ছাগলের জাত সম্পর্কে ধারণা

15th January 2020 0 Comments


(১) যমুনা পাড়ী জাতের ছাগলের বৈশিষ্ট্যঃ

ভারতের এটোয়া জেলায় যমুনা পাড়ী ছাগলের উৎপত্তি। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ জাতের ছাগল পাওয়া যায়। এদের শরীরের রং সাদা, কালো, হলুদ বাদামী বা বিভিন্ন রঙয়ের সংমিশ্রণে হতে পারে। কান লম্বা ঝুলানো ও বাঁকা। পা খুব লম্বা এবং পিছনের পায়ের পেছন দিকে লম্বা লোম আছে। এরা অত্যন্তও কষ্ট সহিষ্ণু ও চঞ্চল। একটি পূর্ণ বয়স্ক পাঁঠার ওজন ৬০-৯০ কেজি এবং ছাগীর ওজন ৪০-৬০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। দৈনিক দুধ উৎপাদন ৩-৪ লিটার।

(২) ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের বৈশিষ্ট্যঃ

এটিই বাংলাদেশের একমাত্র জাত। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিম বঙ্গ ও আসামে এ জাতের ছাগলের দেখা যায়।

সাধারণত বৈশিষ্ট্যঃ গায়ের রং কালো তবে সাদা, সাদা কালো, খয়েরি কালো, খয়েরি ইত্যাদি হতে পারে। শরীরের আকার ছোট। গায়ের লোম মসৃণ ও ছোট। এদের কান ও শিং ছোট এবং ছাগীর তুলনায় পাঁঠার শিং তুলনামূলক বড়।

দুধ উৎপাদনঃ সাধারণত এ জাতের ছাগী দৈনিক ২০০-৩০০ মি. লি. দুধ দেয়, তবে উপযুক্ত খাদ্য ও উন্নত ব্যবস্থাপনায় ছাগী দৈনিক ১.০০ লিটার পর্যন্ত দুধ দিয়ে থাকে। এদের দুগ্ধ প্রদানকালে সাধারণত ২-৩ মাস।

মাংস উৎপাদনঃ ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের ড্রেসিং হার শতকরা ৪৫-৪৭ ভাগ। কিন্তু খাদ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য মাংসের পরিমাণ মোট ওজনের প্রায় ৫৫ ভাগ। এই জাতের ছগলের মাংস অত্যন্তও সুস্বাদু।

বাচ্চা উৎপাদনঃ সাধারণত ১২-১৫ মাস বয়সেই ছাগী প্রথম বাচ্চা দেয় প্রথমবার শতকরা ৮০ ভাগ ছাগী ১ টি করে বাচ্চা দেয়। তবে দ্বিতীয়বার থেকে অধিকাংশ ছাগী ২ টি করে বাচ্চা দিয়ে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে ৩/৪ টি করে বাচ্চা পাওয়া যায়। এ জাতের চামড়া বেশ উন্নত ও বিশ্বখ্যাত।

Leave a Comment

Your email address will not be published.