কোকোপিট

26th October 2019 0 Comments

পৃথিবীর উন্নত দেশ গুলোতে বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় বাগান করার জন্য অনেকেই মিডিয়াম বা মাটির বিকল্প হিসাবে কোকো পিট ব্যবহার করে থাকেন। ছাদ বাগান কিংবা বাণিজ্যিক চাষের জন্য কোকো পিট মাটির উন্নত বিকল্প। শুকনো নারেকেলের আঁশ বা কয়ার এর গুঁড়া হলো কোকো পিটের মূল উপাদান। এই উপাদানগুলকে হাইড্রোলিক মেশিনে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন সাইজ ও ওজনের ব্লক/পিট আকারে তৈরি করা হয়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণ কেন্দ্র যশোরের কর্মরত বিজ্ঞানীরা ২০০৮ সালে যশোর শহরতলীর চাচড়া এলাকায় কোকো ফাইবার মিল নামক কোম্পানির সহায়তায় নারিকেলের আঁশ তৈরি ও তুষ পচানোর ওপর এক গবেষণা পরিচালনা করেন। ওই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মাশরুমের বীজ ও চুন প্রয়োগ করে দ্রুত নারিকেলের তুষ পচানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। হাইড্রোলিক মেশিনে নারিকেলে তুষের ব্লক তৈরি করে তাতে চারা লাগানোর ওপরও বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেন।

নারিকেল থেকে জৈব সার তৈরিঃ 

নারিকেলের তুষ ফলের অংশ হওয়ায় গাছের বৃদ্ধির জন্য দরকারি সব পরিমাণ পুষ্টি বিশেষ করে পটাশিয়াম জাতীয় পদার্থ থাকে। পচানোর পর মাটিতে প্রয়োগ করলে মাটির পানি ধারণক্ষমতা ও অন্যান্য ভৌতিক গুণাবলি বৃদ্ধিসহ অনুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে দীর্ঘমেয়াদে গাছের পুষ্টি সরবরাহ ও বৃদ্ধি-সহায়তা প্রদান করে।  তাছাড়া নারিকেল থেকে তৈরি জৈব সারে আছে অনেক রকমের এনজাইম (Enzyme) ও কোষীয় পদার্থ যা শিকড় দিয়ে গাছের মধ্যে প্রবেশ করে ও গাছের রোগ প্রতিরোধ ও পোকার আক্রমণ প্রতিহত করার বাড়তি ক্ষমতা প্রদান করে। নারিকেল থেকে তৈরি জৈব সারে আছে ৬০-৭৫% জৈব পদার্থ, ০.৭৬/ নাইট্রোজেন, ০.৪% হারে ফসফরাস ও পটাশ, ০.২% সালফার ও ০.০০৪ বোরন।

 

কোকো পিটের সুবিধা সমুহঃ

১। কোকো পিটে আছে পানি ধরে রাখার অসাধারন ক্ষমতা। গাছের জন্য যতটুকু পানি দরকার ঠিক ততটুকু পানি এই কোকো পিট ধারন করে রাখে ফলে গাছের শিকড় বা মুলে পঁচন ধরে না।
২। কোকো পিট দিয়ে গাছ লাগালে ক্ষতিকারক পোকা মাকড় আসে না।
৩।  কোকো পিটে দ্রুত পানি ও বাতাস চলাচল করতে পারে ফলে গাছের শিকড় দ্রুত বাড়ে। গাছের শিকড় বাড়ার কারনে গাছও দ্রুত বাড়ে এবং সাস্থ্যবান হয়।
৪।  কোকো পিটে দ্রুত পানি ও বাতাস আসা যাওয়ার কারনে ক্ষতিকারক ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না।
৫।  কোকো পিটে রাসায়নিক সার মিশানো ছাড়াও চাষ করা যায়। শুধু মাত্র ভার্মি কম্পোষ্ট অথবা জৈব সার মিশিয়ে চাষ করা যায় ফলে রাসায়নিক মুক্ত সবজি, ফল, ফুল, অর্কিড ও অন্যান্য গাছ উৎপাদন করতে পারবেন।
৬। কোকো পিট মাটির তুলনায় পরিষ্কার ও পরিছন্ন ফলে যেখানে গাছ রাখবেন সেই যায়গা গুলো যেমন আপনার ঘর, বারান্দা ও ছাদ নোংরা হবে না সর্বসময় পরিষ্কার ও পরিছন্ন থাকবে।
৭।  কোকো পিটে বেড়ে উঠা গাছের ফল ও ফুল বড় ও পুষ্টিবান হয় এবং যার কারনে হাইড্রপোনিক্স বাগান মালিকেরা মাটি ব্যাবহার না করে কোকো পিট ব্যাবহার করে থাকেন।
৮।  কোকো পিট ১০০% জৈব উপাদান।
৯।  কোকো পিটে প্রাকৃতিকভাবে অপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাস প্রতিরোধী উপাদান বিদ্যমান থাকে।
১০।  কোকো পিটে প্রাকৃতিক মিনারেল থাকে যা উদ্ভিদের খাদ্য তৈরি এবং উপকারী অণুজীব সক্রিয় করার জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখে।
১১। কোকো পিট ph মান সঠিক পরিমানে ধরে রাখে।
১২। কোক পিটে পানি নিষ্কাশন খুব সহজেই হয়।
১৩। কোকো পিটে গাছের মৃত্যুহার খুব কম।
১৪। বীজতলা ও বীজ জার্মিনেশন এর এক অসাধারন মাধ্যম এই কোকো পিট।
১৫। হাইড্রপোনিক্স চাষাবাদ এর জন্য অন্যতম মাধ্যম।
১৬। কোকো পিট মাটির তুলনায় ওজনে অনেক গুন হালকা তাই গাছের টব বা পাত্র সহজে বহন করা যায়। আর ছাদের উপর অতিরিক্ত চাপও পড়েনা।

 

ফসল উৎপাদন করে থাকেঃ

 কোকোপিট দিয়ে টবে গাছপালা লাগালে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং পানি দিলে টবের ভেতর কখনও জলাবদ্ধতা তৈরি হয় না, পানি সাথে সাথে দ্রুত সব জায়গাতে ছড়িয়ে দেয় এবং নির্দিষ্ট পরিমাণমতো পানি ধরে রেখে গাছকে সতেজ রাখে  এবং কখনও পানি আবদ্ধ হয়ে গাছ মারা যায় না।

নিত্য প্রয়োজনীয় সব চাহিদার জোগান দিলেও আমাদের দেশে নারিকেল অনেকটা অবহেলিত রয়ে গেছে। নারিকেল গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে নারিকেলের ফলন ও উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। একই সাথে নার্সারির চারা তৈরি কলম লাগানোর ক্ষেত্রে কোকোডাস্ট নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। একে কাজে লাগিয়ে কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।

 

অনলাইনে জৈব সার কোথায় পাওয়া যায়ঃ

দোকানের পাশাপাশি জৈব সার এখন কিনতে পারবেন অনলাইনে। কিনতে ক্লিক করুন নিচে দেয়া  জৈব সার লেখার উপর।

 

জৈব সার

Leave a Comment

Your email address will not be published.