জানেন কি মাশরুম কেন খাবেন?

16th January 2020 0 Comments


মাশরুম একটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর সবজি। মাশরুম হলো ভক্ষণযোগ্য মৃতজীবি ছত্রাকের প্রজনন অঙ্গ। মাশরুম হলো অসংখ্য ছত্রাক গোষ্ঠি থেকে দীর্ঘ যাচাই বাছাইকৃত টিস্যুকালচারের মাধ্যমে উৎপন্ন বীজ দ্বারা সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষ করা মৃতজীবি ছত্রাকের ফলন্ত অঙ্গ (প্রজনন অঙ্গ) যা অত্যান্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধীগুণ সম্পন্ন।

মাশরুমের পুষ্টিগুণঃ
পুষ্টিগুণ বিচারে মাশরুম নিঃসন্দেহে একটি সেরা খাদ্য। কারণ আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যেসব উপাদান অতি প্রয়োজনীয় যেমন – প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল সেগুলো মাশরুমে উচুঁ মাত্রায় আছে। অন্যদিকে যেসব খাদ্য উপাদানের আধিক্য আমাদেরকে জটিল মরণব্যাধীর দিকে নিয়ে যায়, যেমন – ফ্যাট মাশরুমে নেই বললেই চলে। কাঁচা মাশরুম মিক্স সবজিতে, ভর্তা, ফ্রাই, পিৎজা, স্যুপ, নুডুলস, মাছ মাংসের সংগে ছাড়াও বিভিন্ন উপায়ে রান্না করে খাওয়া হয়। মাশরুমের সুন্দর্য, সুন্দর স্বাদ, মৃদু ও রুচিকর গন্ধ এবং কচকচে ভাব এর জন্য আমিষ ও নিরামিষভোজী উভয় মানুষের কাছেই অনেক জনপ্রিয়। মাশরুম শুকিয়ে গুড়ি করে রুটি বানানোর সময় আটা বা ময়দার সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন খাওয়া যায়। তাছাড়া যেসব মাশরুম রান্না করে খাওয়া যায় না সেসব মাশরুমের গুড়ো চা, দুধ এবং কফির সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।

মাশরুমের স্বাদঃ
মাশরুম দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি অত্যন্ত সুস্বাদু সবজি। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ মুখোরোচক এই মাশরুমের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে খাদ্য তালিকায় মাশরুমকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যবহৃত হতো অসাধারণ লোভনীয় স্বাদের মাশরুম। চায়না, আমেরিকা, নেদারল্যান্ড, পোল্যান্ড, স্পেন, ইটালি সহ বিভিন্ন দেশে মাশরুম চাষ করা হয় এর ব্যাপক চাহিদার জন্যই। বিশ্বব্যাপী ভোজন রসিকরা মাশরুমকে স্বর্গীয় খাবারের সাথে তুলনা করে। মাশরুম শুধু নিজেই স্বাদই খাবার নয়, মাশরুম অন্য খাবারের সাথে ব্যবহার করলে তার স্বাদ বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই মাশরুমকে পরশস্বাদু খাবারও বলা হল। স্বাদের পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন রং এর মাশরুম খাবারের সৌন্দর্যকেও বৃদ্ধি করে তুলে।

মাশরুমের ঔষধীগুণঃ
মাশরুমের স্বাদ এবং পুষ্টিগুণে যেমন অসাধারণ তেমনি মাশরুমে রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঔষধীগুণ। এটি শক্তিশালী প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। যে কারণে চাইনারা ‘অমরত্বের সন্ধানে’ মাশরুম খাওয়া শুরু করেন। খৃষ্টপূর্ব ৫০০ সন থেকে মানুষ মাশরুমকে সুস্বাদু খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে আসছে। প্রাচীন ফারাও সম্রাট মাশরুমকে দেবতার খাবার হিসেবে মনে করতেন। আর গ্রীকরা মনে করতেন ‘ঝুঁকিপূর্ণ লড়াইয়ের ময়দানে জয়লাভের জন্যে প্রয়োজনীয় শৌর্যবীর্য যোগাতে পারে মাশরুম’। হাদিস শরীফের সূত্র হতে জানা যায়, ‘মাশরুম হচ্ছে মান্নার নির্যাস থেকে উৎপন্ন অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন খাবার’। শতবর্ষ পূর্ব থেকেই অসাধারণ খাদ্য হিসেবে মাশরুমের ব্যবহার, প্রাচীন ঔষুধ হিসেবে এর সফলতা এবং পবিত্র বস্তু হিসেবে মাশরুমকে শ্রদ্ধা, বর্তমান যুগেও মাশরুম নিয়ে গবেষণার ইন্ধন যোগাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেখা গেছে মাশরুমের প্রকার ভেদে বিভিন্ন বায়োক্যামিক্যাল উপাদানের উপস্থিতির কারণে লিভার, কোলেস্টেরল, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ইমুন সিস্টেম উন্নত করা ছাড়াও বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধক, নিরাময়ক ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। মাশরুম অবসন্নতা দূর করার পাশাপাশি ফুসফুসের ইনফেকশনও নির্মূল করতে সক্ষম।

Leave a Comment

Your email address will not be published.