জৈব সার হিসেবে খৈল ও হাঁস-মুরগীর বিষ্ঠা

29th January 2020 0 Comments


সার  হল প্রাকৃতিক অথবা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা কোনো উপাদান যা মাটিতে কিংবা উদ্ভিদের টিস্যু তে প্রয়োগ করা হয় যাতে উদ্ভিদে বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদানের সরবারহ নিশ্চিত হয়।গোবর সার, সবুজ সার, খৈল ইত্যাদি। গাছের প্রায় সব খাদ্য উপাদানেই জৈব সারে থাকে। আর এই সার নানা ভাবে তৈরি করা যায়। তবে চলুন জেনে নেয়া যাক কত ধরন ও কিভাবে এই সার তৈরি করা যায়।

জৈব সার হিসেবে খৈল 

বিভিন্ন তৈল জাতীয় শস্যের বীজ, যেমন – সরিষা, তিল, তিসি, বাদাম, তুলা, ভেরেন্ডা, নারকেলের মালা ইত্যাদি থেকে ঘানি বা ইম্পেলারের মাধ্যমে তৈল বের করে নেওয়ার পর যে অবশিষ্ঠাংশ থাকে প্রচলিত ভাষায় সেগুলিকে খৈল বলে। এ খৈলে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকলেও নাইট্রোজেন সারের পরিমানই বেশী থাকে।একভাগ খৈল গুড়া করে দুই ভাগ কাঠের (করাত কলে প্রাপ্ত) গুড়া বা চাউলের কুড়া ও চার ভাগ গোবর বা হাস-মুরগীর বিষ্ঠা (১০-১৫ দিনের আধা পঁচা) হালকা পানির সাথে মিশিয়ে কাই করে কুইক কম্পোষ্টের মত করে স্তুপাকারে রেখে দিয়ে ২ – ৩ দিন পরপর ৩ – ৪ বার স্তুপ ভেঙ্গে নেড়ে চেড়ে পুনঃস্তুপ করে, তারপর ৭ – ১০ দিন পরপর আরো দুইবার স্তুপ ভেঙ্গে উলটপালট করে দিয়ে পঁচিয়ে ২০-২৫ দিন পর ভালো কম্পোষ্ট সার হিসাবে গাছের জন্য মাটিতে প্রয়োগ করা যায়। খৈল না পঁচিয়ে মাটিতে প্রয়োগ করা উচিত নয়।


হাঁস-মুরগীর বিষ্ঠা

হাঁস, মুরগী, কবুতর এসব গৃহপালিত পাখীর বিষ্ঠা পঁচিয়ে উৎকৃষ্ট জৈব সার তৈরী করা যায়। হাঁস-মুরগীর ঘরে বিচালী, পাতা, কাঠেরগুঁড়ো ইত্যাদি দিয়ে পুরু শয্যা তৈরী করা হয়। এর উপরে প্রতি দিন বিষ্ঠা পরে। এগুলো গর্তে বা কোন স্থানে জমিয়ে গাদা করে রেখে ১০-১২ দিন পরপর উল্টিয়ে দিলে মাসখানেক পর জৈব সার হিসাবে ব্যবহারের উপযোগী হয়।সাধারণ হিসাবে ৪০টি মুরগির শয্যা হতে বছরে এক টন জৈব সার পাওয়া যায়। পরিমানে কম হলেও এ সার গোবরের চেয়ে পুষ্টি সমৃদ্ধ। এতে নাইট্রোজেন, ফসফোরাস ও পটাশিয়ামের পরিমান হচ্ছে যথাক্রমে ১.৬০; ১.৫০ ও ০.৮৫%।মল ও মূত্র একই সাথে অবক্ষেপিত হয় বলে এ সারে নাইট্রোজেনের পরিমান বেশী থাকে। এছাড়া এতে অনু খাদ্যও থাকে। এ সার হতে গাছ সহজেই খাদ্যোপাদান গ্রহণ করতে পারে। তদুপরি এ সারে কয়েকটি হরমোন থাকায় গাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.