ভিয়েতনাম কই মাছের চাষ

30th October 2019 0 Comments

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের খুব সুস্বাদু মাছগুলোর অন্যতম। বর্তমানে এটি খুব দামী মাছ হিসাবে পরিচিত। । সবুজাভ-সোনালী বর্ণের এই মাছ আদিকাল থেকে আমাদের বিলে-ঝিলে সহজেই পাওয়া যেত। কই মাছ বাংলাদেশসহ এশিয়ার ১৭ টি দেশে পাওয়া যায়, তবে প্রজাতি একই হলেও দেশভেদে কই মাছের বর্ণ, স্বাদ, ও বৃদ্ধি হার বিভিন্ন রকম। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক জলাভূমির পরিমাণ দিনে দিনে কমে যাওয়ায় দেশী জাতের সুস্বাদু এই মাছটির প্রাপ্যতাও কমে যাচ্ছে।তবে আজকের লেখায় আমরা জানবো  ভিয়েতনাম কই মাছের চাষ পদ্ধতির উপায়।

 

আসুন তাহলে জেনে নেই ভিয়েতনাম কই মাছের চাষ পদ্ধতিঃ

 

ভিয়েতনাম কই মাছ চাষের গুরুত্ব
১। এই মাছ দ্রুত বর্ধনশীল। ৪ মাসে ১৫০-২০০ গ্রাম ওজন হয়।
২। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু এ মাছ চাষের উপযোগী।
৩। বর্ণ ও স্বাদ দেশী কই মাছের মত, তাই বাজার মূল্যও বেশী।
৪। চাষ ব্যবস্থাপনা সহজ ও লাভের পরিমান অন্য মাছের চেয়ে বেশী।
৫।শিং-মাগুরের সাথে মিশ্রচাষে ৪ মাসেই শিং-মাগুর বাজারজাত করা যায়।

 

পুকুর নির্বাচন

ভিয়েতনাম কই মাছ চাষের জন্য কম কাদাযুক্ত এবং ৪-৬ মাস পানি থাকে এমন ১৫-১০০ শতাংশ আয়তনের পুকুর নির্বাচন করতে হবে। তবে এর চেয়ে ছোট বা বড় পুকুরেও এ মাছ চাষ করা যায়।

 

পুকুর প্রস্তুতি

১। পুকুর সেচে পানি শুকিয়ে অবাঞ্ছিত মাছ ও অন্যান্য প্রাণী দূর করতে হবে।
২। পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাদা থাকলে তা উঠিয়ে ফেলতে হবে।
৩। পুকুরের পাড় মেরামত করতে হবে এবং পাড়ে গাছ-পালা থাকলে ডাল কেটে দিতে হবে।
৪। প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন/ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ করা আবশ্যক।
৫। চুন/ব্লিচিং প্রয়োগের ৩ দিন পরে পুকুরে পানি দিতে হবে।
৬। পুকুরে পানি দেয়ার ২-৩ দিন পর পোনা মজুদ করতে হবে।

 

পোনা সংগ্রহ

পুকুরে চাষের জন্য ভিয়েতনাম কই মাছের পোনা স্বর্ণলতা এগ্রো ফিশারিজ লিঃ-এর হ্যাচারী থেকে সংগ্রহ করা যাবে। পোনা পলিথিন ব্যাগে অক্সিজেন দিয়ে পরিবহণ করতে হবে।

 

পোনা মজুদ

০.১৫-০.২০ গ্রাম (৬০০০-৫০০০ টি/কেজি) আকারের সুস্থ-সবল পোনা ৩.৩ পোনা সংগ্রহ পুকুরে চাষের জন্য ভিয়েতনাম কই মাছের পোনা স্বর্ণলতা এগ্রো ফিশারিজ লিঃ-এর হ্যাচারী থেকে সংগ্রহ করা যাবে। পোনা পলিথিন ব্যাগে অক্সিজেন দিয়ে পরিবহণ করতে হবে। ০.১৫-০.২০ গ্রাম (৬০০০-৫০০০ টি/কেজি) আকারের সুস্থ-সবল পোনা নিম্নোক্ত ছক অনুযায়ী চাষের পুকুরে মজুদ করা যেতে পারে। মজুদের সময় পোনা পুকুরের পানির সাথে খাপ খাইয়ে ছাড়তে হবে।

 

ভিয়েতনাম কই মাছের পুষ্টি চাহিদা

ভিয়েতনাম কই মাছের আমিষ চাহিদা ৩৫-৪০%। পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য হতে আমিষের চাহিদা কিছুটা পূরণ হলেও ভিয়েতনাম কই মাছ চাষের জন্য পুকুরে উচ্চ আমিষযুক্ত ভাসমান খাদ্য প্রয়োগ করা উচিত।

 

অন্যান্য ব্যবস্থাপনা

১। প্রতি ৭-১০ দিন পর পর জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি পর্যবেণ করে খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।
২। মাছ ১০০টি/কেজি হওয়া পর্যন্ত নার্সারি খাদ্য সমস্ত পুকুরে প্রয়োগ করতে হবে।

৩। মাছ নিয়মিত খাবার খায় কিনা সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
৪। পোনা মজুদের ১ মাস পর হতে প্রতি মাসে শতাংশ প্রতি ১৫০ গ্রাম হারে জিওলাইট প্রয়োগ করতে হবে।
৫। মজুদ পুকুরে ১ মাস পর থেকে প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর ২০-৩০% পানি পরিবর্তন করা উত্তম।
৬। প্রতি ১৫ দিন অন্তর পানির গুণাগুণ যেমন পানির তাপমাত্রা, অক্সিজেন, পিএইচ, অ্যামোনিয়া ও মোট ক্ষারত্ব পরীক্ষা করা ভাল। অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে বাজারে প্রচলিত এ্যাকোয়া-কেমিক্যাল ব্যবহার করে অ্যামোনিয়া দুরীকরণের ব্যবস্থা গ্রহন করেত হবে।

 

মাছ আহরণ ও উৎপাদন

আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করলে ৩-৪ মাসে ভিয়েতনাম কই মাছের গড় ওজন ১৫০-২০০ গ্রাম হবে। জাল টেনে ও পুকুর শুকিয়ে মাছ ধরতে হবে। এ পদ্ধতিতে ৩-৪ মাসে একর প্রতি ৯-১৫ টন উৎপাদন পাওয়া সম্ভব।

 

খামার ও মাছের পরিচর্যা নিশ্চিতকরণ।

পরিবহণের সময় পোনা আঘাত পেলে তরোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া পালন পুকুরেও কই মাছের তরোগ হতে পারে। এরোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে –
১। ক্ষতরোগ প্রতিরোধে শীতের শুরু হতে ১৫ দিন পর পর প্রতি শতাংশে ২৫০ গ্রাম লবন ও ১৫০ জিওলাইট প্রয়োগ করতে হবে।
২।  তরোগের প্রাদুর্ভাব হলে পুকুরে জীবানুনাশক ব্যবহার করতে হবে। এন্টিবায়োটিক হিসাবে প্রতি কেজি খাবারে ৫ গ্রাম অক্সিটেট্রাসাইকিন ও ২ গ্রাম ভিটামিন-সি মিশিয়ে ১০ দিন প্রয়োগ করতে হবে ।

 

প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরামর্শ

১। খাবার প্রয়োগের ১ ঘন্টা পর পুকুর পর্যবেণ করা উচিত। যদি পুকুরে খাবার পাওয়া যায় তাহলে বুঝতে হবে পুকুর/মাছের কোন সমস্যা হয়েছে অথবা খাবার বেশী দেওয়া হচ্ছে।
২। গ্রীষ্মকালে অনেক সময় পুকুরের পানি কমে যায় ফলে পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে পুকুরে প্রয়োজনীয় পরিমান পানি দিতে হবে।
৩। একটানা মেঘলা আবহাওয়ায় কিংবা অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে অথবা খাবার দেয়া বন্ধ রাখতে হবে।
৪। প্রতিবার নতুন করে ভিয়েতনাম কই মাছ চাষ শুরু করার সময় অবশ্যই সম্পূর্ণ পুকুর শুকিয়ে তারপর পুকুর প্রস্তত করতে হবে।

 

 

 

অনলাইনে মাছের পোনা কোথায় পাওয়া যায়ঃ

হ্যাচারীর পাশাপাশি এখন অনলাইনেও অর্ডার করে কিনতে পারবেন যে কোন মাছের পোনা । মাছের পোনা কিনতে ক্লিক করুন নিচে দেয়া মাছের পোনা লেখার উপর।

মাছ চাষ

 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.