বাজরিগারের বাচ্চা জন্মানোর পর করনীয়

20th January 2020 0 Comments




বাজরিগার প্রধানত অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল অঞ্চলে বনাঞ্চলের পাখি। তাছাড়াও তাস্মেনিয়া এবং আশপাশের কয়েকটি দেশেও এই পাখি দেখতে পাওয়া যায়। বনে বাস করে এমন বাজরিগার লম্বায় প্রায় ৬.৫ থেকে ৭ ইঞ্চি হতে পারে। তবে খাঁচায় পালা পাখি লম্বায় ৭ থেকে ৮ ইঞ্চি হয়ে থাকে। বন্য পাখির ওজন ২৫ থেকে ৩৫ গ্রাম। আর খাঁচায় পালনকারা পাখির ওজন ৩৫ থেকে ৪০ গ্রাম পর্যন্ত হয়।
শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়া মেলোপসিট্টাকাস প্রজাতির এই পাখি ১৭০০ শতাব্দিতে তালিকাভূক্ত হয়। বাজরিগার প্রাকৃতিকভাবে সবুজ ও হলুদের সঙ্গে কালো রংয়ের হয়। এছাড়াও থাকে নীল, সাদা, হলুদ রংয়ের ছোপ। সারা গায়ে পেটের নিচে আকাশি, হলুদ বা অন্য রংয়েরও হয়ে থাকে। এই পাখির উপর গবেষণা চালিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসীগণ প্রতিপালন শুরু করে সফলতা পায়। জানতে পারেন ঘনঘন ব্রিডিং সম্ভব এই পাখির। একবার যদি বাচ্চা দেওয়া শুরু করে তো আর থামেই না।

দীর্ঘ ১৮ দিন তা দেয়ার পর পৃথিবীতে আসে বাজরিগারের বাচ্চা । তাদের মৃদু কিচমিচ শব্দ আপনাকে জানিয়ে দেবে তাদের আগমনী বার্তা । তাদের চাই খাবার , নিরাপদ বাস্থান ও মা-বাবার উষ্ণতা। জন্মের পর থেকে প্রথম ৭ দিন বাচ্চার অবস্থা খুব ই নাজুক থাকে। তাই আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে তাদের যত্নআত্তির ব্যাপারে। নিচের টিপস গুলো মেনে চললে আপনার বাজরিগারের বাচ্চা ভালো থাকবেঃ
১/ বাচ্চা হলে পাখির খাঁচায় পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে সবসময় । এসময় বাজরিগার প্রচুর খাবার ও পানি খায় । তাই প্রতিদিন বেশি করে খাবার দিতে হবে বা সিড হপারে খাবার দিতে হবে। অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই ফোটানো পানি দেবেন।
২/ বাচ্চার হজম শক্তি মা বাবার তুলনায় অনেক কম হয় । তাই খাবারে সামান্য ভুলভাল হলেই বাচ্চা মারা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাজার থেকে সিডমিক্স কিনে এনে ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে অথবা পারতপক্ষে সিডমিক্স কুলায় ঝেড়ে ধুলিমুক্ত করতে হবে। বাচ্চার জীবাণুমুক্ত খাবার আলাদা পাত্রে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
৩/ বাচ্চা হলে সফটফুড যেমন ডিম সিদ্ধ , পাউরুটি ভেজা , ভুট্টা সিদ্ধ , গাজরকুচি , বরবটি , ধনেপাতা এবং কলমি/পালং শাক দিতে হবে। তবে আমি আগেও বলেছি , বাচ্চার হজম শক্তি বাবা মায়ের তুলনায় অনেক কম। সফটফুড বাচ্চা হজম করতে না পারলে পাতলা পায়খানা করবে। অনেক সময় খুব বেশি পাতলা পায়খানা করলে হাড়িতে কাদার মত হয়ে যায়। এতে হাড়ির অন্য ডিম না ও ফুটতে পারে বা অন্য বাচ্চা মারা যেতে পারে । তাই আমার মতে সব বাচ্চা ফোটার আগে সফটফুড না দেয়া ভালো। আর যদি দেন তাহলে সতর্ক থাকবেন। যখনই দেখবেন বাচ্চা পাতলা পায়খানা করছে তখনই সফট ফুড দেয়া বন্ধ করে দেবেন। সফটফুড গরমকালে ২ ঘণ্টা ও শীতকালে ৩ ঘণ্টার মধ্যে খাঁচা থেকে সরিয়ে ফেলবেন।
৪/ বাচ্চাদের জন্য ভিটামিন বিসি গোল্ড (BC GOLD) টনিক হিসেবে পরিচিত। এটা বাচ্চার বেড়ে ওঠা দ্রুততর করে। এটা সপ্তাহে ৩/৪ দিন দেয়া যেতে পারে।
৫/বাজরিগার কোন কারণে ভয় পেলে হাড়ির ভেতর হুড়মুড় করে হাড়ির ভেতর ঢুকে। এতে বাচ্চারা মা বাবার পায়ের চাপে মারা যেতে পারে। তাই আপনি যখন তাদের দেখতে যাবেন তখন আস্তে ধীরে যান। এভিয়ারি ইঁদুর , টিকটিকি , কাক ও চড়াই এসব মুক্ত রাখুন। কারন এগুলো দেখলে বাজি ভয় পায় ও খুব বেশি রিঅ্যাকট করে। তখন তাদের পায়ের চাপে বাচ্চা মারা যেতে পারে।
৬/বাচ্চা বারবার দেখবেন না। এতে উপরোক্ত সমস্যা হতে পারে। দিনে ১-২বার দেখা যায় । বাচ্চা দেখার জন্য হাড়ি না নামিয়ে আপনার মোবাইলের ক্যামেরা বা ভিডিও অপশন টি( ফ্লাশ ছাড়া) ব্যবহার করতে পারেন। এতে বারবার হাড়ি নামানোর ঝামেলা কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে বাজি বুঝেনা যে আপনি তাকে কৃত্তিম চোখ দিয়ে দেখছেন ।
৭/ কোন বাচ্চা মারা গেলে ফেলে দিন। হাঁড়িতে পচে গেলে বা শুকিয়ে গেলে তা অন্য বাচ্চার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
৮/ বাচ্চার হাড়ি কিছুদিন পর পর পায়খানায় ভরে যায়। মজার ব্যাপার হল অনেক বাজি সেই পায়খানা নিজেরাই পরিস্কার করে। আপনি সপ্তাহে অন্তত একবার হাড়ি পরিস্কার করুন। হাড়ি পরিস্কার করার একটা সহজ বুদ্ধি হল হাড়ি ভালো করে ধুয়ে ভেতরে পেপার দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা। এটা সব জীবাণু জীবন্ত পুরে মারা যায়।
৯/ বাচ্চার বয়স ২৫ দিন হলে তাকে নিচে একটা মাটির পাত্রে নামিয়ে দিন এবং হাড়ি সরিয়ে ফেলুন । পাত্রে কিছু কাউন দিন যাতে তারা খাবার খেতে শেখা আয়ত্ত করতে পারে ।
১০/বাচ্চা উড়তে শেখার সাথে সাথে খাঁচা থেকে আলাদা করে দিন । নাহলে তারা মা-বাবার আক্রোশের শিকার হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.