রাজ বটেরা

29th October 2019 0 Comments

রাজ বটেরা বা নীলাভ-বুক বটেরা  (ফ্যাসিয়ানিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত(কোটার্নিক্স) গণের এক প্রজাতির রঙচঙে কোয়েল।রাজ বটেরার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ চিনা বটেরা। গত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে Least Concern বা ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। রাজ বটেরা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় পাখি। বাংলাদেশের ১৯৭৪ ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত। নীল বটেরার (C. adansonii) সাথে প্রজাতিটি একটি মহাপ্রজাতি গঠন করেছে। পূর্বে এদের (এক্সালোফ্যাক্টোরিয়া) গণের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হত, এখনও কেউ কেউ প্রজাতিটিকে এই গণের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেন। আবার অনেকে এদের নাটাবটের বলে গণ্য করেন, যদিও এরা তা নয়।

 

সারা বিশ্বে রাজ বটেরা বেশ সুলভ। রাজ বটেরা বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি। ঢাকা ও সিলেট বিভাগের তৃণভূমিতে দেখা পাওয়ার কেবল দুটি তথ্য রয়েছে। আফ্রিকা ও অস্ট্রেলেশিয়া জুড়ে রাজ বটেরার বিস্তৃতি। দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাস, রিইউনিয়ন ও গুয়ামে এদের অবমুক্ত করা হয়েছে। ইথিওপিয়া এবং মালিতে এরা অনিয়মিত।

 

বর্ণনা:

রাজ বটেরা স্লেট-নীল রঙের ছোট ভূচর পাখি (দৈর্ঘ্য ১৪ সেমি, ওজন ৫০ গ্রাম, ডানা ৭ সেমি, ঠোঁট ১ সেমি, পা ২ সেমি, লেজ ২.৫ সেমি)। পুরুষ ও স্ত্রীপাখির চেহারা ভিন্ন। পুরুষপাখির স্লেট-নীল কপাল; মাথায় সাদা কালো নক্সা; পিঠে বাদামি ছিটা-দাগ অথবা পীত, লালচে-বাদামি ও কালো ডোরা; ভ্রু-রেখা ও মাথার দু পাশ স্লেট-নীল; গলায় সাদা ও কালো মোটা দাগ; বুক ও বগল স্লেট-নীল; পেট ও লেজতল-ঢাকনি লালচে-তামাটে। স্ত্রীপাখির কপাল লালচে; ঘাড়ের নিচের অংশ, কাঁধ-ঢাকনি ও ডানা-ঢাকনিতে ছিটা-দাগ; বুক ও বগলে কালো ডোরা থাকে। অপ্রাপ্তবয়স্ক পুরুষপাখি অনুজ্জ্বল রঙের; মাথা ও ঘাড়ের পাশে কালো ডোরা থাকে; এবং তলপেটে তামাটে রঙ নেই।

 

স্বভাব:

রাজ বটেরা সাধারণত আর্দ্র তৃণভূমি, শস্যখেত, রাস্তার পাশে ও ঝোপ-ঝাড়ে বিচরণ করে; সচরাচর জোড়ায় কিংবা ছোট পারিবারিক দলে থাকে। আবাদি জমি, জলমগ্ন তৃণভূমি ও চা বাগানে ধীরে ধীরে ঘুরে খাবার খোঁজে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে ঘাস-বীজ, শস্যদানা ও পোকা। এরা মাঝে মাঝে বাঁশির সুরে ডাকে : টি-ইউ অথবা কুঈ-কী-কিউ…; ভয় পেলে কোমল কণ্ঠে ডাকে: টির-টির-টির…। জুন-আগস্ট মাসের প্রজনন মৌÍসুমে এরা ঘন লতাপাতায় ঘেরা ঘাসঝোপের মধ্যে মাটির গর্তে ঘাস ও পাতা দিয়ে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো ফিকে-ধূসর কিংবা ফিকে জলপাই-হলদে, সংখ্যায় ৫-৭টি, ছোট প্রান্তÍ সুচালো; মাপ ২.৪* ১.৯ সেমি। স্ত্রীপাখি একাই ডিমে তা দেয়।

 

 

৬। অনলাইনে পাখি কোথায় পাওয়া যায়ঃ

দোকানের পাশাপাশি পাখি এখন অনলাইনে অর্ডার করে কিনতে পারবেন। অর্ডার করতে নিচে দেয়া পাখি লেখার উপর ক্লিক করুনঃ

পাখি

Leave a Comment

Your email address will not be published.