ছাদে পুদিনা পাতার চাষের উপায়

2nd November 2019 0 Comments

বাজারে পুদিনা পাতা কিনতে পাওয়া যায়। তবে চাইলে আপনি বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় পুদিনা পাতা চাষ করতে পারেন। কম পরিশ্রম ও ঝামেলাহীনভাবেই পুদিনা পাতার চাষ করা সম্ভব। টবে খুব সহজেই এটি চাষ করা যাবে। সবজি, চা, সালাদ বা বোরহানির সঙ্গে অনেকে পুদিনা পাতা খান। সুগন্ধ ছাড়াও এ পাতার রয়েছে নানা ঔষধি গুণ। সেজন্য বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের খাবারেও পুদিনা পাতার ব্যবহার দেখা যায়। আবার খাবার পরিবেশনের সৌন্দর্য বাড়াতেও অনেকে পুদিনা পাতা ব্যবহার করেন। পুদিনা পাতা সাধারণতঃ তরি-তরকারির সাথে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন রকমের বড়া তৈরির কাজে পুদিনা পাতার অবদান রয়েছে । পুদিনা একটি সাধারণ আগাছা ধরনের গাছ। কাণ্ড ও পাতা বেশ নরম। কাণ্ডের রঙ বেগুনি, পাতার রঙ সবুজ। পাতা ডিম্বাকার, পাতার কিনারা খাঁজকাটা । সারা বছর পুদিনা পাতা হাতের কাছে পেতে চাইলে বাড়ির ছাদ অথবা বারান্দায় অতি সহজেই এই পুদিনা পাতার চাষ করা যায় ।

 

চাষের জন্য মাটি তৈরিঃ

বাড়িতে পুদিনা চাষের ক্ষেত্রে প্রথমে টবের মাটি তৈরি করতে হবে। পুদিনা পাতা দো-আঁশ মাটিতে সবচেয়ে ভাল হয়। এক্ষেত্রে মাটি তৈরির সময় গোবর ২ কেজি, দো-আঁশ মাটি ৪ কেজি হারে মেশাতে হবে। ওই মিশ্রণ থেকে প্রতিটি টব বা কন্টেইনারে ৩ থেকে ৪ কেজি মিশ্রণ স্থাপন করে পুদিনা পাতার গাছ লাগাতে হবে। গোবর বা চা-পাতা মিশ্রিত মাটি দিয়েও পুদিনা পাতার চাষ করা যায়।

 

ছোট টব বা পুরনো তেলের কন্টেইনার বা পুরোনো বোতল জাতীয় পাত্র এক্ষেত্রে আপনি বাছাই করতে পারেন। অথবা যেকোন ছোট পাত্র এটি লাগানোর জন্য ব্যবহার করতে পারেন। বাড়ির বারান্দায় এক পাশে ঝুলিয়েও আপনি এই পুদিনা পাতার চাষ করতে পারেন

 

জাত বাছাই করাঃ

পৃথিবীতে প্রায় ৬৫০ জাতের পুদিনা পাওয়া যায় যাদের অধিকাংশই প্যারিনিয়েল এবং কতিপয় একবর্ষজীবি। তবে জাপানিজ অরিজিন আর্বেনেসিস হল আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে সার্বজনীন। চাষাবাদের জন্য পুদিনার উন্নত মানের জাতসমূহ হচ্ছে পিপারমিন্ট, স্পিয়ার মিন্ট ও অ্যাপেল মিন্ট।

 

রোপনের সঠিক সময়

বছরের যে কোনো সময়ে পুদিনার চারা রোপন করা যায়। সাধারণত বর্ষার আগে ও পরে চারা রোপণের নিয়ম। সে অনুযায়ী জুন অথবা অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পুদিনার চারা রোপণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

 

বীজ বপন সঠিক নিয়মে পানি সেচ দিবেন

পুদিনা চাষের ক্ষেত্রে টবের মাটির সংগে কিছু জৈব সার অথবা গোবর ভালভাবে মিশিয়ে তাতে পানি দিয়ে ৬/৭ দিন রেখে দিতে হবে। মাটি কিছুটা শুকিয়ে এলে ঝুরঝুরা করে তাতে পুদিনা পাতার কাটিং লাগিয়ে দিতে হবে । পুদিনা গাছের তেমন কোন যত্নের দরকার হয় না, শুধু প্রয়োজন অনুসারে মাঝে মাঝে পানি দিতে হবে। এই গাছের একটি পুরানো ডাল শিকড়-সহ কেটে টবে বা কন্টেইনারে রোপন করলেই কিছুদিনের মধ্যে ওই পাত্র পুদিনা পাতার গাছে ভরে যায়।

 

চাষাবাদ পদ্ধতি/কৌশল

কন্টেইনারে বা টবে লাগানো গাছগুলো প্রয়োজনে তার দিয়ে বেঁধে বারান্দায় ঝুলিয়ে রাখা যায় অথবা ছাদেও এর চাষ করা যায়। এই গাছে সূর্যের আলোর তেমন প্রয়োজন হয় না তাই ডেকোরেশন প্লান্ট হিসেবে ঘরের মধ্যেও টবে লাগানো যেতে পারে।’

 

সার প্রয়োগ  

পুদিনা চাষের ক্ষেত্রে টবে বা পাত্রে পরিমাণ মত গোবর বা জৈবসার মিশিয়ে দিতে হয়। এছাড়া অন্যান্য উপাদান হিসেবে কিছু পরিমাণ হাড়ের গুঁড়া, টিএসপি সার,  কাঠের ছাই অথবা এমওপি সার দিতে পারেন।

 

পরিচর্যা

পুদিনা গাছে সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে। মাঝে মাঝে টব গুলো বাইরে এনে সূর্যের আলো লাগাতে হবে। এবং গাছের গোড়ার মাটি গুলো আলগা করে দিতে হবে। যে পাত্রে পুদিনা লাগানো হবে সেই পাত্রের নীচে ২/৩টি ছোট ছিদ্র করে দিতে হবে যাতে করে বাড়তি পানি পড়ে যায় এবং অক্সিজেনের ঘাটতি পুরণ হয়।

 

পাতা  সংগ্রহ

একবার কয়েকটি গাছ রোপণ করলেই কিছুদিনের মধ্যে তা অনেক গাছে রূপান্তরিত হয়। তখন থেকেই পাতা সংগ্রহ করা যায়। পাতা সংগ্রহের সময় গাছের গোড়া বা শিকড়ের কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গাছের নিচের পাতা হলদে হওয়া শুরু করলেই কাটিং নিয়ে তেল নিষ্কাশন করা হয়। মৌসুমে একই গাছ থেকে দু´বার কাটিং/ফল সংগ্রহ করা যায়।

 

টবে চাষের ক্ষেত্রে পাতা সংগ্রহের সময় বেশ কিছু পরিমাণ পাতা সংগ্রহ করা যায়। এমনকি প্রয়োজন মত বেশ কিছু আঁটি করে পাওয়া যায়।

 

 

 

অনলাইনে গাছপালা কোথায় পাওয়া যায়ঃ

 

নার্সারির পাসাপাসি গাছপালা কিনতে পারবেন এখন অনলাইনে ।গাছপালা কিনতে ভিজিট করুন নিচে দেয়া নার্সারী লেখার উপর এবং অর্ডার করতে পারেন দেশের যেকোন প্রান্ত থেকেঃ

গাছ

Leave a Comment

Your email address will not be published.