যেসব জীবিত অণুজীব পোষকের (মাছ, চিংড়ি, মানুষ ইত্যাদি যে কোন প্রাণী) দেহে ও পরিবেশে উপস্থিত থেকে পোষককে ক্ষতিকর রোগ জীবাণু থেকে সুরক্ষা দেয় ও পোষকের দৈহিক বৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে সেসব উপকারী অণুজীবকেই প্রোবায়োটিক নামে অভিহিত করা হয়। সহজ কথায় প্রোবায়োটিক হচ্ছে উপকারী বন্ধু অণুজীব (প্রধানত:ব্যাকটেরিয়া জাতীয়) যাদের উপস্থিতিতে ক্ষতিকর অণুজীব দমন করা যায় এবং এদের ক্ষতি করার ক্ষমতাও কমানো যায়। ফলে চাষযোগ্য প্রজাতিকে বিভিন্ন রোগব্যাধি হতে বাঁচিয়ে পরিবেশ বান্ধব চাষ ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন এবং সার্বিক উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়। কেবল মাছে বা চিংড়িতে নয় বরং গৃহপালিত প্রাণী এমনকি মানুষকেও নির্ধারিত প্রোবায়োটিক খাওয়ানো হলে তার পেটের স্বাস্থ্য ঠিক থাকে, পেটের ভেতরের ক্ষতিকর অণুজীবের সংখ্যা কমে যায়, উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং ক্ষতিকর অণুজীবের ক্ষতি করার ক্ষমতা অনেকাংশে কমে যাওয়ায় সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা যায়।

 

কেন প্রোবায়োটিক ব্যবহার করব?

জলজ পরিবেশ স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন প্রকার উপকারী ও অপকারী অণুজীবের বংশবিস্তারের জন্য উপযুক্ত। এ পরিবেশে অপকারী অণুজীবগুলির আক্রমণে মাছ ও চিংড়ি রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এসব রোগবালাই সৃষ্টিকারী অপকারী অণুজীবসমূহকে নিয়ন্ত্রণে যুগ যুগ ধরে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু এন্টিবায়োটিকের মাধ্যমে ক্ষতিকর জীবাণু মেরে ফেলা গেলেও একইসাথে জীবদেহে ও খামারের আশপাশের পরিবেশে বিদ্যমান নানান উপকারী অণুজীবেরও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এন্টিবায়োটিকের অপরিমিত ও অবাধ প্রয়োগের ফলে ক্ষতিকর জীবাণুর নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা (Resistance power) তৈরি হয়। ফলে একসময় এন্টিবায়োটিকের মাধ্যমে ক্ষতিকর জীবাণু আর দমন করা যায় না। তাছাড়া এন্টিবায়োটিক প্রয়োগে তাৎক্ষণিক সমাধান হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা মানবদেহে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এজন্যই রোগ দমনে এন্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসাবে প্রোবায়োটিকের ব্যবহার অধিক যৌক্তিক এবং স্থায়ীত্বশীল বলে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রোবায়োটিক কী কী উপকার করে?

প্রোবায়োটিক জীবদেহে ও পরিবেশে উপস্থিত থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আর এজন্যই মাছ ও চিংড়িচাষে প্রোবায়োটিকের পরিমিত ব্যবহার প্রয়োজন। যেমন-

১। চাষকৃত প্রজাতির অন্ত্রে উপকারী অণুজীবের বংশবিস্তার করে,ক্ষতিকর জীবাণুর টিকে থাকাও সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

২। ক্ষতিকর জীবাণুরোধী বস্তু (ব্যাকটেরিওসিন ও জৈব এসিড) নিঃসৃত করে ও বিপাকীয় উৎসেচক (digestive enzymes) উৎপন্ন করে,
৩। পরিপাক ক্রিয়া বা হজমে সহায়তা করে, বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিন উৎপাদনে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

 

৪। ক্ষতিকর জীবাণুর অতিরিক্ত বংশবৃদ্ধি প্রতিরোধে জৈবিক নিয়ন্ত্রক এজেন্ট হিসাবে কাজ করে, পোষকদেহের পীড়ন জনিত ক্ষতিকর অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।
৫। পরিবেশের মাটি ও পানির উন্নয়ন ঘটায়,  কতিপয় ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান নিষ্ক্রিয় করে, ইত্যাদি।

 

অনলাইনে মাছের পোনা কোথায় পাওয়া যায়ঃ

হ্যাচারীর পাশাপাশি এখন অনলাইনেও অর্ডার করে কিনতে পারবেন যে কোন মাছের পোনা । মাছের পোনা কিনতে ক্লিক করুন নিচে দেয়া মাছের পোনা লেখার উপর।

মাছ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *