জলপাই

12th February 2020 0 Comments

জলপাই গাছ মাঝারি আকারের, ১০ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। শীতকালে পাতা ঝরে পড়ে, ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে নতুন পাতা আসে। সেই সঙ্গে আসে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাদা ফুল। জলপাই ফলের জন্য বিখ্যাত হলেও এর ফুলের সৌন্দর্য অসাধারণ। সারা গাছজুড়ে অসংখ্য ফুলের যে মেলা বসে, তার সৌন্দর্য উপেক্ষা করা কঠিন। গ্রীষ্মের মাঝামাঝি মলিন সাদা রঙের থোকা থোকা ফুলগুলো ফোটে। ফল খাবার উপযোগী হয় শরৎ-হেমন্তে। তখন ফলের বাইরের আবরণ সবুজের কাছাকাছি একটি বিশেষ রঙ ধারণ করে। এ কারণে জলপাই রঙ সবার কাছে একটি বিশেষ রঙ হিসেবে পরিচিত। জলপাইয়ের গড়ন প্রায় আমড়ার মতোই। তবে আমড়ার চেয়ে আকারে ছোট। এর পাতলা আবরণের ভেতর থাকে খাবার উপযোগী শাঁস ও একটি শক্ত আঁটি বা বীজ। কাঁচা ফলের শাঁস কিছুটা টক, যা ইঙ্গিত দেয় যে এটি ভিটামিন সি এর একটি ভাল উৎস। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফল খনিজ, ভিটামিন, ফাইবার এবং মূল্যবান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। একটি ফলের ওজন ১৫.৭৮ থেকে ২২.৪৬ গ্রাম, দৈর্ঘ  ৪.০৭ থেকে ৪.৪৯ সে:মি:, ব্যাস ২.৬২ থেকে ২.৮৯ সে:মি: হয়ে থাকে। ফলের রং হয় গাঢ় সবুজ, একটি বাদামী বীজ থাকে ফলের মধ্যখানে, বীজের চারপাশ ঘিরে থাকে টক-মিষ্টি স্বাদের শাঁস।

এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক জলপাইয়ের ১০ টি উপকারিতাসমুহঃ

১। প্রতিদিন খাওয়ার আগে ১০ টি জলপাই খেলে আপনার ক্ষুধা ২০ শতাংশ কমে যাবে। এর কারণ হলো জলপাইতে থাকা মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড হজম প্রক্রিয়া ধীরগতির করে দেয় এবং কোলেসাইটোকিনিন নামক হরমোন নিঃসরণ ঘটায়। এই হরমোন মস্তিষ্কে ক্ষুধা নিবৃত্তি বা সম্পূর্ণ হওয়ার মেসেজ পাঠায়।

২। জলপাই আপনার শরীরে আডিপোনেকটিন নামক রাসায়নিক পদার্থ উৎপন্ন হওয়ার পরিমাণ বাড়ায়। এই রাসায়নিক পদার্থটি খাওয়ার পাঁচ ঘণ্টা পর পর্যন্ত ফ্যাট বার্ন করে বা মেদ ঝরায়।

৩। জলপাইতে অলেইক এসিড আছে। এই অলেইক এসিড ত্বককে রাখে নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর। তাই নিয়মিত জলপাই খেলে ত্বকের বলিরেখা ২০ শতাংশ কমে যাবে।

৪। জলপাইতে পলিফেনল থাকে। পলিফেনল হলো এক ধরনের প্রাকৃতিক কেমিক্যাল, এটা মস্তিষ্কে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। প্রতিদিন নিয়মিত জলপাই খেলে আপনার স্মৃতিশক্তি শতকরা ২৫ ভাগ বাড়ার কথা।

৫। জলপাইতে প্রচুর পুষ্টিকর ও খনিজ উপাদান আছে। যেমন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস এবং আয়োডিন।

৬। ভাইরাল অসুখ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিপরীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে জলপাই।

৭। রক্ত বেশি জমাট বাঁধা থেকে অনেক সময় মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন অথবা রক্তনালীর ভিতরে রক্তের ঘনত্ব মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এই ধরনের রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে জলপাই।

৮। ধীরে ধীরে বাড়ে এবং জটিল আকার ধারণ করে এমন রোগের প্রভাব কমায় জলপাই। যেমন আলঝেইমার বা স্মৃতিভ্রম, জটিল ধরনের টিউমার, রগ কিছুটা ফুলে যাওয়া, দাঁতের ক্যাভিটি ইত্যাদি রোগের প্রভাব কমিয়ে আনে জলপাই।

৯। জলপাইয়ে প্রচুর আঁশ বা ফাইবার রয়েছে, ফলে এটা সবজি ও ফল দুটারই কাজ করে।

১০। জলপাইয়ে প্রচুর আঁশ বা ফাইবার রয়েছে, ফলে এটা সবজি ও ফল দুটারই কাজ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.