মোরগফুল

17th December 2019 0 Comments

রেশমি পালকের মতো ছোট ছোট ফুলের ঠাসা মঞ্জরি। নানা রঙের ফুল- লাল, কমলা, হলুদ, সোনালি, সাদা। মোরগের মাথার ঝুঁটির আকৃতির কারণেই এর নাম হয়েছে মোরগফুল। দূর থেকে হঠাৎ দেখলে মনে হবে সত্যি কোন মোরগ বসে আছে। ফুলের বিন্যাসটাই এমন। মোরগফুল সচরাচর গ্রাম-গঞ্জের আঙিনায় দেখা মেলে। ইদানিং বাণিজ্যিকভিত্তিক এ ফুলের চাষ করা হয়। বিভিন্ন নার্সারিতে এ ফুল গাছের চাহিদাও বেশ ভালো। এশিয়ার নিরক্ষয় অঞ্চল এবং আফ্রিকা আদি নিবাস হলেও বাংলাদেশে মোরগ ফুল একটি জনপ্রিয় ফুল। অঞ্চল ভেদে কোথাও কোথাও এ ফুলকে মোরগ ঝুঁটি, লালমুর্গা নামেও ডাকা হয়। Cockscomb flower ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম- Celosia argentea, পরিবার- Amaranthaceae ক্রান্তীয় এশিয়ার প্রজাতি। গাছ সাধারণত ৩০-৯০ সেঃমিঃ লম্বা হয়। বাগানে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হয়ে থাকে। নানা প্রজাতির মোরগফুল রয়েছে। প্রজাতি ভেদে গাছের পাতা, শাখা-প্রশাখা, কান্ড ও ফুলের রঙ ভিন্ন হয়। লাল, কমলা, হলুদ, সাদা, সোনালি ও মিশ্র রঙের মোরগফুল দেখতে পাওয়া যায়। ফুল গন্ধহীন, উজ্বল রঙের মোলায়েম পালকের মতো। গাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করে রেখে দেয়ার পর ফুল শুকিয়ে গেলেও এর উজ্বলতা নষ্ট হয় না। ফুল শেষে পরিপক্ক ফুলের মাঝে বীজ হয়, বীজ ডাটা বীজের মতো। পরবর্তী মৌসুমে বংশ বিস্তারের জন্য বীজ সংরক্ষণ করে বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা যায়। এই গাছের পাতা, শিকড়, ডালপালা, ফুলসহ সব অংশই ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।


উপকারিতাঃ

১। ডায়রিয়া হলে মোরগ ফুলের পাতার রস সেবন ডায়রিয়া দ্রুত ভালো হয়।

২। প্রসাবের সমস্যা দেখা দিলে মোরগ ফুল থেঁতো করে গরম পানিতে সিদ্ধ করে সকাল বিকেল সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়।

৩। মোরগফুলের পাতার রস গরম করে কুলকুচি করলে মুখের ঘা ভালো হয়।

৪। চোখ দিয়ে পানি পড়লে বা চুলকালে মোরগ ফুলের পাতা বেটে সেই চোখে দিলে উপকার পাওয়া যায়।

৫। রক্ত আমাশয় হলে মোরগফুল গাছের শিকড় থেঁতো করে পানি দিয়ে সেদ্ধ করে মধুর সাথে মিশিয়ে সকাল বিকেল খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৬। শরীরে জ্বালা- পোড়া করলে মোরগফুল গাছের পাতা বেটে এই রস চিনির সাথে মিশিয়ে সকাল বিকাল সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়।

৭। মোরগফুল ও এর পাতা বেটে শরীরে লাগালে গায়ের চুলকানি ভালো হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.