্রিয়। সাদা শাপলা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ইয়েমেন, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমার প্রভৃতি দেশের পুকুর ও হ্রদে দেখা যায়। এই ফুল পাপুয়া নিউগিনি এবং অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকায়ও দেখা যায়। এই ফুল যেমন দেখা যায় চাষের জমিতে, তেমনই হয় বন্য এলাকায়। কাটা ধান ক্ষেতের জমে থাকা অল্প পানিতে এই ফুল ফুটে থাকতে দেখা যায়।

শাপলা ফুল দিনের বেলা ফোটে এবং সরাসরি কাণ্ড ও মূলের সাথে যুক্ত থাকে। শাপলার পাতাআর ফুলের কাণ্ড বা ডাটি বা পুস্পদণ্ড পানির নিচে মূলের সাথে যুক্ত থাকে। আর এই মূল যুক্ত থাকে মাটির সঙ্গে এবং পাতা পানির উপর ভেসে থাকে। মূল থেকেই নতুন পাতার জন্ম নেয়। পাতাগুলো গোল এবং সবুজ রঙের হয় কিন্তু নীচের দিকে কালো রঙ। ভাসমান পাতাগুলোর চারদিক ধারালো হয়। পাতার সাইজ ২০ থেকে ২৩ সেন্টিমিটার এবং এদের ব্যাপ্তি প্রায় ০.৯ থেকে ১.৮ মি। শাপলা ফুল নানা রংয়ের দেখা যায় যেমনঃ গোলাপী, সাদা, নীল, বেগুনি ইত্যাদি।

 

পুষ্টিগুণঃ

প্রতি ১০০ গ্রাম শাপলার লতায় রয়েছে খনিজ পদার্থ ১.৩ গ্রাম, আঁশ ১.১ গ্রাম, খাদ্যপ্রাণ ১৪২ কিলো, ক্যালোরি-প্রোটিন ৩.১ গ্রাম, শর্করা ৩১.৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৭৬ মিলিগ্রাম।

উপকারিতাঃ

১। শাপলাতে থাকা গ্যালিক এসিড এনজাইম ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।সেই সাথে শাপলাতে থাকা ফ্লেভনল গ্লাইকোসাইড মাথায় সুচারুরূপে রক্ত সঞ্চালন করতে সাহায্য করে মাথা ঠাণ্ডা রাখে।

২। শাপলায় বিদ্যমান রাইজোম মানবদেহের বিভিন্ন রোগে যেমন- স্নিগ্ধ কারক, শীতল কারক, পিত্ত ঠাণ্ডাকারী হিসেবে কাজ করে। শাপলা প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া, আমাশয় ও পেট ফাঁপায় উপকারী।

৩। প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া ও পিত্ত গরম রোধে শাপলা ফুলের শুকনো গুঁড়ো, ধনিয়া আধা গুঁড়া, দুই কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে জ্বাল দিতে হবে। এবার মিশ্রণটি ছেঁকে নিয়ে প্রয়োজন মত চিনি সহ দিনে ২ বার খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৪। হৃদযন্ত্রের দুর্বলতায় ও হৃদকম্পন রোগের জন্য শাপলা ফুলের সঙ্গে গোলাপ ফুল মিশিয়ে দুই কাপ পানিতে জ্বাল দিতে হবে। এবার ছেঁকে নিয়ে প্রয়োজন মতো চিনি মিশিয়ে প্রতিদিন ২ বার এভাবে ১ মাস নিয়মিত খেলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।

৫। পিপাসা রোগের নিবারণের জন্য শাপলা ফুলের শুকনো অংশ এক কাপ পানিতে জ্বাল করে ছেঁকে নিতে হবে। প্রয়োজন মতো চিনি মিশিয়ে ১ মাস ধরে দিনে ২ বার করে খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

 

 

 

অনলাইনে বীজ কোথায় পাওয়া যায়ঃ

দোকানের পাশাপাশি এখন অনলাইনে বীজ কিনতে পারবেন। কিনতে নিচে বীজ লেখা লিঙ্কের উপর ক্লিক করুনঃ

বীজ

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.