টমেটোর হাইব্রিড বীজ উৎপাদন

টমেটোর হাইব্রিড বীজ
28th September 2019 0 Comments

টমেটো বীজ

বাংলাদেশে টমেটো শীতকালেই ভাল হয়। শীত মৌসুমে আগাম ও নাবী করেও চাষ করা যায়। তবে সমপ্রতি গ্রীষ্ম ও বর্ষকালেও টমেটো উৎপাদিত হচ্ছে।

 

টমেটোর হাইব্রিড বীজ উৎপাদন

টমেটো সবজিতে ফলন, পরিপক্বতার সময়, রঙ ও আকার, গাছের তেজ, প্রতিকূল পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে হেটেরোসিস বা বৈষম্য বেশ দেখা যায়। শুধু ফলনের বেলাতেই ৩০-৫০% হেটোরোসিসের ঘটনা ঘটে। এই বৈষম্য কমানোর জন্য টমেটোর হাইব্রিড বীজ উৎপাদন করা প্রয়োজন। এতে ফলন অনেক বাড়ে। বাণিজ্যিকভিত্তিতে টমেটোর হাইব্রিড বীজ উৎপাদনের জন্য স্ত্রী ফুল থেকে পরাগধানী বা পুংকেশর সরানো ও হাতে পরাগায়নের মাধ্যমে হাইব্রিড বীজ উৎপাদনকে এখনো সবচেয়ে উপযুক্ত, ব্যয়সাশ্রয়ী ও কার্যকর বলে মনে করা হয়। অধিকাংশ বীজ কোম্পানি এ পদ্ধতিতে টমেটোর হাইব্রিড বীজ উৎপাদন করে থাকে। দুই ধরনের টমেটো গাছ আছে। এক ধরনের টমেটো গাছ অবিরামভাবে লম্বা হতে থাকে। এসব গাছকে বলা হয় অবিরত গাছ বা ইনডিটারমিনেট টাইপ। আর এক ধরনের গাছ আছে যার বৃদ্ধি সীমিত, একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত গাছ লম্বা হয়। এসব গাছকে বলে সবিরত বা ডিটারমিনেট টাইপের গাছ। অবিরত গাছের ক্ষেত্রে হাইব্রিড বীজ উৎপাদন করতে হলে গাছের ডালপালা ছেঁটে একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় রাখতে হবে। এ ধরনের গাছের ক্ষেত্রে সাধারণত গাছে একটি বা দুটি ডাল রাখা হয়। সবিরত গাছের বেলায় রাখা হয় তিনটি ডাল। প্রতিটি ডালের প্রথম থেকে চতুর্থ থোকার ফুল পর্যন্ত সাধারণত হাইব্রিড বীজের ইমাসকুলেশন করার জন্য নির্বাচন করা হয়। এসব থোকার যেসব ফুল পরদিন ফুটবে সেসব ফুলের পুংকেশর বা পরাগধানী চিমটা দিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়। ইমাসকুলেশন করার সঠিক অবস্থা বুঝার জন্য কুঁড়িটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যেসব কুঁড়ির বৃতিগুলো পুরোপুরি খোলেনি, পুষ্পাক্ষ বরাবর প্রায় ৪৫ ডিগ্রি  কোণ করে অবস্থান করছে  সেগুলো নির্বাচন করতে হবে। এরূপ কুঁড়ির গোড়ায় ধরে একটি একটি করে সাবধানে পাঁপড়ি অক্ষত রেখে চিমটা দিয়ে ধীরে ধীরে খুলে ভেতর থেকে সবগুলো পরাগধানী সরিয়ে ফেলতে হবে। পরদিন এসব কুঁড়ির ফুল ফুটবে। তখন সেসব ফুলে কাক্সিক্ষত গাছ থেকে ভাইব্রেটর যন্ত্র দিয়ে সদ্য ফোটা ফুল থেকে পরিণত পরাগরেণু ঝাঁকিয়ে সংগ্রহ করতে হবে। পরাগধানী বিদারণের সময় ভাইব্রেটর দিয়ে রেণু সংগ্রহ করলে তার সজীবতা ও কার্যকারিতা থাকে সর্বোচ্ছ। ভাইব্রেটর দিয়ে পরাগরেণু সংগ্রহ করলে কেবল পরিণত পরাগরেণু ঝরে পড়ে। এরূপ পরাগরেণু কাঁচের নলে বা টেস্টটিউবে রাখা যায়। পাতলা প্লাস্টিকের খামে বা কাঁচের প্লেটেও রাখা যায়। এ পরাগরেণু স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে হাতের আঙুলে মাখিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে। ব্রাশ দিয়েও লাগানো যায়। অবশিষ্ট রেণু ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য রাখা যাবে না। এতে রেণুর সজীবতা নষ্ট হয় বা কমে যায়। তবে শূন্য ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে পরাগরেণু শুকিয়ে প্রায় ২ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। তাতে সজীবতা নষ্ট হয় না। পরাগায়ন ঘটনোর পর সেসব ফুলের বৃতির ওপর থেকে অর্ধেক অংশ কেটে ফেলা হয় যাতে সংকরায়িত ফুলকে অপরাগায়িত বা অসংকরায়িত ফুল থেকে আলাদাভাবে পরে চেনা যায়। সাধারণত ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় পরাগরেণুর সজীবতা ও কার্যকারিতা ভালো থাকে। তাই দিনের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে থাকলে সংকরায়ন করা উচিত। তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে পরাগরেণুর উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায় ও সংকরায়ন বিঘ্নিত হয়। 

 

 

অনলাইনে বীজ কোথায় পাওয়া যায়ঃ

দোকানের পাশাপাশি এখন অনলাইনে বীজ কিনতে পারবেন। কিনতে নিচে বীজ লেখা লিঙ্কের উপর ক্লিক করুনঃ

বীজ

Leave a Comment

Your email address will not be published.