জহুরিচাঁপা ফুল

12th December 2019 0 Comments

আমাদের দেশে চাঁপা ফুলের সংখ্যাও একেবারে কম নয়। আর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে চাঁপা নামের সব ফুলই কিন্তু চাঁপা নয়। প্রচলিত নাম চাঁপা হলেও মূল চাঁপা ফুলের সঙ্গে বৈশিষ্ট্যগত অনেক পার্থক্য রয়েছে। প্রকৃত চাঁপার ইংরেজি নাম ম্যাগনোলিয়া। প্রকৃত চাঁপাফুলের মধ্যে একটি ফুল হচ্ছে জহুরিচাঁপা। জহুরিচাঁপা ফুল দেখতে পাওয়া যায় রমনা পার্কে। তবে পরিপূর্ণ প্রস্ফুটিত ফুল একটু দুষ্প্রাপ্য। জ্যৈষ্ঠে মাসে এ ফুল মধুর সুবাস ছড়ায়। গাছটি থাকে পাতার বুননে ঠাসা। এতই নিশ্ছিদ্র যে, ভেতরে চোখ গলানো দায়। তবে মুক্ত পাপড়িতে ফুলগুলো যেন হাসতে থাকে। জহুরিচাঁপা আরো দেখা যাবে নাটোরের দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ীর ইতালিয়ান গার্ডেনে। তবে বলধা গার্ডেন ও গাজীপুরে শালনা অরচ্যাডের বাগানেও রয়েছে। জহুরিচাঁপা (Magnolia pumila) মূলত জাভা দ্বীপপুঞ্জের গাছ। প্রায় দুই মিটার উঁচু চিরসবুজ ঝোপাল গাছ। পাতা ভল্লাকার, ৭ থেকে ১২ সেন্টিমিটার লম্বা, খসখসে। গ্রীষ্ম-বর্ষায় বেশি ফুল ফোটে, পাতার গোড়া থেকে একেকটি ফোটে সন্ধ্যার আগে আগে। হলদেটে-সাদা, প্রায় তিন সেন্টিমিটার চওড়া, সবুজ বৃত্তাংশে আংশিক ঢাকা থাকে, বাটিবৎ, পাপড়ি ছয় থেকে নয়টি। জহুরিচাঁপা অত্যন্ত ঘ্রাণময় ফুল। এ ফুলের ঘ্রাণে পাগল পাগল করে মন । জহুরিচাঁপা ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।


উপকারিতাঃ

১। জহুরিচাঁপা গাছের পাতা থেঁতো করে এই রস সেবন করলে প্রসাবের জ্বালাপোড়া ভালো হয়।

২। জহুরিচাঁপা শেকড় সিদ্ধ করে এই ক্বাথ সকাল বিকেল খেলে অর্শ রোগে উপকার পাওয়া যায়।

৩। জহুরিচাঁপা পাতা ও পাঁপড়ি একসাথে বেটে হালকা সেদ্ধ করে এই ক্বাথ সেবন করলে ঠান্ডা জনিত সমস্যা ভালো হয়।

৪। গায়ে চুলকানি হলে জহুরিচাঁপা গাছের শেকড় সিদ্ধ করে গোসল করলে চুলকানি দ্রুত ভালো হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.