কাঁঠালীচাঁপা

10th December 2019 0 Comments

কাঁঠালীচাঁপা কড়া সুবাসযুক্ত এ ফুলটি চিনি আমরা কম-বেশি সবাই। বর্ষাকালে কাঁঠালের গন্ধ ছড়িয়ে মানুষকে দ্বিধান্বিত করাই এ ফুলের কাজ! ফুল কাঁঠালীচাঁপা কাঁঠালচাঁপা নামেও পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম Artabotrys odoratissimus। পরিবার Annonaceae, রাজ্য Plantae। আদি নিবাস ইন্দো-মালয়।  কাঁঠালের মতো সুবাস ছড়ানোর কারণেই সবুজাভ হলুদ রঙের এই ফুলটির নাম হয়েছে কাঁঠালীচাঁপা।

কাঁঠালীচাঁপা লতানো গুল্ম। আকারে হয় বিশাল। নিয়মিত ছেঁটে রাখতে হয়। ছোট বাগানের জন্য উপযোগী নয় কাঁঠালচাঁপা, তবে সুন্দর করে ছেঁটে রাখলে ছোট বাগানেও লাগানো যায়। গাছ বড় হলে নুয়ে পড়ে, তবে ছোট করে ছেঁটে রাখলে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। ছোট ডালগুলো কাঁটায় রূপান্তরিত হতে পারে।  কাঁঠালচাঁপার পাতা সবুজ। অপরিণত অবস্থায় সবুজাভ রং থাকে কাঁঠালীচাঁপা ফুলের। পরিণত হলে রং হয় স্বর্ণালী হলুদ। ফুলের পাপড়ি ৬টি, বোঁটা বাঁকা, গড়ন আঁকশির মতো।
ফল গুচ্ছবদ্ধ ও গোলাকার। দেখতে দেখায় আঙুরের থোকার মতো। পাকলে খেতে মিষ্টি হয়। পাখির প্রিয় খাদ্য কাঁঠালীচাঁপার ফল।
কাঁঠালীচাঁপা কষ্টসহিষ্ণু গাছ। সেজন্য রোদ-বৃষ্টি ছাড়াও বেঁচে থাকতে পারে। তাই ঘরের ভেতরে টবেও লাগানো হয় এ গাছ। বনসাই করার জন্য উপযুক্ত গাছ কাঁঠালচাঁপা। লতানো উদ্ভিদ বলে ইচ্ছেমতো আকার দেওয়া যায়। ঘরের ভেতরে ছায়ায় বেঁচে থাকতে পারলেও সেভাবে রাখলে ফুল ফোটে না কাঁঠালচাঁপায়। ফুল ফোটার জন্য বৃষ্টির প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই পাওয়া যায় কাঁঠালীচাঁপা। তবে এদেশে এই উদ্ভিদটি অবহেলিত। গাছ সহজলভ্য হলেও ফুল সহজে চোখে পড়ে না। মূলত বর্ষার ফুল কাঁঠালীচাঁপা। গ্রীষ্ম ও বর্ষা দুই ঋতুতেই পাওয়া যায়। তবে অন্যান্য সময়েও দু-একটি কাঁঠালীচাঁপার দেখা মেলে।  এই গাছের ভেষজ গুনাগুন রয়েছে।

উপকারিতাঃ

১। কাঁঠালীচাঁপার ফুল শুকিয়ে গুঁড়ো করে হালকা গরম পানির সাথে মিশিয়ে খেলে রক্তের সমস্যা ভালো হয়।

২। হৃদজনিত সমস্যা দেখা দিলে কাঁঠালীচাঁপার ফুল শুকিয়ে গুঁড়ো করে হালকা গরম পানির সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৩। কাঁঠালীচাঁপার গাছের শিকড় সিদ্ধ করে এই ক্বাথ খেলে কাশি কমে যাবে।

৪। নাসা রোগ হলে নাক বন্ধ হয়ে যায়। এরকম সমস্যা দেখা দিলে কাঁঠালীচাঁপার ফুল শুকিয়ে গুঁড়ো করে গরম পানির সাথে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.