পরিকল্পনা ছাড়া খামার লোকসান হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারন গুলো

30th October 2019 0 Comments

খামার বলতে এমন একটি স্থাপনাকে বুঝানো হয় যেখানে কৃত্রিম ভাবে যেকোন উদ্ভিদ বা প্রাণীর প্রতিপালন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য সাধন করা হয়। সাধারণত: গবাদী পশু এবং কিছু বাণিজ্যিক উদ্ভিদ ও প্রাণী এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদন ও বিপনন করা হয়। বিশ্ব ব্যাপীই খামার প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন ও বিপণন কার্য সম্পাদিত হয়। বিভিন্ন অঞ্চল ভিত্তিক এই প্রক্রিয়াটি ভিন্ন ভিন্ন হয়। কৃষিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা বলে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের খামার গড়ে উঠেছে; যেমন: ডেইরি খামার রয়েছে ৪৭,৭১০টি,পোলট্রি খামার, হাঁসের খামার, ঘুঘুর খামার, কুমিরের খামার, মৌমাছির খামার, মৎস্য খামার, কাঁকড়ার খামার, ঝিনুকের খামার, হরিণের খামার, প্রভৃতি রয়েছে।অনেকেই খামার করে সফল হয়েছেন আবার অনেকেই লোকসানের মুখে  পরেছেন।

আজকের লেখায় মুলত আপনাদের জানানো হবে পরিকল্পনা ছাড়া খামার লোকসান হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারন গুলোঃ

১- খামারের পরিকল্পিত প্ল্যান না থাকা।
২- প্রথম ৬ মাসের খরচের জন্য একটা ফান্ড না রাখা।
৩- সঠিক স্হান নির্বাচন না করা।
৪- বর্ষা মৌসুমের জন্য পূর্বে খাবারের মজুদ না রাখা।
৫- চিকিৎসা নিশ্চিত না করা।
৬- খামারে আসা যাওয়া, পন্য বেচাকেনার যোগাযোগ ব্যবস্হা ভালো না থাকা।
৭- গরু / ছাগল খামারের বাহিরে যেতে না পারে সেটা নিশ্চিত করা।
৮- উন্নত জাতের সুস্থ পশু সংগ্রহ না করা।
৯ – পার্টনারদের সততার অভাব।

১। কৃষি কর্মকর্তা বা অভিজ্ঞ লোকের সহায়তা নিয়ে প্রথমে আপনার খামারের জন্য পরিকল্পিত প্ল্যান তৈরি করুন, এমন জায়গা নির্বাচন করুন যেখানে বর্ষা মৌসুমে পানি উঠবেনা। গরু/ছাগলের ঘর কোথায় করবেন, ঘর টা পূর্ব, পশ্চিম বা কোন মূখী হবে তা নির্বাচন করুন। শুকনো খাবার ও মালামাল রাখার ঘর কোথায় করবেন তা ভাবুন। দিনের বেলা ঘরের বাইরে বের করলে সেই স্থান কোথায় হবে তা ভাবুন। এদের মল,মুত্র কোথায় রাখা হবে ইত্যাদি সহ সার্বিক বিষয় ভাবতে হবে।

২। প্রথম ছয় মাস আয়ের তেমন সুযোগ থাকেনা তাই মাথায় রাখতে হবে, এই সময় টা কিভাবে যাবতীয় সকল খরচ চালাবেন তার জন্য আগে থেকে বাজেট রাখা।

৩। এমন স্থান নির্বাচন করতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো বাতাস ও রোদ পড়ে, বর্ষা মৌসুমে পানি জমবেনা বা উঠবেনা।

৪। বর্ষা মৌসুমে সব জায়গায় পানি উঠে তাই কাচা ঘাসের সংকট থাকে। সেই কথা মাথায় রেখে শুকনো দানাদার খাবার ও খড় মজুদের ব্যবস্হা রাখা। নাহলে খাদ্য সংকট দেখা দিবে।

৫।  চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য আগে থেকে যুব উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে রাখা সবচেয়ে ভালো। কারণ প্রাথমিক চিকিৎসা নিজে দেয়া যায়, বড় কোন সমস্যা হবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তরের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা নিজেই করতে পারবেন। নিজের অভিজ্ঞতা না থাকলে ডাক্তরের খরচ অনেক বেশি হবে।

৬। এমন জায়গা নির্বচন করতে হবে যেখানে যাতায়াত ব্যাবস্হা ভালো। শুকনা খাবার,খড় ও মালামাল আনা নেয়া দুধ বিক্রি করা বা গরু/ছাগল আনা নেয়ার সুব্যাবস্হা নিশ্চিত করা। না থাকলে বিক্রি করতে ও মালামাল আনা নেয় করতে অতিরিক্ত খরচ ও লসের সম্ভাবনা থাকে।

৭। গরু / ছাগল খামারের বাহিরে আসা যাওয়া করতে দেয়া যাবেনা কারন বাইরে থেকে আসা প্রানীর মাধ্যমে রোগজীবাণু ছড়ানোর সুযোগ থাকে। অনেক সময় মহামারী লেগে আক্রান্ত সকল গরু/ছাগল মারা যেতে পারে।

৮। উন্নত জাতের পশু সংগ্রহ করলে দুধ বেশি পাওয়া যাবে।
ভালো জাতের বাচ্চা ও মাংস উৎপাদন হবে। বিক্রি করতে সহজ হবে এবং আয়ের সুযোগ বেশি থেকে। অনুন্নত জাত থেকে ভালো ফসল আসা করা যায় না

৯। পার্টনারদের মধ্যে সততার অভাব থাকলে কখনো কোন প্রতিষ্ঠন অগ্রসর হতে পারেনা। তাই একা ছোট আকারে করাই সবচেয়ে ভালো । একা করা সম্ভব না হলে সৎ ভালো পরিশ্রমি লোক নিয়ে খামার করা উচিৎ। পরিশ্রম করার মানসিকতার না থাকলে বা নিজের কাজ নিজে করার মানসিকতার বিকল্প নেই।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.