বাঁধাকপি 

26th October 2019 0 Comments

বাঁধাকপি  রবি মৌসুমের একটি পুষ্টিকর সবজি যার বৈজ্ঞানিক নাম Brassica oleracea var capitata । দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই বাঁধাকপির চাষ হয়ে থাকে। এদেশে উৎপাদিত বাঁধাকপির প্রায় সব জাতই বিদেশি ও হাইব্রিড। সব জাতের বীজ এদেশে উৎপাদন করা যায় না। তবে এদেশে বীজ উৎপাদন করা যায় বারি উদ্ভাবিত এমন জাতও আছে।

পুষ্টি মূল্যঃ

বাঁধাকপি একটি অন্যতম পুষ্টিকর পাতা জাতীয় সবজি। এত প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ‘ রয়েছে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বেশ উপকারী।

জাতঃ

উচ্চ ফলনশীল জাতঃ উচ্চ ফলনশীল জাত গুলো হলোঃ

বারি বাঁধাকপি ২ (অগ্রদূত), হাইব্রীড বাধাকপি ঈশা খাঁ, হাইব্রীড বাধাকপি ব্রোনকো, হাইব্রীড বাধাকপি সুপার আরলী, আরলী স্পেশাল, মুন স্টোন, হাইব্রীড বাধাকপি একসপ্রেসো এফ-১, লাল বাধাকিপ, হাইব্রীড বাধাকপি সামার ওয়ারিয়র, গ্রীন-৬২১,৬৬২, লরেলস, গ্রীন ষ্টার, হাইব্রীড বাধাকপি জি এক্সপ্রেস, হাইব্রীড বাধাকপি কে.ই-৭৩৯, কে.এ-৭৮০।

উপযোগী জমি ও মাটিঃ অত্যধিক বেলে মাটি ছাড়া যে কোন ধরনের মাটিতে এটি জন্মে। বেলে দোঁআশ থেকে পলি দোঁআশ মাটি এ ফসলের জন্য উপযোগী।
৪. বীজঃ ভালো বীজ নির্বাচনঃ  ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য গুলো নিম্নোরুপ-

রোগমুক্ত, পরিষ্কার, পরিপুষ্ট ও চিটামুক্ত হতে হবে।

সকল বীজের আকার আকৃতি একই ধরনের হবে।

বীজের হারঃ

রোপণের জন্য সারি থেকে সারির দুরত্ব ২৫ ইঞ্চি  এবং প্রতি সারিতে চারা থেকে চারার দূরত্ব ১৮ -২০ ইঞ্চি দিলে ভাল হয়। এ হিসেবে প্রতি শতকে ১৫০টির মত চারার প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ জাত ভেদে প্রতি শতকে ২-৩ গ্রাম বীজের দরকার হয়। তবে উচ্চ ফলনশীল জাতের ক্ষেত্রে বীজের প্যাকেটের গায়ে লেখা নির্দেশিকা অনুসরন করতে হবে।

বীজ শোধনঃ

প্রতি কেজি বীজের জন্য ২.৫ গ্রাম ভিটাভেক্স-২ নামক ছত্রাকনাশক ও বীজ পাত্রে ঢেলে এমনভাবে ঝাকাতে হবে যেন বীজের গায়ে ছত্রাক নাশক ভালভাবে লেগে যায়। শোধনকৃত বীজ পাত্র থেকে বের করার পর ছায়াতে শুকিয়ে নিতে হবে। বীজ বপনের ছয় ঘন্টা আগে বীজ শোধন করা ভাল।

জমি তৈরীঃ

জমি চাষঃ গভীর ভাবে ৪-৫টি চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে তৈরি করতে হবে।

বীজ তলা তৈরীঃ বাঁধা কপির চারা বীজতলায় উৎপাদন করে জমিতে লাগানো হয়। বীজতলার আকার ১ মিটার পাশে ও লম্বায় ৩ মিটার হওয়া উচিত। সমপরিমাণ বালি, মাটি ও জৈবসার মিশিয়ে ঝুরাঝুরা করে বীজতলা তৈরি করতে হয়। দ্বিতীয় বীজতলায় চারা রোপণের আগে ৭/৮ দিন পূর্বে প্রতি বীজতলায় ১০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১৫০ গ্রাম টিএসপি ও ১০০ গ্রাম এমওপি সার ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। পরে চারা ঠিকমত না বাড়লে প্রতি বীজতলায় প্রায় ১০০ গ্রাম পরিমাণ ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দেয়া ভাল।

বপন ও রোপন এর পদ্ধতিঃ  বাঁধাকপি শীতকালে ভালো হয়ে থাকে। শীত মৌসুমে আগাম ও নাবী করেও চাষ করা যায়। তবে সম্প্রতি গ্রীষ্ম ও বর্ষকালেও বাঁধাকপি উৎপাদিত হচ্ছে।

রোপনঃ

বীজ বপনের ৩০-৩৫ দিন পর বা ৫/৬টি পাতা বিশিষ্ট ৫-৬ ইঞ্চি লম্বা  চারা সাধারণতঃ বিকেল বেলা জমিতে রোপণ করতে হয়। তবে সুস’ ও সবল হলে চারা এক-দেড় মাস বয়সের চারা রোপণ করা যায়।

সার ব্যবস্থাপনাঃ

সারের পরিমাণঃ প্রতি শতকে গোবর ১২৫ কেজি, ইউরিয়া ১ কেজি, টিএসপি ৮০০ গ্রাম, এমওপি ৬৫০ গ্রাম সার দিতে হবে।

সার প্রয়োগের সময়ঃ সম্পূর্ণ গোবর ও টিএসপি সার জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া  ও এমওপি সার ২ কিসি-তে চারা রোপণের ২০-২৫ দিন পর একবার এবং ৩০-৪০ দিন পর আর একবার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

আগাছা দমনঃ সময়ঃ জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে।

দমন পদ্ধতিঃ সার দেয়ার আগে মাটির আস্তর ভেঙ্গে দিয়ে নিড়ানী দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে।

সেচের পরিমাণঃ  চারা রোপনের পর জমির আস্তরণ ভেঙ্গে মাটি ঝুরঝুরে রাখতে হবে ও প্রয়োজন অনুসারে সেচ দিতে হবে।

নিষ্কাশনঃ নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা।

পরিবহণ ব্যবস্থা,সময়ঃ  বাঁধাকপির মাথা শক্ত হয়ে উঠলেই সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। সাধারণত: চারা রোপণের ৬০-৯০ দিন পর বাঁধাকপি সংগ্রহ করা যায়।

পরিবহণ পদ্ধতিঃ বাধা কপি পাতাসহ সংগ্রহের পর পাটের ছালা বা ঝুড়ির মাধ্যমে পরিবহন করা যেতে পারে।

পরিবহণের মাধ্যমঃ সাধারনত ঝুড়ি / ডালিতে করে পরিবহন করা হয় তবে বেশি আকারে হলে পিক-আপ / ট্রাকের মাধমেও পরিবহন করে হয়।

প্যাকেজিং পদ্ধতিঃ পাতা সহ চটের ছালা বা বড় ঝুড়ির সাহায্যে প্যাকেজিং করা যেতে পারে।

সংরক্ষণ পদ্ধতিঃ স্বল্প পরিসরেঃ ৪-৬ দিন সংরক্ষণ করা যায়।

বাজার ব্যবস্থাঃ পার্শবর্তী কোনো হাট-বাজারে বিক্রয় করতে পারেন।

 

অনলাইনে বীজ কোথায় পাওয়া যায়ঃ

দোকানের পাশাপাশি এখন অনলাইনে বীজ কিনতে পারবেন। কিনতে নিচে বীজ লেখা লিঙ্কের উপর ক্লিক করুনঃ

 

বীজ

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.