টবে তরমুজ চাষ

18th February 2020 0 Comments

তরমুজ (ইংরেজি: Watermelon) (Citrullus lanatus (কার্ল পিটার থুনবার্গ) একটি গ্রীষ্মকালীন সুস্বাদু ফল। ঠান্ডা তরমুজ গ্রীষ্মকালে বেশ জনপ্রিয়। এতে প্রচুর পরিমাণ জল থাকে। এই ফলে ৬% চিনি এবং ৯২% জল এবং অনন্য উপাদান ২%।এটি ভিটামিন এ জাতীয় ফল।তরমুজে খুব সামান্য ক্যালরি আছে। তাই তরমুজ খেলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। তরমুজের ৯২ শতাংশই পানি। শরীরে পানির অভাব পূরণে ফলের মধ্যে তরমুজই হলো আদর্শ ফল। তরমুজে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও আঁশ। মওসুমি এই ফলটির রয়েছে নানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তরমুজ হলো ভিটামিন ‘বি৬’-এর চমৎকার উৎস, যা মস্তিষ্ক সচল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি খেলে দেহের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত অসুস্থতা কমে। এই ফলটি নিয়মিত খেলে প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে না। তরমুজের আরো একটি গুণ হলো এটি চোখ ভালো রাখতে কাজ করে। তরমুজে ক্যারোটিনয়েড থাকায় এ ফলটি চোখ ও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। একইসঙ্গে চোখের নানা সমস্যার প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করে তরমুজ। চিকিৎসকেরা বলেন, ক্যারোটিনয়েড রাতকানা প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তরমুজে প্রচুর পানি এবং কম ক্যালরি থাকায় পেট পুরে তরমুজ খেলেও ওজন বাড়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, তরমুজে থাকা উচ্চ পরিমাণে সিট্রুলিন মানব দেহের ধমনির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে এবং রক্তচাপ কমিয়ে দেয়।

টবে তরমুজ চাষের জন্য যা করা দরকার তা হলঃ–

বংশবিস্তার পদ্ধতি:  তরমুজ বীজ থেকে বংশবিস্তার হয়। এছাড়া টবে চারা বসিয়ে চাষ হয়।

জলবায়ু:

তরমুজ গাছের চাষের জন্য খুব বেশী আর্দ্র মাটি প্রয়োজন হয় না। তবে মাটি যাতে বেশী ভিজে কাদা কাদা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর কোনো কারণে মাটি স্যাঁতস্যাঁতে থাকলে সেই কয়দিন জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়ম করে জল দিতে হবে। তরমুজ চাষের জন্য শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ু সবচেয়ে উপযোগী।  গরমে তরমুজ চাষ বেশী হয়। তরমুজ চাষে জল নিষ্কাষণী ব্যবস্থা থাকতে হবে।

তরমুজ উৎপাদনঃ গরমে তরমুজ চাষ বেশী হয়। তবে উন্নত প্রক্রিয়া ব্যবহারের ফলে এখ সারা বছরই তরমুজ উৎপাদিত হয়।

টব:

তরমুজ চাষের জন্য বড় সাইজের টব হলে ভাল হয়। এছাড়া অর্দ্ধেক ড্রাম হলে ভাল হয়। প্রত্যেকটি টবে ৪-৫ টি বীজ ফেলুন।এর একটি থেকে গাছ হলে সেটি রাখুন। আর চারা পুঁতলে ২-৩টি একসাথে পুঁতুন।
সার মাটি..



যে কোনও মাটিতেই তরমুজ গাছ জন্মায়।  তবে ভারী দোঁয়াশ ও বেলে মাটিতে তরমুজ গাছের ভাল চাষ হয়। দোঁয়াশ মাটিতে যেন কাঁদা কণার ভাগ বেশী থাকে। আপনি যদি টবে তরমুজ চাষ করতে চান তাহলে প্রথমেই যেটি করবেন, পরিমান মতো  দো-আঁশ বা বেলে মাটি এর সাথে কম্পোস্ট সার, ইউরিয়া, এমওপি,বোরাক্স সার,জিপসাম মিশিয়ে নিন।  এতে টবের মাটি ভাল থাকবে। এর সঙ্গে কিছুটা পরিমান পাতা পচা সার, গোবর, খৈল  মিশিয়ে মাটি তৈরি করলে ভাল হয়। সার মেশানোর কিছু দিন পর আবার উক্ত মাটিকে খুচিয়ে দিয়ে কয়েক দিন রেখে দিতে হবে। এর পর মাটি ঝুরঝুরা হলে কলম চারাটি এনে টবে বসাতে হবে। তরমুজ চারা টবে স্থাপনের পরে অল্প জল দিতে হবে। তরমুজের এর জন্য মাটি সব সময় নরম ঝুরঝুরে থাকলে গাছ তাড়াতাড়ি বাড়ে। মাটি হবে জল ধরে রাখার ক্ষমতা সম্পন্ন।

সার প্রদান:

চাপান সার দেবেন চারা বসানোর মাস খানেক বাদে। দরকার হলে ৬ সপ্তাহ পর থেকে তরল সার দেবেন। গাছে স্ত্রী ফুল দেখা না দেওয়া পর্যন্ত বেশী নাইট্রোজেন সার দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

পরিচর্যা:

সার হিসেবে চাপান সার বা জৈব সার দিতে হবে। প্রতিদিন তরমুজ গাছে সকাল বিকাল প্রচুর জল প্রয়োজন হয়। তাই নিয়মিত জল দিতে হবে।  তরমুজ গাছে জল দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে গোড়ায় জল না জমে। মাসে একবার/দুবার মাটি খুঁচিয়ে দিতে হবে। যাতে মাটি ঝুরঝুরে থাকে। তরমুজ গাছে সর্বদা যথেষ্ট সূর্যের আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তাহলে ফলন ভালো হবে। গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে এর গোড়ায় নিয়মিত ইউরিয়া সহ,  ও নানা ধরণের জৈব সার প্রয়োগ করুন। এক বছর পর টবের কিছুটা মাটি পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়াও গাছের গোড়ায় যেন কোন ধরনের আগাছা না হয় দেখতে হবে। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। ছাদ বা উঠোনে যেন এর বেয়ে চলা যেন বাধা প্রাপ্ত না হয়, দেখতে হবে। মাসে একবার পাতা ছাঁটা উচিৎ। বেশী বড় হয়ে গেলে আগা কাঁটতে হবে।

তরমুজ গাছের পোকামাকড় দমনঃ

১)তরমুজ গাছে মাজরা পোকা ফলের  খোসার  নিচে ডিম পাড়ে।এদের ডিম ফুটে কীড়াগুলোর   আক্রমণে তরমুজের  ফল নষ্ট হয়ে যায়। ফলগুলো সাধারণত পচে যায়।

প্রতিকার:

আক্রান্ত হলে তা ফেলে দিতে হবে। এপোকা দমনের জন্য রিপকর্ড বা ম্যালাথিয়ন জলের সাথে মিশিয়ে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

২) তরমুজ গাছে বিটল পোকা দেখা যায়। এরা পাতা, কচি ফল ও ফুল খেয়ে তা নষ্ট করে দেয়।

প্রতিকার:

আক্রান্ত হলে পোকাগুলি ফেলে দিতে হবে। এপোকা দমনের জন্য রিপকর্ড বা ম্যালাথিয়ন জলের সাথে মিশিয়ে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

৩) এছাড়া জাব পোকা সংক্রান্ত রোগ দেখা যায়। এর আক্রমণে তরমুজের  ডগা ও পাতা হলুদ হয়ে যায়।  এরা তরমুজ গাছের পাতার রস চুষে খায়।  ফলে পাতা বিকৃত হয়ে যায়, বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ।

প্রতিকারঃ

আক্রান্ত হলে পোকাগুলি ফেলে দিতে হবে। এছাড়া নিমবীজের দ্রবণ বা সাবানগোলা জল স্প্রে করলে এ পোকার আক্রমণ অনেকাংশে কমে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.