তালমিছরি এর উপকারিতাগুলো

তালমিছরি
23rd April 2020 0 Comments
মিছরি এক প্রকারের চিনি থেকে তৈরি খাদ্যদ্রব্য। প্রকৃতপক্ষে মিছরি হলো স্ফটিকের মতো দানাবাঁধা চিনি।প্রধানত চিনির তৈরী বলে মিছরি সাধারণত লালাভ সাদা রঙয়ের হয়ে থাকে। হাইড্রোজ নামক রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে মিছরিকে ফকফকা সাদা করা হয়। তবে নানা প্রকার রঙ মিশিয়ে এটা রঙিনও পাওয়া যায়। বিভিন্ন ছাঁচে ঢালাই করে একে নানারকমের আকার দেওয়া হয় । তাল মিছরি গলার কাশিতে উপকারী।তাল মিসরি অনেক মজা


এবার চলুন জেনে নেয়া যাক এর উপকারিতাগুলো সম্পর্কে-

> গুড় কিংবা চিনিতে কৃমির প্রকোপ বাড়ে। তাই তালমিছরিই ভরসা। বড় ছোট সবাই তালমিছরি নির্ভয়ে খেতে পারেন।

> তালমিছরিতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন থাকায় এটা আনিমিয়াতে ভীষণ ভাবে কাজে দেয়। বিশেষত মেয়েদের জন্য তালমিছরি খুব উপকারী। আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

> প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম আর পটাসিয়াম থাকার কারণে তালমিছরি হাড় ও দাঁত শক্ত করে। তাছাড়া হাড়ের সব সমস্যা দূর করে। নারীদের মেনোপজের পরে হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে। আর হাড় ভাঙ্গার সমস্যা একটি দৈনন্দিন সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই ক্ষয় রোধ করতে নিয়মিত তালমিছরি সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়। এই দুটি কারণের জন্য বাচ্চাদের জন্যও তালমিছরি খুব উপকারী।

> তালমিছরির রস কাশি উপশম করতে সাহায্য করে এবং গলায় শ্লেষ্মা নরম করে দেয়, ফলে গলায় খুসখুসানি কমে যায়।এক টুকরো তালমিছরি মুখে নিয়ে চুষলে সর্দিতে এবং কাশিতে আরাম পাওয়া যায়।

> খুব ছোট বাচ্চাদের জন্য ওষুধ না ব্যবহার করে তালমিছরির প্রয়োগ করুন। এটি ঠাণ্ডা লাগাও প্রতিরোধ করে।

> কাশতে কাশতে গলায় ব্যথা হলে এক টুকরো তালমিছরি গোলমরিচ আর ঘি দিয়ে পেস্ট বানিয়ে এক চামচ খেলে গলা ব্যাথায় উপকার মেলে। এক চামচ তালমিছরি, গোলমরিচ এবং আমন্ড-এর পেস্ট রোজ রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেলে নাকের শ্লেষ্মা বের করে দেয় এবং ঠাণ্ডা লাগা প্রতিহত করে।

> তালমিছরি চোখের দৃষ্টি বাড়ায়। বাদাম, মৌরী, তালমিছরি এবং গোলমরিচ একসঙ্গে গুঁড়া করে নিন। রোজ রাতে ১ চামচ করে এই মিশ্রণ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খান। এটি চোখের দৃষ্টি বাড়াতে সাহায্য করে।

> কিডনি স্টোন এর জন্য এটি বেশ উপকারী। পেঁয়াজের রসের সঙ্গে তালমিছরি মিশিয়ে খান। কিছুদিনের মধ্যেই প্রস্রাবের সঙ্গে কিডনি স্টোন বেরিয়ে আসবে। তাছাড়া তালমিছরি কিডনির জন্য উপকারী।
> তালমিছরিতে ডায়েটারি ফাইবারের প্রাচুর্যের জন্য এটি হজমে সাহায্য করে এবং কন্সটিপেশান সারিয়ে তোলে। এছাড়াও চিনি বা মধুর তুলনায় তালমিছরি আমাদের শরীরে অনেক কম পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট তৈরি করে। ফলে তালমিছরি সেবনে ক্লান্তি অনেক কম হয়, শরীরকে সতেজ রাখে।

> গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স তালমিছরিতে চিনি বা মধুর তুলনায় অনেক কম থাকায় তালমিছরি ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ডায়েবিটিস প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

> বার বার পাতলা পায়খানা বা বমি হলে আমাদের শরীর থেকে ইলেক্ট্রোলের মাত্রা কমে যায়। ও আর এস এর পরিবর্তে তালমিছরি জলের সঙ্গে মিশিয়ে বার বার খাওয়ালে এই ঘাটতি পূরণ হয় এবং শরীরে এনার্জি ফেরত আসে।

> নানা ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান এবং ভিটামিন মিনারেল এবং আমাইনো এসিড যুক্ত তালমিছরি বাচ্চাদের নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ঠাণ্ডা জনিত বা পেটের রোগ প্রতিহত করতে তালমিছরির জুড়ি নেই। ব্রেন ডেভেলপমেন্ট এর জন্যও তালমিছরি খুব উপকারী।

Leave a Comment

Your email address will not be published.