ছাগল পালন সম্বন্ধে বেশ কিছু প্রশ্নত্তোর

2nd January 2020 0 Comments

 ১. ছাগল পালনের উপকারিতা কি কি?
• মাংস ও চামড়া উৎপাদন, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন সামগ্রীতে ব্যবহার এবং দারিদ্র বিমোচনের জন্য ছাগল পালন করা হয়।

২. আমাদের দেশে কি ধরণের ছাগল পালন করা হয়?
• আমাদের দেশে স্থানীয় কালো জাতের ছাগল সর্বত্র পালন করা হয়।

৩. দেশীয় কালো ছাগল ছাড়া আর কোন কোন জাতের ছাগল পালন করা হয়?
• বোয়ের,সুদানিজ,ডেসার্ট, বারবারি, যমুনাপাড়ি এবং আরও কয়েক জাতের ছাগল বাংলাদেশে পালন করা হয়।

৪. দেশীয় কালো ছাগল কি জন্যে পালন করা হয়?
• বিশ্ববিখ্যাত চামড়া উৎপাদনের জন্য।

৫. দেশীয় কালো ছাগলের ওজন কত কেজি হতে পারে?
• দেশীয় কালো ছাগলের ওজন ১৫-২০ কেজি হতে পারে।

৬. প্রতিদিন ছাগলের ওজন কত বাড়তে পারে?
• ছাগলের ওজন প্রতিদিন ২০ থেকে ৪৫ গ্রাম বাড়তে পারে।

৭. আমাদের দেশীয় ছাগলের বিশেষ গুণ কি?
• আমাদের দেশীয় ছাগলের চামড়া ভাল এবং এটি অপেক্ষাকৃত অধিক হারে বাচ্চা দেয়।

৮. দেশীয় ছাগলের বাচ্চার মৃত্যুর হার বেশি হয় কেন?
• অল্প দুধ এবং বেশি বাচ্চা দেয় বিধায় দুধের অভাবে বাচ্চার মৃত্যুর হার বেশি হয়।

৯. দেশীয় ছাগল কতটুকু দুধ দেয়?
• সর্বোচ্চ ১.৫ কেজি দুধ দেয়।

১০. বিদেশী ছাগল কতটুকু দুধ দেয়?
• প্রায় ২.৫ কেজি দুধ দেয়।

১১. একটি পাঁঠা দ্বারা কতগুলো ছাগীকে পাল দেয়া যেতে পারে?
• একটি পাঁঠা দ্বারা ১০-১২ টি ছাগীকে পাল দেয়া যেতে পারে।

১২. পারিবারিক পর্যায়ে কয়টি ছাগল পালা সুবিধাজনক?
• পারিবারিকভাবে ১০-১২ টি ছাগল পালা সুবিধাজনক।

১৩. বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহ ছাড়া কয়টি ছাগল পালা যাবে?
• প্রায় ৫-৬টি ছাগল পালা যাবে।

১৪. কত বয়সে ছাগল বিক্রি করা যায়?
• খাসী ৮-১২ মাসের মধ্যে এবং পাঠী ৬-৭ মাসের মধ্যে বিক্রি করা যায়।

১৫. দেশীয় ছাগল সাধারনত সর্বোচ্চ কতটি বাচ্চা দিতে পারে?
• দেশীয় ছাগল ৫-৬টি বাচ্চা দিতে পারে।    

১৬. ব্রুডিং পেন পদ্ধতি বলতে কি বুঝায়?
• পরিমিত জায়গায় এবং তাপমাত্রায় বাচ্চাকে যে খাঁচায় রাখা হয় তাকে ব্রুডিং পেন বলে।

১৭. ব্রুডিং পেনের আয়তন কত?
• (২×২×২) ঘণফুট আয়তনে দুটি ছাগী ও সর্বোচ্চ ছয়টি বাচ্চা রাখা ভালো হবে।

১৮. ব্রুডিং পেনে কিভাবে পরিমিত তাপমাত্রা রক্ষা করা হয়?
• ১৫ ডিগ্রি সে.- এর নিচে নামলে খাঁচায় ১০০ ওয়াটের একটি বাল্ব জ্বালাতে হবে।

১৯. ছাগীকে গরীবের গাভী বলা হয় কেন?
• মাত্র কয়েকটি ছাগল থেকে একজন খামারী বা মহিলা সংসারের ব্যয়ভার মেটাতে পারেন বলে।

২০. ছাগলের দুধ অন্যান্য দুধের তুলনায় পাতলা হয় কেন?
• অপেক্ষাকৃত বেশি পানি এবং কম চর্বি থাকে বিধায়।

২১. ছাগলের দুধে বিশেষ কোন গুণ আছে কি?
• ঔষধী গুণ আছে বিশেষ করে গ্যাসট্রিক আলছার রোগীর জন্য ছাগলের দুধ বেশ উপকারী।

২২. পাঁঠার শরীরে খারাপ গন্ধ থাকে কেন?
• পাঁঠার শরীরে এবং ঘামে ক্যাপরোয়িক এসিড আছে যা প্রজননের মাধ্যমে ছাগীর শরীরে যায় এবং দুধের সাথে বের হয়।

২৩. ছাগলের মল কি কাজে লাগে?
• ছাগলের মল জমির সার হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

২৪. ছাগলের গায়ে চর্মরোগ দেখা দিলে কি করতে হবে?

• সুস্থ ছাগল থেকে আক্রান্ত ছাগলকে আলাদা রাখতে হবে এবং ১৫-৩০ দিন পরপর ০.৫% ম্যালাথিয়ন দ্রবণে ছাগলকে ডুবাতে হবে।

২৫. ছাগলের বাচ্চার ডায়রিয়া এবং নিউমোনিয়া হলে কি করতে হবে?
• মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর জন্য পরিচ্ছন্ন জায়গায় রেখে পরিমিত পরিমাণ দুধ এবং স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

২৬. দুধের পরিবর্তে ছাগলের বাচ্চাকে কি খাওয়ানো যেতে পারে?
• ফিডারের সাহায্যে ভাতের মাড় খাওয়ানো যেতে পারে।

২৭. ছাগলের চামড়ার গুণগত মান কিভাবে রক্ষা করা যায়?
• চর্মরোগ-মুক্ত রেখে নিয়মমত জবাই করে সাবধানে চামড়া ছাড়ানোর পর খুব তাড়াতাড়ি বিক্রি করতে হবে।

২৮. ছাগলের মাংসে কি কি গুণ আছে?
• কম-বেশি মাত্রায় প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টিগুণই বিদ্যমান।

২৯. দেশী ছাগলের খামার শুরু করতে কি কি সমস্যা হতে পারে?
• দেশী ছাগলের প্রকৃত জাতের অভাব, সস্তা দামের সুষম খাদ্যের অভাব, চারণ-ভূমির স্বল্পতা ও জৈব-নিরাপত্তার অভাব ইত্যাদি।  

৩০. পালের সব ছাগলকে এক সাথে রাখা ঠিক হবে কি?
• পালের সব ছাগলকে এক সাথে রাখা ঠিক হবে না তবে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সঠিক ও সুষম খাদ্য সরবরাহ করে দুগ্ধবতী, গর্ভবতী ও শুষ্ক ছাগলকে এক সাথে রাখা যেতে পারে।  

৩১. ছাগলকে দানাদার খাদ্য কি পরিমাণে দিতে হবে?
• গম, ভূট্টা, ভাঙ্গাঁ-চাল ১২%, গমের ভূষি ও কুঁড়া ৪৭%, যেকোন ভূষি ১৬%, খৈল ২১.৫%, খনিজ ২%, লবণ ১% এবং খাদ্যপ্রাণ ও খনিজ ০.৫% ।     

৩২. শালদুধ খাওয়ানোর উপকারিতা কি?
• শালদুধে ছাগলের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

৩৩. প্রতি ছাগলের শালদুধ থেকে কয়টি বাচ্চাকে খাওয়ানো সুবিধাজনক?
• দুটি বাচ্চাকে খাওয়ানো উত্তম।

৩৪. বেশি বাচ্চা হলে কি কি খাওয়াতে হবে?
• গাভীর দুধ ও ভাতের মাড় খাওয়ানো যেতে পারে।

৩৫. কত বয়সের বাচ্চাকে ঘাস খাওয়ানোর অভ্যাস করানো যেতে পারে?
• প্রথম সপ্তাহের পরপরই বাচ্চাকে ঘাস খাওয়ানোর অভ্যাস করানো দরকার।

৩৭. ঘাস খাওয়ার অভ্যাস করতে কতদিন সময় লাগবে?
• প্রায় ২৫-৩০ দিন।

৩৮. কি কি ঘাস খাওয়ানো যেতে পারে?
• কচি ঘাস, দূর্বা, সেচি, আরাইল্যা, মাশকালাই, খেসারী আর উন্নত কচি ঘাস হিসাবে নেপিয়ার, রোজি, প্লিকাটুলাম, এন্ড্রোপোগন, সেন্ট্রোসোমা ইত্যাদি ঘাস খাওয়ানো যেতে পারে।

৩৬. বয়স বাড়ার সাথে সাথে ছাগলকে কি পরিমাণ খাবার খাওয়াতে হবে?
• এক সপ্তাহ থেকে বার সপ্তাহ পর্যন্ত ২০০ গ্রাম থেকে শুরু করে প্রতি সপ্তাহে ৫০ গ্রাম ছাগলের দুধ খাওয়াতে হবে।

৩৭. ভাতের মাড় কি পরিমাণে খাওয়াতে হবে?
• দুই থেকে চার সপ্তাহে দুধের সাথে সামান্য পরিমাণে ভাতের মাড় এবং পাঁচ থেকে বার সপ্তাহের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত বাড়াতে হবে।

৩৮. কচি ঘাস কি পরিমাণে খাওয়াতে হবে?
• দুই থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত সামান্য পরিমাণে এবং পরবর্তীতে বার সপ্তাহ পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে কচি ঘাস খাওয়াতে হবে।   

৩৯. খাসী করানোর সময় কি ধরণের সতর্কতা গ্রহণ করতে হয়?
• অভিজ্ঞ ব্যক্তির দ্বারা খাসী করাতে হবে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে ভালো জীবাণুনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

৪০. সব বয়সের ছাগলের খাবার এক ধরণের হবে কি?
• না, প্রজনন ও মাংস-প্রদানকারী ছাগলের জন্য নিয়মমাফিক আলাদা আলাদা খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।                               

   

Leave a Comment

Your email address will not be published.