ক্যাপসিকামের পুষ্টিগুণ ও উপকারীতা

14th November 2019 0 Comments

পৃথিবীর অনেক দেশে অনেক আগে থেকেই ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ চাষ করা হয়। এর আরেক নাম বেল পিপার। লাল, সবুজ ও হলুদ বর্ণে পাওয়া যায় এই মিষ্টি মরিচ। বর্তমানে আমাদের দেশেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই ক্যাপসিকাম। তাই দেশীয় অন্যান্য সবজির পাশাপাশি ক্যাপসিকাম চাষও বাড়ছে আমাদের দেশে।
আমাদের বিভিন্ন খাবারে ক্যাপসিকাম থাকলেও আমরা কিন্তু অনেকেই হয়তো এর পুষ্টিগুণ এবং এটির উপকারীতা সম্পর্কে জানি না। আসুন তবে জেনে নিই ক্যাপসিকামের পুষ্টিগুণ এবং এর উপকারীতা সম্পর্কে।

পুষ্টিগুণঃ

দেখতে অনেক সাধারণ হলেও ক্যাপসিকামের পুষ্টিগুণ কিন্তু মোটেও সাধারণ নয়। দেখা গেছে প্রতি ১০০ গ্রাম ক্যাপসিকামে রয়েছে- ৮৬০ মিলিগ্রাম প্রোটিন ৪.৬০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ১.৭০ মিলিগ্রাম স্নেহ, ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ৩৭০ আইইউ ভিটামিন এ। এছাড়াও এতে আছে ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬, থায়ামিন, লেবোফ্লেবিস ও ফলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, জিংক, কপারের মত উপকারি সব উপাদান। যা নানাভাবে আমাদের দেহের জন্য ভীষণ উপকারী।

উপকারীতাঃ

১। ক্যাপসিকামে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। আর এই ভিটামিন সি আমাদের দেহে নানাভাবে উপকার করে থাকে। ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সহায়তা করে।ফলে আয়রনের অভাব দূর হয় এবং রক্তাল্পতার মতো রোগও প্রতিরোধ করে।  এছাড়াও ভিটামিন সি আমাদের ত্বক এবং চুলের জন্য অনেক উপকারী। এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দাঁত এবং দাঁতের মাড়ির সুরক্ষায় ভিটামিন সি অনেক উপকারী। এর ভিটামিন-এ ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, দৃষ্টিশক্তি সজাগ রাখতে সাহায্য করে।

২। সবুজ ক্যাপসিকামের আছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম । যা আমাদের পেশির সংকোচন-প্রসারণে সাহায্য করে।ক্যাপসিকামের ক্যাপসাইসিন উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রনে রাখতে সহায়তা করে । এছাড়াও এতে আছে লাইকোপেন নামক এক প্রকার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পিগমেন্ট । যা আমাদের স্তন ও প্রস্টেটের ক্যানসার রুখতে সাহায্য করে। লাল ক্যাপসিকামে থাকা জেক্সানথিন ও লুটেনের সাহায্যে চোখের ছানি প্রতিরোধ হয় এবং এটি পেশির ক্ষয় রুখতে সাহায্য করে।

৩।  ক্যাপসিকাম আমাদের অতিরিক্ত ওজন কমায়। কারণ এতে থাকা অ্যাক্টিভেটিং থার্মোজেনেসিস এবং হজম শক্তি উন্নত করার ক্ষমতা আমাদের তাড়াতাড়ি ওজন কমাতে সাহায্য করে। একই সাথে ক্যাপসিকাম আমাদের দেহের বাড়তি ক্যালরি পূরণ করে। এতে হাই ফ্যাট থেকে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায় ।ক্যাপসিকাম জুস আমাদের হজম সংক্রান্ত নানা সমস্যা ও পেটের বিভিন্ন রোগ যেমন ডায়রিয়া, গ্যাস, অ্যাসিডিটি দূর করে। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যায় ক্যাপসিকাম খুবই উপকারী। এটি পাকস্থলীর আলসার বা ক্ষত সারাতে সাহায্য করে।

৪। ক্যাপসিকামে আছে অ্যালকালোয়েড, ফ্লেবোনয়েড এবং ক্যানিনের মত উপকারী উপাদান। অ্যালকালোয়েড অ্যান্টি-ইনফ্লামেটোরি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ক্যানিন বিভিন্ন আন্ত্রিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।এছাড়াও ক্যাপসিকাম আমাদের যেকোনো ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। মাইগ্রেন, সাইনাস, ইনফেকশন, দাঁতে ব্যথা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস ইত্যাদি ব্যথা দূর করতে দ্রুত কাজ করে এটি। একই সাথে এটি আমাদের সি সিকনেস বা সমুদ্রে যাওয়ার কারণে  অসুস্থতা, ম্যালেরিয়া, জ্বর ইত্যাদি রোধে  বেশ কার্যকর।

৫। ক্যাপসিকামে রয়েছে লাইকোপেন। যা আমাদের বিভিন্ন কার্ডিওভ্যস্কুলার ডিজিস থেকে দূরে রাখে এবং হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে। এতে থাকা ভিটামিন কে আমাদের দেহের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে। ত্বক পরিষ্কার রাখতে ক্যাপসিকাম বেশ উপকারী। এটি ত্বকের র‍্যাশ ও ব্রণ প্রতিরোধ করে। এছাড়াও এটি বাতের ব্যাথা কমায়। এতে থাকা ভিটামিন-সি আমাদের কোলাজেন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যা আমাদের দেহের ত্বক ও হাড়ের সন্ধিকে পরিপোষণ করে।এছাড়াও এটি হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করে এবং কোষের ক্ষয় রোধ করে।

৬। ক্যাপসিকামে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি এবং বিটা ক্যারোটিন।  যা আমাদের দৃষ্টিশক্তির বিভিন্ন সমস্যা দূর করে এবং আমাদের দৃষ্টিশক্তি শক্তিশালী  করে। এতে থাকা ভিটামিন-এআমাদের চোখের জন্য বিশেষত রাত্রিকালীন দৃষ্টির জন্য ভাল। এছাড়াও এতে থাকা ক্যারোটেনয়েড বয়স জনিত দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা ম্যাকিউলার ডিজেনারাইজেশনের সম্ভাবনা অনেক কমিয়ে দেয়।

 

 

অনলাইনে বীজ কোথায় পাওয়া যায়ঃ

দোকানের পাশাপাশি এখন অনলাইনে বীজ কিনতে পারবেন। কিনতে নিচে বীজ লেখা লিঙ্কের উপর ক্লিক করুনঃ

 

বীজ

Leave a Comment

Your email address will not be published.