নীলবনলতা

4th December 2019 0 Comments

নীলবনলতা (বৈজ্ঞানিক নাম:Thunbergia grandiflora) হচ্ছে Acanthaceae পরিবারের একটি লতা। অন্যান্য আরো নাম-Bengal Clock Vine, Blue Trumpet Vine, Skay Flower.  এটি মূলত নেপাল, চীন, ইন্দোচীন, মায়ানমার ও অসমের স্থানীয় প্রজাতি। এটি অন্যত্রও প্রাকৃতিক হয়েছে।নীলবনলতা শক্ত লতার গাছ। সাধারণত ৮-১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পাতারা প্রতিমুখ এবং সবৃন্তক। পত্রবৃন্ত ২.৫-৪ সেমি লম্বা ও কর্কশ হয়, পাতার গোড়া তাম্বুলাকার, পাতার উভয়দিক অমসৃণ, করতলাকারে ৫-৭টি শিরাযুক্ত, পাতার বোঁটা মোড়ানো ধরনের, আগা চোখা, পাতারা ১০ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হয়ে থাকে। পাতার কিনারে লতি হয়।ফুল লম্বা ঝুলন্ত ডাঁটায় এক বা একাধিক। ফুল দেখতে ঘণ্টার গড়ন, দলনল সামান্য বাঁকা। পাপড়ি পাঁচটি। পাপড়ির রঙ হালকা নীল। পাপড়ি ৬ সেমি লম্বা। পুংকেশর ৪টি, অর্ধসমান, গলদেশের অভ্যন্তরের দিক বাঁকানো, পরাগধানী ৫-৯ মিলিমিটার লম্বা ও দীর্ঘায়িত। মার্চ হতে ডিসেম্বর মাস ফুল ফোঁটার সময়। ফল শক্ত ধরনের, ফল ৩-৫ সেমি দীর্ঘ হয়ে থাকে। মালয়েশিয়ায় এ গাছের পাতার ক্বাথ পেটের পীড়ায় কাজে লাগে। বংশবিস্তার বীজ ও কলমে। বাগানের চারদিকে আলংকারিক বেড়া হিসেবে দৃষ্টিনন্দন। এই গাছের লতা,মূল,শিকড় সবই ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

 

উপকারিতা:

 

১। নীলবনলতার শিকড়ের রস খেলে সর্পদংশনের বিষ কেটে যায়।

২। নীলবনলতার পাতার রস নিয়মিত খেলে পাকস্থলীর জটিল রোগের উপকার পাওয়া যায়।

৩। গোদ রোগ হলে এই গাছের মূল বেটে মাস কালা ই ডালের সাথে বেটে বড়া বানিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৪। যদি কোন জায়গা কেটে রক্ত পড়তে থাকে তাহলে নীলবনলতার পাতা থেঁতো করে লাগিয়ে দিলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।

৫। অতিরিক্ত রক্তস্রাব হলে এই গাছের পাতার ক্বাথ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৬। নীলবনলতার পাতার রস নিয়মিত সেবন করলে অতিসারে উপকার পাওয়া যায়।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.