ছোলা

30th November 2019 0 Comments

ছোলা একটি বর্ষজীবী উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Cicer arietinum। লেগুমিনোসি বা কালাই পরিবারের বর্ষজীবী গাছ। এটি প্রোটিনে সমৃদ্ধ। ছোলার গাছ ২০ থেকে ৫০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয় তবে ১ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ছোলার কাণ্ডের দুইপাশে পালকের মতো পাতা থাকে। একটি বীজপত্রে দুই থেকে তিনটি করে ডালবীজ থাকে। ফুলগুলি সাদা, বা কখনও কখনও লালচে নীল রঙের হয়। ক্রান্তীয় বা উপক্রান্তীয় জলবায়ু ও বাৎসরিক ৪০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত ছোলাগাছের স্বাভাবিক ফলনের জন্য জরুরি। বিশ্বব্যাপী ছোলা মূলত দুই ধরনের – দেশী ছোলা এবং কাবুলি ছোলা। স্বাস্থ্যকর খাবার হিসাবে ছোলা বা বুটের বেশ সুনাম। এটা মুখরোচকও বটে। শক্তি দেয়। মার্চ মাসে ছোলার ফুল হয় এবং জুন মাসে তা থেকে ফল হয়। ছোলা বাংলাদেশ সহ মধ্যপ্রাচ্য, পশ্চিম এশিয়া, ভারতীয় উপমহাদেশে, ইরান, চিলি ও মেক্সিকোতে এর চাষ করা হয়ে থাকে। ছোলা খাওয়ার পাশাপাশি ঔষধ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

 

ছোলার খাদ্য গুণ

স্বাস্থ্যকর খাবার হিসাবে ছোলা বা বুটের বেশ সুনাম। এটা মুখরোচকও বটে। শক্তি দেয়। পেটেও থাকে বেশিক্ষণ। সাধারণত দুই প্রকারের ছোলা পাওয়া যায়: দেশী ছোলা ও কাবুলী ছোলা। দেশী ছোলা আকারে ছোট, একটু কালচে রংয়ের এবং অপেক্ষাকৃত শক্ত। কাবুলী ছোলা একটু বড় আকারের, উজ্জ্বলতর রং এবং দেশী ছোলার চেয়ে নরম। দেশী ছোলা এই উপমহাদেশে পাওয়া যায়। কাবুলী ছোলা জন্মায় আফগানিস্তান, দক্ষিণ ইউরোপ- এসব স্থানে।
ছোলা অত্যন্ত পুষ্টিকর। এটি আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। ছোলায় আমিষের পরিমাণ মাংস বা মাছের আমিষের পরিমাণের প্রায় সমান। তাই খাদ্য তালিকায় ছোলা থাকলে মাছ মাংস পরিমানে কম থাকলেও চলে। আমাদের দেশের মত উন্নয়নশীল দেশে ছোলাকে মাছ বা মাংসের বিকল্প হিসাবেও ভাবা যেতে পারে। ছোলার ডাল, তরকারিতে ছোলা, সেদ্ধ ছোলা ভাজি, ছোলার বেসন- নানান উপায়ে ছোলা খাওয়া যায়।
প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। খাওয়ার পর খুব তাড়াতাড়িই হজম হয়ে গ্লুকোজ হয়ে রক্তে চলে যায় না। বেশ সময় নেয়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগই পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়।
প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এ ছাড়াও আছে ভিটামিন ব্লি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়াম। এ সবই শরীরের জন্য কাজে লাগে। ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠ কাঠিন্যে উপকারী। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে। এতে কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর হয়। পায়খানা করা সহজ হয়। নিয়মিত পায়খানা হয়ে যায় বলে ক্ষতিকর জীবাণু খাদ্যনালীতে থাকতে পারে না। ফলে খাদ্যনালীর ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা কমে। রক্তের চর্বি কমাতেও সহায়ক খাদ্যের আঁশ। আরও নানান শারীরিক উপকার আছে খাদ্য-আঁশে। দেরীতে হজম হয়, এরূপ একটি খাবার হচ্ছে ছোলা। শরীরে শক্তির যোগান দিতে থাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলা থেকে পাওয়া যায় ৩৬০ ক্যালরিরও অধিক শক্তি।

 

উপকারিতা:

 

১। শ্বাসকষ্ট হলে খোসাসহ ছোলা সেদ্ধ সেই পানি প্রতিদিন এককাপ করে পান করলে উপকার পাওয়া যায়।

২। কোন কারনে শরীরের শক্তি কমে যাচ্ছে তাহলে প্রতিদিন ছোলার ছাতু খাওয়ার অভ্যাস করে তুলুন উপকার পাবেন।

৩। দাঁতের মারি ফুলে গেলে ছোলা সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করবেন দেখবেন ব্যথা কমে গেছে।

৪। যদি বদহজম হয়, বুক জ্বালা করে ও পায়খানা পরিষ্কার না হয় তাহলে ছোলা শাক বেটে নিয়ে তার সাথে আধ গ্রাম বিট লবন চূর্ণ মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৫। ব্রন বা মেছতা হলে কিছু ছোলা ভিজিয়ে সেই ছোলা বেটে নিয়ে প্রতিদিন মাখুন। এভাবে ১ মাস মাখুন ভালো ফল পাবেন।

৬। ছোলা নিয়মিত খেলে হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।

৭। নিয়মিত ছোলা খেলে কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি কম থাকে।

৮। ছোলার শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকায় শরীরে প্রবেশ করার পর অস্থির ভাব দূর হয়।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.