মুলা

21st October 2019 0 Comments

মুলা একটি মূলবিশেষ খাবার উপযোগী সবজী, রোমানদের আগে ইউরোপে ব্রাসিকাসি পরিবারের একটি ঘরোয়া খাবার ছিল মূলা। সারা বিশ্বেই মূলা জন্মায় এবং খাওয়া হয়, বেশীরভাগ সময় এটি কাঁচা কচকচে সালাদ সবজী হিসাবে খাওয়া হয়। মূলা অনেক বৈচিত্রময়, আকারে আলাদা,গন্ধযুক্ত, বিভিন্ন রং এবং পরিপক্ক হওয়ার সময়ের বিভিন্নতা রয়েছে। মূলা গাছ দ্বারা বিভিন্ন মিশ্রিত রাসায়নিক নির্গত হওয়ার কারনে এটি তিব্র গন্ধযুক্ত হয়, যার সাথে যুক্ত থাকে গ্লূকোসাইনোলেট, মাইরোসিনাস এবং ইসোথিওসায়ানেট। মূলা কখনও কখনও অন্যান্য সবজীর সাথে সহচর সবজী হিসাবে জন্মায়, এবং কিছু কিটপতঙ্গ ও রোগে ভোগে।তারা অঙ্কুরিত হয় দ্রুত এবং বড় হয় দ্রুততার সাথে, ছোট জাতের মূলা খাওয়ার উপযোগী হয় এক মাসের মধ্যে, যেখানে বড় জাতের মূলা সময় নেয় কয়েক মাস। মূলা সাধারণত ঘাটতি পূরণের শীতকালীন সবজী হিসাবে বাজারে ব্যবহৃত হয়, ঠিক যেমন অবহেলীত সবজী। কিছু মূলা তাদের বীজ থেকে জন্ম নেয়। উদাহরন স্বরূপ সম্ভবত কিছু তেল উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিছু ব্যবহৃত হয় বীজ তৈরীতে এবং মূলা ও মূলার পাতা উভয়েই মাঝে মাঝে ঠান্ডা খাবার হিসাবে রান্না করা হয়।

 

বীজের বৈচিত্রতাঃ

মূলার বীজ গুটি গুটি আকারে জন্মায়, যখন চাষ করা হয় তার পরে সাধারণত পুষ্পোদগম ঘটে। বীজ খাওয়া যায় এবং মাঝে মধ্যে কড়মড়ে খাবারে ব্যবহৃত হয়, চিকন ফালি করে সালাদেও যুক্ত করা যায়। কিছু জন্মায় বিশেষভাবে তাদের বীজ এবং বীজের গুটির জন্য, মূলা জন্মানোর আগেই। অনেক পুরোনো ইউরোপিয়ান “র‌্যাট-টেইলড” মূলা প্রায় শতাব্দী আগে পূর্ব এশিয়া থেকে এসেছে, যা লম্বা, চিকন, কোকড়া, যা ২০ সে.মি. (৮ ইনচি) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। সপ্তদশ শতাব্দীতে, বীজের গুটি থাকত প্রায়ই জরান এবং মাংশ দ্বারা পরিবেশিত।

পুষ্টিমানঃ

১০০ গ্রাম কাঁচা মূলাতে ১৬ ক্যালরি শক্তি রয়েছে এবং মাঝারী পরিমান ভিটামিন সি রয়েছে (১৮% প্রতিদিনে) এবং এর সাথে অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি রয়েছে যা খাদ্য টেবিলে সন্তোষজনক।

মুলা চাষের পদ্ধতিঃ

জমি ও মাটিঃ উঁচু, মাঝারি উঁচু ও মাঝারি নিচু জমিতে মূলা চাষ করা যায়। সুনিষ্কাশিত বেলে দো-আশ মাটি মূলা চাষের জন্য ভাল। এটেল মাটিতে মূলার বাড় বাড়তি কম হয়। মূলা চাষের জন্য জমি গভীরভাবে ধুলো ধুলো করে চাষ করতে হয়। ছাই ও জৈব সার বেশী ব্যবহারে মূলার বাড় বাড়তি ভাল হয়।

জাতঃ

একসময় জাপানের বিখ্যাত তাসাকি সান জাতের মূলার মাধ্যমে এ দেশে উচ্চফলনশীল মূলার আবাদ শুরু হলেও এখন মূলার প্রায় ২৫টি জাত চাষ হচ্ছে। আসছে নিত্য নতুন স্বল্প জীবনকালের অধিক ফলনশীল হাইব্রিড জাত।

উল্লেখযোগ্য জাত সমূহ হল বারি মূলা ১, বারি মূলা ২, বারি মূলা ৩, এভারেষ্ট, হোয়াইট প্রিন্স, বিপ্লব ৯৪, হিমালয় এফ১, সুপার ৪০, মুক্তি এফ১, তাসাকী, কুইক ৪০, রকি ৪৫, হোয়াইট রকেট, হোয়াইট ৪০, জি চেটকি, সুফলা ৪০, বিএসবিডি ২১০১ এফ১,আনারকলি, দুর্বার, রকেট এফ১, সামার বেষ্ট এফ১, হ্যাভেন এফ১, মিনো আর্লি লং হোয়াই, বরকতি ৪০ এফ১, পাইলট এফ১, সিগমা ৪০ ইত্যাদি।

 

বীজ হার ও বপনঃ

আশ্বিন থেকে কার্তিক মাসের মধ্যেই অধিকাংশ মূলার বীজ বপন করা হয়। প্রতি হেক্টরে বপনের জন্য ২.৫-৩.০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। সাধারণতঃ ছিটিয়ে বীজ বপন করা হয়। তবে সারিতে বপন করলে পরিচর্যার সুবিধে হয়। সারিতে বুনতে হলে এক সারি থেকে আর এক সারির দূরত্ব দিতে হবে ২৫-৩০ সেমি.।

পরিচর্যাঃ

বীজ বপনের ৭-১০ দিন পর অতিরিক্ত চারা তুলে পাতলা করে দিতে হবে। ৩০ সেমি. দূরত্বে একটি করে চারা রাখা ভাল। মাটিতে রস কম থাকলে সেচ দিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে। মাটি শক্ত হয়ে গেলে নিড়ানী দিয়ে মাটির উপরের চটা ভেঙ্গে দিতে হবে।

পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ

অনেক সময় মূলা পাতার বিট্‌ল বা ফ্লি বিট্‌ল পাতা ছোট ছোট ছিদ্র করে খেয়ে ক্ষতি করে। এ ছাড়া করাত মাছি বা মাস্টার্ড স’ ফ্লাই, বিছা পোকা ও ঘোড়া পোকা পাতা খায়। বীজ উৎপাদনের সময় ক্ষতি করে জাব পোকা।

রোগ ব্যবস্থাপনাঃ

মূলা পাতায় অল্টারনারিয়া পাতায় দাগ একটি সাধারণ সমস্যা। এছাড়া হোয়াইট স্পট বা সাদা দাগ রোগও দেখা যায়। ফসল সংগ্রহ ও ফলন মূলা শক্ত হয়ে আঁশ হওয়ার আগেই তুলতে হবে। অবশ্য এখন হাইব্রিড জাতসমূহ আসাতে এ সম্ভাবনা অনেক কমে গেছে। তবুও কচি থাকতেই মূলা তুলে ফেলতে হবে। এতে বাজার দাম ভাল পাওয়া যায় এবং স্বাদও ভাল থাকে।

ফলনঃ জাতভেদে হেক্টর প্রতি ফলন হয় ৪০-৬০ টন।

 

অনলাইনে বীজ কোথায় পাওয়া যায়ঃ

দোকানের পাশাপাশি এখন অনলাইনে বীজ কিনতে পারবেন। কিনতে নিচে বীজ লেখা লিঙ্কের উপর ক্লিক করুনঃ

https://dmrebd.com/product-category/seeds/

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.