কাতল মাছ

8th January 2020 0 Comments

বাংলাদেশের বহুল পরিচিত মাছের মধ্যে কাতলা বা কাতল অন্যতম, যার বৈজ্ঞানিক নাম Catla catla । দেশী রুই জাতীয় মাছের মধ্যে তুলনামূলক বৃহৎ আকৃতির মাথা ও মুখ আর প্রশস্থ দেহ এই মাছকে সহজেই অন্য মাছ থেকে আলাদা করে দেয়। উজ্জল ধুসর বর্ণের পৃষ্ঠদেশ ক্রমেই উভয় পাশে ও অঙ্কীয়দিকে রুপালি-সাদা বর্ণ ধারণ করেছে। ছাই-কালো বর্ণের পাখনার এই মাছের আঁইশও তুলনামূলক বড়। সাধারণত জলাশয়ের মধ্য ও উপরের স্তরে থাকতে পছন্দ করে এবং ক্রাসটেসিয়া, শৈবাল ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ এদের প্রধান খাবার। দুই বছরেই এরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে। বর্ষাকালে প্লাবিত নদীতে (বিশেষত জলজ উদ্ভিদময় স্থানে) প্রজনন করে থাকে। এক প্রজনন ঋতুতে একটি মা মাছ প্রায় পনের থেকে ছাব্বিশ লক্ষ ডিম দিয়ে থাকে যা মাছের বয়স, দৈর্ঘ্য ও ওজনের এবং ডিম্বাশয়ের দৈর্ঘ্য ও ওজনের উপর নির্ভর করে কমবেশি হতে পারে।

বিস্তৃতি
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও মায়ানমার অঞ্চলে পাওয়া যায়। ভারতের সমুদ্রবেষ্টিত দ্বীপের নদীতে শ্রীলঙ্কা এবং চীনে এদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এটি নদী, পুকুর, বিল, হাওর, বাওর ইত্যাদি জলাশয়ের উপরিস্তরে বসবাসকারী মিষ্টি জলের মাছ।

খাদ্য
সাধারণত জলাশয়ের মধ্য ও উপরের স্তরে থাকতে পছন্দ করে এবং ক্রাসটেসিয়া, শৈবাল ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ এদের প্রধান খাবার।

চাষ পদ্ধতি
কাতল মাছের চাষ পদ্ধতি খুব সহজ। রুই জাতীয় অন্যান্য মাছের সাথে এই মাছ সহজেই চাষ করা যায়।

রন্ধনপ্রণালী
ভাজা, ঝোল জনপ্রিয়। মাথা বড় বলে মুড়িঘণ্টর জন্য বেশ উপযোগী।

বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থা এবং সংরক্ষণ
আইইউসিএন বাংলাদেশ (২০০০) এর লাল তালিকা অনুযায়ী এই প্রজাতিটি বাংলাদেশে হুমকির সম্মুখীন নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.