টার্কি

টার্কি
3rd October 2019 0 Comments

টার্কি (Turkey) মেলিয়াগ্রিডিডিই পরিবারের এক ধরনের বড় আকৃতির পাখি বিশেষ। এগুলো দেখতে মুরগির বাচ্চার মতো হলেও তুলনামূলকভাবে অনেক বড়। বিশ্বের সর্বত্র টার্কি গৃহপালিত পাখিরূপে লালন-পালন করা হয়। এরা পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। পালনের জন্য উন্নত অবকাঠামো দরকার হয় না । এরা প্রতিদিন মোট খাদ্যের ৫০-৬০ ভাগ নরম ঘাস খায়। তাই খাবার খরচ কম।

টার্কির জাত সমূহঃ 

বিশ্বে অনেক প্রজাতির টার্কি রয়েছে । এদের জাত যেমন ভিন্ন তেমনি নামও ভিন্ন ভিন্ন । তবে তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল :

. ব্রড ব্রেস্টেড ব্রোঞ্জ – পালকের মূল রং কালো,তামাটে নয় । মাদী পাখির বুকের পালকের রং কালো ও ডগাগুলি সাদা হয় । যার দরুন মাত্র ১২ সপ্তাহ বয়সেই লিঙ্গ নির্ধারণ করা হয় ।

.ব্রড ব্রেস্টেড হোয়াইট – এটি ব্রড ব্রেস্টেড ব্রোঞ্জ ও হোয়াইট হল্যান্ডের সংকর যার পালকগুলি সাদা হয় । সাদা পালকের টার্কির গরম সহ্য করার ক্ষমতা বেশী ও সেই সঙ্গে পালক ছাড়ানোর পরে এদের পরিষ্কার ও ভালো দেখায় ।

.বেল্টসভিল স্মল হোয়াইট – এটি রং ও আকারে ব্রড ব্রেস্টেড হোয়াইট প্রজাতির খুবই কাছাকাছি তবে আয়তনে ছোট । ভারী প্রজাতির তুলনায় এদের ডিম দেওয়া ,উর্বরতা ও ডিম ফোটার পরিমাণ বেশী হয় এবং ডিমে তা দেওয়ার ঝোঁক কম হয় ।

. নন্দনম টার্কি – প্রতিটি কালো দেশী প্রজাতি ও বিদেশী বেল্টসভিল স্মল হোয়াইট প্রজাতির শংকর ।

 

টার্কি পালনের সুবিধা

টার্কি পালনের সুবিধা সমুহ —

১। মাংস উদপাদন ক্ষমতা ব্যাপক ।

২। এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায় ।

৩। টার্কি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে।

৪। টার্কি পালনে তুলনা মূলক খরচ অনেক কম, কারন এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ঘাস,লতা পাতা খেতেও পছন্দ করে।

৫। টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির সোভা বর্ধন করে।

৬। টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশী, চর্বিকম ।তাই গরু কিংবা খাসীর মাংসের বিকল্প হতে পারে।

৭। টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ও ফসফরাস থাকে। এ উপাদান গুলো মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায়।

৮। টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ওট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস খেলেশরীরেরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৯। টার্কির মাংসে ভিটামিন ই অধিকপরিমাণে থাকে।

১০। একটি আদর্শ টার্কি খামার করতে খুব বেশী পুঁজির প্রয়োজন হয়না।

১১। অন্যান্য পাখীর তুলনায় এর রোগ বালাই কম এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এই খামারে ঝুঁকি অনেক কম ।

১২। যেহেতু ৭৫% পর্যন্ত ঘাস দেয়া যায়, তাই খবারে খরচ কম।

১৩। বাজার চাহিদা প্রচুর।

১৪। উচ্চ মুল্য থাকায় খরচের তুলনায় আয় অনেক বেশী।

রোগবালাই

টার্কি পাখির তেমন বড় কোনো রোগবালাই নেই। চিকেন পক্সের টিকা নিয়মিত দিলে এ রোগ এড়ানো সম্ভব। অতি বৃষ্টি বা বেশি শীতের সময় মাঝে মাঝে ঠা-াজনিত রোগ দেখা যায়, রেনামাইসিন জাতীয় ওষুধ দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে নিয়োমিত টিকা দিলে এসব রোগ থেকে সহজেই টার্কিকে রক্ষা করা যায়।

টিকাপ্রদান সূচি:

 এক দিন বয়স- এনডি-বি১ স্ট্রেইন # ৪র্থ ও ৫ম সপ্তাহ- ফাউল পক্স # ৬ষ্ঠ সপ্তাহ – এনডি-(আর২বি); ৮-১০ সপ্তাহ – কলেরা ভ্যাকসিন।

বৈশিষ্ট্যাবলী

মেলিয়াগ্রিডিডেই পরিবারের একটি গণ হচ্ছে মেলিয়াগ্রিস। এ গণটি আবার দু’টি ধারায় বিভাজিত হয়েছে।

বন্য টার্কি (মেলিয়াগ্রিস গ্যালোপাভো)

চক্ষু আকৃতির চিহ্নবিশিষ্ট টার্কি (মেলিয়াগ্রিস ওসেলাটা)

পুরুষ টার্কি, স্ত্রী টার্কির তুলনায় অধিকতর বড় এবং অনেক বেশি আকর্ষণীয় রঙের হয়ে থাকে। বাস্টার্ড (অস্ট্রেলিয়ান টার্কি); মেগাপোড (ব্রাশ টার্কি); স্ন্যাকবার্ড (ওয়াটার টার্কি) জাতীয় সমজাতীয় পাখি হলেও টার্কিজাতীয় পাখি নয়।

গৃহপালিত টার্কি

পূর্ণাঙ্গ পুরুষজাতীয় টার্কির মাথা ন্যাড়া থাকে। সাধারণতঃ এর মাথা উজ্জ্বল লাল রঙের হয়। কখনো কখনো সাদা কিংবা উজ্জ্বল নীলাভ রঙেরও হয়ে থাকে। পুরুষজাতীয় টার্কি গবলার বা টম নামেও পরিচিত। এগুলো গড়ে লম্বায় ১৩০ সে.মি. বা ৫০ ইঞ্চি হয়। গড়পড়তা ওজন ১০ কেজি বা ২২ পাউন্ড হতে পারে। কিন্তু স্ত্রীজাতীয় টার্কি সাধারণতঃ পুরুষের তুলনায় ওজনে অর্ধেক হয়। প্রতিটি স্ত্রীজাতীয় টার্কি ৮ থেকে ১৫টি ছোট ছোট দাগের বাদামী বর্ণাকৃতির ডিম পাড়ে। ২৮ দিন অন্তর ডিম ফুটে বাচ্চা টার্কি জন্মায়।

বন্য টার্কি

সাধারণত বনভূমিতে পানির কাছাকাছি এলাকায় থাকতেই পছন্দ করে বেশী। ফসলের বীজ, পোকামাকড় এবং মাঝেমাঝে ব্যাঙ কিংবা টিকটিকি খেয়ে জীবনধারণ করেন। আত্মরক্ষার্থে দ্রুত দৌড়ে গা ঢাকা দেয়। কিন্তু এটি কেবলমাত্র স্বল্প দূরত্বে উড়তে পারে। তখন এটি প্রায় ০.৪ কিলোমিটার বা ০.২৫ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে।

পালন পদ্ধতি:

দুইভাবে টার্কি পালন করা যায়- ০১. মুক্ত চারণ পালন পদ্ধতি ও ০২. নিবিড় পালন পদ্ধতি।

মুক্ত চারণ পালন পদ্ধতি

মুক্ত চারণ পদ্ধতিতে এক একর ঘেরা জমিতে ২০০-২৫০টি পূর্ণ বয়স্ক টার্কি পালন করা যায়। রাতে পাখিপ্রতি ৩-৪ বর্গফুট হারে জায়গা লাগে। চরে খাওয়ার সময় তাদের শিকারি জীবজন্তুর হাত থেকে বাঁচাতে হবে। ছায়া ও শীতল পরিবেশ জোগানর জন্য খামারে গাছ রোপণ করতে হবে। চারণভূমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করতে হবে এতে পরজীবীর সংক্রমণ কম হয়। সুবিধা : খাবারের খরচ ৫০ শতাংশ কম হয়; স্বল্প বিনিয়োগ : খরচের তুলনায় লাভের হার বেশি।

মুক্ত চারণ ব্যবস্থায় খাবার :

 

টার্কি খুব ভালোভাবে আবর্জনা খুঁটে খায় বলে এরা কেঁচো, ছোট পোকামাকড়, শামুক, রান্নাঘরের বর্জ্য ও উঁইপোকা খেতে পারে, যাতে প্রচুর প্রোটিন আছে ও যা খাবারের খরচকে ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়।

নিবিড় পালন পদ্ধতি:

 বাসস্থান টার্কিদের রোদ, বৃষ্টি, হাওয়া, শিকারি জীবজন্তু থেকে বাঁচায় ও আরাম জোগায়। অপেক্ষাকৃত গরম অঞ্চলগুলোতে খামার করলে ঘরগুলো লম্বালম্বি পূর্ব থেকে পশ্চিমে রাখতে হবে। খোলা ঘরের প্রস্থ ৯ মিটারের বেশি হওয়া চলবে না। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত ঘরের উচ্চতা ২.৬ থেকে ৩.৩ মিটারের মধ্যে থাকতে হবে। বৃষ্টির ছাঁট আটকাতে ঘরের চালা এক মিটার বাড়িয়ে রাখতে হবে। ঘরের মেঝে সস্তা, টেকসই, নিরাপদ ও আর্দ্রতারোধক বস্তু যেমন কংক্রিটের হওয়া বাঞ্ছনীয়। কম বয়সি এবং প্রাপ্ত বয়স্ক পাখির ঘরের মধ্যে অন্তত ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং পাশাপাশি দুটি ঘরের মধ্যে অন্তত ২০ মিটার দূরত্ব থাকতে হবে। ডিপ লিটার পদ্ধতিতে টার্কি পালনের সাধারণ পরিচালনা ব্যবস্থা মুরগি পালনেরই মতো, তবে বড় আকারের পাখিটির জন্য যথাযথ বসবাস, ওয়াটারার ও ফিডারের জায়গার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

সুবিধা : উন্নত উৎপাদন দক্ষতা; উন্নততর পরিচালন ও ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ।

নিবিড় পালন ব্যবস্থায় খাদ্য:

নিবিড় পালন ব্যবস্থায় টার্কি মুরগিকে ম্যাশ ও পেলেট (ট্যাবলেট) দুইভাবেই খাবার দিতে হবে। মুরগির তুলনায় টার্কির শক্তি, প্রোটিন ও খনিজের প্রয়োজন বেশি। সেজন্য টার্কির খাবারে এগুলোর আধিক্য থাকতে হবে। খাবার মাটিতে না দিয়ে ফিডারে দিতে হবে। যেহেতু পুরুষ ও মাদির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শক্তির (এনার্জি) পরিমাণ আলাদা, তাই ভালো ফল পাওয়ার জন্য তাদের পৃথকভাবে পালন করতে হবে। টার্কিদের সব সময় অবিরাম পরিষ্কার পানির প্রয়োজন। গ্রীষ্মকালে ওয়াটারারের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে এবং আপেক্ষতৃক ঠাণ্ডা সময়ে খাবার দিতে হবে। পায়ের দুর্বলতা এড়াতে দিনে ৩০-৪০ গ্রাম হারে ঝিনুকের খোসার গুঁড়া দিতে হবে এবং খাবারে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে তা আস্তে আস্তে করতে হবে।

অনলাইনে মুরগির কিনবেন কিভাবেঃ

 

ফার্মের পাশাপাশি এখন অনলাইনেও মুরগি অর্ডার করতে পারবেন। অর্ডার করতে নিচে দেয়া মুরগি লেখার উপর ক্লিক করুনঃ

মুরগি

Leave a Comment

Your email address will not be published.