ধান চাষের উন্নত পদ্ধতিবীজ বাছাই নিয়ে কিছু প্রশ্নোত্তর

4th February 2020 0 Comments

 

বীজ বাছাইয়ের জন্য কি কি করনীয়?

উঃ দশ লিটার পরিষ্কার পানিতে ৩৭৫ গ্রাম ইউরিয়া সার মেশাতে হবে। এবার ১০ কেজি বীজ ঐ পানিতে দিয়ে নাড়তে হবে। পুষ্ট বীজ ডুবে নিচে জমা হবে এবং অপুষ্ট ও হালকা বীজ পানির উপরে ভেসে উঠবে। হাত অথবা চালনি দিয়ে ভাসমান বীজগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। ভারী বীজ নিচ থেকে তুলে নিয়ে পরিষ্কার পানিতে ৩-৪ বার ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। ইউরিয়া মিশানো পানি সার হিসাবে বীজতলায় ব্যবহার করা যেতে পারে।


বীজ শোধন ও জাগ দেয়ার পদ্ধতি কি?

উঃ বাছাইকৃত বীজ দাগমুক্ত ও পরিপুষ্ট হলে সাধারনভাবে শোধন না করলেও চলে। তবে শোধনের জন্য ৫২-৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরম পানিতে ১৫ মিনিট বীজ ডুবিয়ে রাখলে জীবাণুমুক্ত হয়। বীজ যদি দাগমুক্ত হয় এবং বাকানি আক্রমণের আশঙ্কা থাকে তাহলে কারবেনডাজিম-জাতীয় ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করা যায়। ক্ষেতে ২-৩ গ্রাম ছত্রাকনাশক ১ লিটার পানিতে ভালভাবে মিশিয়ে ১ কেজি পরিমান বীজ পানিতে ডুবিয়ে নাড়াচাড়া করে ১২ ঘন্টা রেখে দিতে হবে। এরপর বীজ পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এভাবে শোধনকৃত বীজ বাঁশের টুকরি বা ড্রামে ২/৩ পরত শুকনো খর বিছিয়ে তার উপর বীজের ব্যাগ রাখুন এবং আরও ২/৩ পরত শুকনো খর দিয়ে ভালভাবে চেপে তার উপর ইট বা কোন ভারী জিনিস দিয়ে চাপ দিয়ে রাখুন। এভাবে জাগ দিলে আউশ ও আমন মৌসুমের জন্য ৪৮ ঘন্টা, বোরো মৌসুমে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ভাল বীজের অঙ্কুর বের হবে এবং বীজতলায় বপনের উপযুক্ত হবে।


আদর্শ বীজতলা তৈরীর নিয়ম কি?

উঃ দো-আশ ও এটেল মাটি বীজতলার জন্য ভাল। জমি অনুর্বর হলে প্রতি বর্গমিটারে ২ কেজি হারে জৈব সার মেশানো যেতে পারে। এরপর জমিতে ৫-৬ সেঃমিঃ পানি দিয়ে ২/৩টি চাষ ও মই দিয়ে ৭-১০ দিন রেখে দিতে হবে। আগাছা ও খড় ইত্যাদি পচে গেলে আবার চাষ ও মই দিয়ে কাদা করে জমি তৈরী করতে হবে। এবার জমির দৈর্ঘ বরাবর ১মিঃ চওড়া বেড তৈরী করতে হবে। দু’বেডের মাঝে ২৫-৩০ সেঃমিঃ জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। নির্ধারিত জমির দু’পাশের মাটি দিয়ে বেড তৈরী করতে হবে। এরপর উপরের মাটি ভালভাবে সমান করে ৩/৪ ঘন্টা পর বীজ বোনা উচিত।


বীজতলায় বীজ বপনের আদর্শ পদ্বতি কি?

উঃ প্রতি বর্গমিটার বেডে ৮০-১০০ গ্রাম বীজ বোনা দরকার। বপনের সময় থেকে ৪/৫ দিন পাহাড়া দিয়ে পাখি তাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং নালা ভর্তি পানি রাখতে হবে।


অতিরিক্ত ঠান্ডায় বীজতলায় কি যত্ন নিতে হবে?

উঃ শৈত্য প্রবাহের সময় বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে দিলে, বীজতলার পানি সকালে বের করে দিয়ে আবার নতুন পানি দিলে, প্রতিদিন সকালে চারার উপর জমাকৃত শিশির ঝরিয়ে দিলে ধানের চারা ঠান্ডার প্রকোপ থেকে রক্ষা পায়।


বীজতলায় কি ধরনের সাধারণ পরিচর্যা প্রয়োজন ?

উঃ বীজতলায় সব সময় নালা ভর্তি পানি রাখা উচিত। বীজ গজানোর ৪-৫ দিন পর বেডের উপর ২-৩ সেঃমিঃ পানি রাখলে আগাছা ও পাখির আক্রমন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

চারা উঠানোর সময় বা বহন করার সময় কি সতর্কতা মানতে হবে ?

উঃ বীজতলায় বেশি করে পানি দিয়ে বেডের মাটি নরম করে নিতে হবে যাতে চারা উঠানোর সময় শিকড় বা কান্ড মুচড়ে বা ভেঙে না যায়। বস্তাবন্দী করে ধানের চারা কোনক্রমেই বহন করা উচিত নয়।

জমি তৈরীর উত্তম পদ্বতি কি?

উঃ মাটির প্রকারভেদে ৩-৫ বার চাষ ও মই দিলেই জমি তৈরী হয়ে মাটি থকথকে কাদাময় হয়। জমি উঁচুঁনিচু থাকলে মই ও কোদাল দিয়ে সমান করে নিতে হবে।


ধানের চারা রোপনের উত্তম পদ্বতি কি ও চারার বয়স কত হলে ভাল হয়?

উঃ আউশে ২০-২৫ দিনের, রোপা আমনে ২৫-৩০ দিনের এবং বোরোতে ৩৫-৪৫ দিনের চারা রোপন করা উচিত। এক হেক্টর জমিতে ৮-১০ কেজি বীজের চারা লাগে। প্রতি গুছিতে ১টি সতেজ চারা রোপন করাই যথেষ্ট। তবে চারার বয়স একটু বেশি হলে প্রতি গুছিতে ২-৩টি চারা রোপন করা যেতে পারে। সারিতে চারা রোপন করার সময় সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ২০-২৫ সেঃমিঃ এবং প্রতি গুছির দূরত্ব ১৫-২০ সেঃমিঃ হওয়াই উত্তম।


ধান চাষে দ্বি-রোপন পদ্বতি কি?

উঃ জলাবদ্ধতা পূর্ববর্তী ফসলের কর্তণ বিলম্বিত হলে বা অন্য কোন কারণে যদি রোপনের জন্য নির্ধারিত জমিতে রোপন বিলম্বিত হয় তবে বেশি বয়সের চারা ব্যবহারের পরিবর্তে দ্বি-রোপন পদ্বতিতে ধান রোপন একটি ভাল প্রযুক্তি। এ পদ্বতিতে ধানের চারা বীজতলা হতে উত্তোলন করে অন্য জমিতে ঘন করে ১০-১০ সেঃমিঃ দূরত্বে সাময়িকভাবে রোপন করা হয়, আমন মৌসুমে ২৫-৩০ দিন পর এবং বোরো মৌসুমে ৩০-৪০ দিন পর আবার উত্তোলন করে মূল জমিতে ২০-২০ সেঃমিঃ দূরত্বে দ্বি-রোপন করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.