পাম গাছ

30th October 2019 0 Comments

পাম গাছ ( Palm Tree) এক প্রকার বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতের ২,৬০০ প্রজাতির পাম গাছ দেখা যায়। এ গাছ থেকে নানাবিধ দ্রব্য পাওয়া যায়। এর জন্য এর ব্যাপক চাষ হয়ে থাকে। পাম গাছ বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য উপযোগী ও পরিবেশ বান্ধব। পাম ফল থেকে পাম তেল নিষ্কাশন করা হয়। বাংলাদেশে একটি চার/পাঁচ বৎসর বয়সী পাম গাছ থেকে বছরে ন্যূনপক্ষে ৪০ কেজি পামওয়েল পাওয়া যায়। একটি পাম গাছ থেকে একটানা ২৫/৩০ বছর পর্যন্ত তেল পাওয়া যায়।

 

চাষপদ্ধতি:

চাষের সুবিধাঅয়েল পাম যেহেতু একটি পামজাতীয় গাছ। তাই অয়েল পাম চাষ অন্য ফসলের সঙ্গে জায়গা, বাতাস, খাদ্য উপাদান, সূর্যালোক ইত্যাদির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে না। উঁচু জমির আইল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পতিত জমি,ক্যান্টনমেন্ট, রাস্তার দুপাশ, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পতিত ভূমি, পাহাড়ি অঞ্চলের পাদভূমির বিশাল এলাকা,উপকূলীয় বিশাল এলাকা অয়েল পাম চাষের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা যায়।

 

জমি তৈরি

১। মোটামুটি যে জায়গায় জলাবদ্ধতা হওয়ার সম্ভাবনা নেই সে জায়গায় চারা রোপণ করা ভালো।
২। যদি বেশি দিনের অর্থাৎ ২০ থেকে ২৫ দিন জলাবদ্ধতা থাকে তবে গাছ মরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

চারা উৎপাদন/নার্সারি ঃ

প্রথমে ফল থেকে মেসোকার্প সরিয়ে বীজ আলাদা করা হয়। বীজ ৩৯ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় ২৪ ঘন্টা গরমপানিতে শোধন করা হয়। তাপ শোধিত বীজ ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজানোর পর ১ ঘন্টা রোধে শুকানো হয়।পরে বেডে ১ ইঞ্চি মাটির নীচে রেখে দিলে ৬০ দিনের মধ্যে ৮০ শতাংশ বীজ অঙ্কুরিত হয়। অঙ্কুরিত বীজপলিথিন ব্যাগে (৫০ সেমি: × ১৫ সেমি:) ২.৫ সেমি: গভীরে স্থাপন করা হয়। N,P,K এবং ইংরেজী সংবলিতslow release fertilizer যেমন সিলভা জেন ট্যাবলেট ১টি করে ব্যবহার করা ভালো। কচি পাতায় ব্লাস্ট বালিফ স্পট দেখা দিলে যেকোনো ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলেই রোগ নিয়ন্ত্রণে আসবে।
চারা রোপণ /রোপণ পদ্ধতিবীজ থেকে চারা রোপণ করা ভালো। তবে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বীজও রোপণ করা যেতে পারে।১২-১৮ মাসের চারা ত্রিভুজ অথবা চতুর্ভূজাকারে বর্ষাকালে ৩০ ফুট পর পর রোপণ করতে হয় (৫৮ চারা/একর)।
জাতdura, tenera, Ges, pisifera তবে tenera জাতে বেশি তেল থাকায় এটিই বেশি চাষ হয়। সাধারণত: F1 (dura × pisifera) হাইব্রিড বীজ থেকে বংশবিস্তার করানো হয় এবং বিশেষায়িত অয়েল পাম ব্রিড়িং কোম্পানী বীজ উৎপাদন করেথাকে।

পরিচর্যাঃ

সারপ্রচুর পরিমাণে জৈব সারের পাশাপাশি পূর্ণ বয়ষ্ক গাছপ্রতি বছরে ৮০০ গ্রাম নাইট্রোজেন, ৪০০ গ্রাম ফসফরাস এবং ১ হাজার ৮০০ গ্রাম পটাশিয়াম ব্যবহার করা উচিত। এ ছাড়াও প্রতিটি গাছের ৬ ইঞ্চি দুরে ৫টি সিলভা জেন ট্যাবলেট চারদিকে ৪ ইঞ্চি মাটির নীচে স্থাপন করলে গাছের বাড়-বাড়তি ভালো হবে। নাইট্রোজেন সারসরাসরি শিকড়ে যেন না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পানি ব্যবস্থাপনাঅয়েল পামের সঠিক বাড়-বাড়তিতে পরিমিত মৃত্তিকা রসের প্রয়োজন। বেশি পরিমাণে জৈব সার ব্যবহার করলে সাধারণত: সেচের প্রয়োজন হয় না। লম্বা খরা মৌসুমে ব্যবস্থা থাকলে ভালো। আন্ত:ফসল হিসেবে লিগুমাস,আদা-হলুদ, আনারস ইত্যাদি কভার ক্রপ হিসেবে চাষ করলে ভালো হয়।

 

পোকামাকড় ও রোগবালাইঃ”

রাইনোসরাস বিটেল, রেড পাম উইভিল, অয়েল পাম বাঞ্চ মথ, কেটারপিলার, অয়েল পাম রুট মাইনার ইত্যাদিইহলো অয়েল পামের প্রধান পোকামাকড়। আইপিএম পদ্ধতিতে এসব পোকামাকড় সহজে দমন করা যায়।

রোগবালাই

পাতার এ্যানথ্রাকনোজ, লেপটোসফেরিয়া, গেলামেরেলা, সারকোসপরা লিফ স্পট, সিডলিং ব্লাইট ইত্যাদি রোগ দেখা যায়। সেগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ এবং সাধারণ ফাংগিসাইট ব্যবহার করলে সহজেই দমন করা যায়।

ফল সংগ্রহভালো জাতের অয়েল পামগাছ ও পরিমিত ব্যবস্থাপনা থাকলে রোপণের তৃতীয় বছর ফল সংগ্রহ করা যায়। কমলা বর্ণ ধারণ করলেই ফল সংগ্রহ করতে হবে। ২-১টি পাকা ফল গাছের নীচে পাওয়া গেলে বা পাখিতে ফেললে ফলের পরিপক্বতা নির্দেশ করে। অপরিপক্ব ফলে তেলের পরিমাণ খুবই কম। ফল সংগ্রহের সময় খেয়াল রাখতে যাতে মাটিতে পড়ে ফল পেটে না যায়। ফল সংগ্রহের সময় আঘাপ্রাপ্ত হলে অথবা ফেটে গেলে free fatty acid এর পরিমাণ বেড়ে যায়। ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু কৃষিকথা/অগ্রহায়ণ, ১৪১৫ করা ভালো নতুবা তেলের গুণাগুণ নষ্ট হতে পারে।
ফলনঅয়েল পামগাছ রোপণের তৃতীয় বছর থেকে ফল দেয়া শুরু করে ২৫ বছর পর্যন্ত লাভজনক ফলন দেয়। প্রতি হেক্টর জমিতে বছরে ৪ টন পাম অয়েল উৎপাদিত হয় কিন্তু বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ও অষ্টেলিয়াতে হেক্টরপ্রতি ৭ টন পাম অয়েল উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন জাত উদ্ভাবিত হয়েছে।
‌পাম অয়েল নিষ্কাশনঅয়েল পাম ফল থেকে পাম অয়েল নিষ্কাশন একটি জটিল প্রক্রিয়া। গ্রাম্য এলাকার ছোট মিলে দিনে ১টন তেলে উৎপন্ন হয় আবার বড় মিলে ঘন্টায় ৬০ মন ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ করা যায়।

 

উপকারিতাঃ

১। পাম তেল রক্তের জমাট বাঁধার প্রবণতা হ্রাস করে।

২। পাম তেল খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

৩। পাম তেল ধমনীতে প্লাক গঠনে সহায়তা করে না।

৪। পাম তেল ক্যান্সার রোধে সহায়তা করে।

৫। পাম তেলের জারণরোধী ভূমিকার কারণে পাম তেল দেহের কোষগুলোর বয়ো-বৃদ্ধি প্রক্রিয়া প্রতিহত করে।

 

 

 

অনলাইনে গাছপালা কোথায় পাওয়া যায়ঃ

 

নার্সারির পাসাপাসি গাছপালা কিনতে পারবেন এখন অনলাইনে ।গাছপালা কিনতে ভিজিট করুন নিচে দেয়া নার্সারী লেখার উপর এবং অর্ডার করতে পারেন দেশের যেকোন প্রান্ত থেকেঃ

গাছ

 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.