থাই পেয়ারা চাষ পদ্ধতি

3rd November 2019 0 Comments

পেয়ারাকে পছন্দ করে না এমন কাওকে খুঁজে বের করা যাবে না। এর সুন্দর রঙ, সুমিষ্ট গন্ধ, কচকচে স্বাদ ও মিষ্টির কারণে ছোট থেকে বড় সবারই ভীষণ পছন্দের ফল। শুধুমাত্র স্বাদেই অতুলনীয় তা কিন্তু নয় এর অনেক গুণও রয়েছে। পেয়ারাতে ভিটামিন সি এর পরিমাণ এতই যে একে ভিটামিন সি এর ব্যাংক বলা হয়। আমাদের দেশের ভীষণ জনপ্রিয় একটি ফল। বর্তমানে পেয়ারার অনেক জাত দেখা যাচ্ছে যার মধ্যে থাই পেয়ারা রয়েছে। থাই পেয়ারা-৫ ও থাই পেয়ারা-৭ এখন বাংলাদেশে চাষ হচ্ছে যা থাইল্যান্ড থেকে আগত। বেশি ফলন ও বেশি দামের জন্য এ পেয়ারা এরই মধ্যে দেশের ফল চাষিদের মধ্যে বিপুল সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে।

থাই পেয়েরা-৭ এর আকার গোলাকার, রঙ হলদে সবুজ, প্রতিটি পেয়ারার ওজন গড়ে ৪০০ থেকে ৭০০ গ্রাম। গাছের উচ্চতা ২.৫ থেকে ১০ মিটার। ফুল ফোটা থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত ৯০ দিন সময় লাগে। এ জাতের বড় বৈশিষ্ট্য হলো- বারো মাসই এ পেয়ার পাওয়া যায়। বীজ কম ও নরম। এ জাতের পেয়ারা বর্তমানে রাজধানী ঢাকা শহরে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

থাই পেয়ারা চাষ পদ্ধতিঃ 

অন্যান্য জাতের পেয়ারার মতোই মধ্য জ্যৈষ্ঠ থেকে মধ্য আশ্বিন মাসে থাই পেয়ারা-৭ এর চারা রোপণ করতে হয়। এ পেয়ারা চাষের জন্য নিকাশযুক্ত বেলে দোআঁশ মাটিই উত্তম। এ পেয়ারার বংশবৃদ্ধির জন্য বীজ থেকে চারা বা গুটি কলম ব্যবহার করা উচিত। চার বাই চার বা তিন বাই তিন মিটার দূরত্বে এ জাতের পেয়ারার চারা রোপণ করা যায়। রোপণের কয়েক সপ্তাহ আগে ৫০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য, ৫০ সেন্টিমিটার প্রস্থ ও ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া গর্ত খনন করতে হবে। প্রতিটি গর্তে মাটির সঙ্গে চারা রোপণের ২০ থেকে ৩০ দিন আগে ৪০ থেকে ৫০ কেজি পচা গোবর সার, ১৫০ গ্রাম টিএসপি ও ১৫০ গ্রাম এমওপি সার মিশিয়ে দিতে হবে। তারপর সার মিশ্রিত মাটি দ্বারা গর্ত ভরাট করে গর্তের মাঝখানে চারাটি রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের পর গর্তের চারদিকে মাটি দ্বারা উঁচু করে বেঁধে দিতে হবে, যাতে বাইরের পানি এসে গাছের গোড়ায় না জমে। গাছটি যাতে বাতাসে হেলে না পড়ে সেজন্য বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হালকাভাবে বেঁধে দিতে হবে। রসের অভাব হলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। পেয়ারা গাছ থেকে অধিক ফলন পেতে পাঁচ বছরের নিচের একটি গাছে বছরে পচা গোবর ২০ থেকে ২৫ কেজি, ইউরিয়া ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম, টিএসটি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ও এমওপি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম এবং পাঁচ বছরের ওপর একটি গাছে প্রতি বছর পচা গোবর ২৫ থেকে ৩০ কেজি, ইউরিয়া ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম, টিএসপি ৪৫০ থেকে ৫৫০ গ্রাম, এমওপি ৪৫০ থেকে ৫৫০ গ্রাম সার ব্যবহার করতে হবে। উল্লিখিত পরিমাণ সার সমান দুইভাগে ভাগ করে বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে দুই কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের পর প্রয়োজনে সেচ দিতে হবে। অনেক সময় জিঙ্কের অভাবে পাতার শিরায় ক্লোরোসিস দেখা যায়। সেক্ষেত্রে ৮০ লিটার পানিতে ৪০০ গ্রাম জিঙ্ক ও ৪০০ গ্রাম চুন মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে। পেয়ারা সংগ্রহের পর ভাঙা, রোগাক্রান্ত ও মরা শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করে ফেলতে হবে। পেয়ারা গাছ প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক ফল দিয়ে থাকে। গাছের পক্ষে সব ফল ধারণ সম্ভব হয় না। তাই মার্বেল আকৃতির হলেই ঘন সন্নিবিষ্ট ফল ছাঁটাই করতে হবে। ভালোভাবে যত্ন নিলে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছে গ্রীষ্মকালে ৬০ থেকে ৭০ কেজি এবং হেমন্তকালে ৫০ থেকে ৬০ কেজি ফলন পাওয়া যায়।

 

দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরকারি হার্টিকালচার সেন্টার, ব্র্যাক নার্সারি এবং বিভিন্ন বেসরকারি নার্সারি যেমন বগুড়ার সবুজ নার্সারি ও নাটোরের তেকুপির কৃষিবিদ নার্সারিতে থাই পেয়ারার চারা পাওয়া যায়।

 

 

অনলাইনে গাছপালা কোথায় পাওয়া যায়ঃ

 

নার্সারির পাসাপাসি গাছপালা কিনতে পারবেন এখন অনলাইনে ।গাছপালা কিনতে ভিজিট করুন নিচে দেয়া নার্সারী লেখার উপর এবং অর্ডার করতে পারেন দেশের যেকোন প্রান্ত থেকেঃ

গাছ

Leave a Comment

Your email address will not be published.