হলুদের অপর নাম বর্ণবতী। বলবর্ধক, রক্তপরিষ্কারক, পিত্তনাশক, দাহ-নিবারক এ মসলা গুণের কারণে বিভিন্ন নামে পরিচিত, যেমন কাঞ্চনী, পীত, বরবর্ণিলী, যোষিৎপ্রিয়া ও বর্ণবিধায়িনী। এতে আছে কফ, বাত, পিত্ত, ব্রণ, চর্মরোগ, শোথ, পাণ্ডু, কৃমি, প্রমেহ, অরুচি, উদরী ও বিষদোষ প্রশমন করার ক্ষমতা। প্রাচীনকাল থেকে এটি ঘরোয়া ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এটি ভারতবর্ষে আয়ুর্বেদ ও হেকমিতে ব্যবহৃত। এটি ভেষজ ছাড়াও বর্ণ, রুচি ও দিপ্তির জন্য উপকারী হিসেবে চিহ্নিত। আর আজকের লেখাতে থাকছে কাঁচা হলুদের ৫ টি গুনের কথা যা হয়ত আপনাদের অজানা।

(১) খাদ্য সংক্রমণ থেকে বাঁচায়:

হলুদে থাকা কারকিউমিনের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদান থাকায় তা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে খাদ্যনালীকে বাঁচায়। আমরা রোজ যে খাবার খাই, তার মধ্যে অনেকসময়ই নানা জীবাণু থেকে যেতে পারে। খাবারে কাঁচা হলুদ বা হলুদ গুঁড়া ব্যবহার করলে তা খাদ্যনালীকে ক্ষতিকারক জীবাণুর সংক্রমণ থেকে বাঁচায় ও খাদ্যনালীর প্রদাহের সম্ভাবনা কমায়।

(২) ট্রমাটিক ডিসঅর্ডার কমাতে সাহায্য করে:

ট্রমাটিক ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে যেসব খারাপ ও ভীতিজনক স্মৃতি থাকে, হলুদে থাকা কারকিউমিন তা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া কাঁচা হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ স্ট্রেস বা চাপ, উদ্বেগ থেকে আমাদের মুক্তি দেয়।

(৩) হাড়ের ক্ষয় রোধ করে:

কাঁচা হলুদে থাকা কারকিউমিন হাড়ের ক্ষয় ও হাড়ের গঠনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখে ও হাড়কে সুস্থ ও মজবুত রাখে। মেনোপজের সময় মহিলাদের যে হাড়ের ক্ষয় হয়, তা থেকেও কাঁচা হলুদ আমাদের বাঁচায়।

(৪) খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে:

কাঁচা হলুদের মধ্যে গ্যাস্ট্রো-প্রটেক্টিভ কিছু গুণ থাকে যা খাবার পরিপাকে সাহায্য করে। ফলে হজমের গোলমাল, গ্যাসের সমস্যার ক্ষেত্রে কাঁচা হলুদ খুবই উপকার দেয়।

 

(৫) হাড় জোড়া লাগাতে সাহায্য করে:

হাত বা পা মচকে গেলে চুন-হলুদ লাগানোর কথা তো আমরা সবাইই জানি। এছাড়া কাঁচা হলুদ বেটে ভাঙ্গা হাড়ের জায়গায় লাগালে তা উপকার দেয়। দুধে কাঁচা হলুদ দিয়ে খেলেও তা এক্ষেত্রে উপকার দেয়। হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ ব্যথা, প্রদাহকে কমায় এবং হাড়ের টিস্যুগুলিকে রক্ষা করে ও ভাঙা হাড় জোড়া লাগতে সাহায্য করে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *