করলা বীজ

করলা বীজ
28th September 2019 0 Comments

করলা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সবজি। স্বাদে তিক্ত হলেও বাংলাদেশের সকলের নিকট এটি প্রিয় সবজি হিসেবে পরিচিত।উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় করলা ভাল জন্মে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে পরাগায়ন বিঘ্নিত হতে পারে। সব রকম মাটিতেই করলার চাষ করা যেতে পারে। জৈব সার সমৃদ্ধ দো-আঁশ বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভাল জন্মে।

 করলার বিভিন্ন জাতের বীজ

ফসল চাষের জন্য আমরা বিভিন্ন নাম ও গুনাগুন সম্বলিত বীজ ব্যবহার করে থাকি। ভাল ফলন পেতে হলে এ ধরণের বীজ সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকা দরকার।যেমন-

মৌল বা প্রজনন বীজ, ভিত্তি বীজ, প্রত্যায়িত বীজ, মানঘোষিত বীজ উচ্চ ফলনশীল বীজ উন্নত বীজ হাইব্রিড বীজ ইত্যাদি নানা ধরনের বীজ এদেশে চাষ করা হয়ে থাকে।

মৌলবাপ্রজনন বীজ

উদ্ভিদ প্রজননের নিয়ম কানুন পালন করে প্রজননকারী বিজ্ঞানী দীর্ঘ দিনের পরীক্ষা নিরীক্ষার পর যখন কোন একটি শস্যের জাতকে খুব ভাল মনে করেন তখন সে শস্যের বীজকে প্রজনন বীজ বলা হয়। বীজ উদ্ভাবন বা অবমুক্তায়নকারী প্রতিষ্ঠান সাধারণত  সীমিত  পরিমানে এ ধরণের বীজ উৎপাদন করে থাকে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীর তত্বাবধানে উক্ত ফসলের প্রকৃত গুনাগুন বজায় রেখে এ বীজ উৎপাদন করা হয় এবং ভিত্তি বীজ উৎপাদনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে মৌলবীজ প্রদান করা হয়। এ ধরণের বীজ সাধারন বাজারে সরবরাহ করা হয় না।

  ভিত্তি বীজ

মৌল বীজ বা প্রজনন বীজ হতে উৎপন্ন বীজকে ভিত্তি বীজ বলা হয়। এ ধরনের বীজ উৎপাদনের সময়ও উদ্ভিদ প্রজননের সকল নিয়ম ও সতর্কতা পালন করা হয়। ফলে এ বীজের আদিগুন ও বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। ভিত্তি বীজ    নিয়ন্ত্রিত ভাবে উৎপাদন করা হয় এবং সাধারণত বাজারে বা কৃষকদের কাছে সরাসরি বিক্রয় করা হয় না। প্রত্যায়িত বীজ   উৎপাদনকারীদের নিকট এ বীজ সরবরাহ করা হয়।

প্রত্যায়িত বীজ

ভিত্তি বীজকে ক্রমান্বয়ে খুব বেশী পরিমানে বৃদ্ধি করলে যে বীজ পাওয়া যায় তাকে প্রত্যায়িত বীজ বলা হয়। প্রত্যায়িত বীজ মানেই সার্টিফিকেট প্রাপ্ত বীজ। বীজের মান পরীক্ষা করে সরকারীভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান  এ সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে। প্রত্যায়িত বীজ উচ্চ  মানসম্পন্ন বীজ হিসেবে পরিচিত অর্থাৎ বীজের গজানোর ক্ষমতা, বিশুদ্ধতা এ সব গুনাগুন পরীক্ষিত এবং নির্দিষ্ট মানসম্পন্ন।

মানঘোষিত বীজ

বাংলাদেশের বীজ বিধিতে উপরোক্ত বীজ সমূহ (মৌল, ভিত্তি, প্রত্যায়িত) ছাড়াও এ মানঘোষিত বীজ বিপননের অনুমোদন দেয়া আছে। মানঘোষিত বীজ বিক্রয় করতে চাইলে প্যাকেটের গায়ে বীজের মানের উল্লেখ  থাকতে হবে। ঘোষিত মান অপেক্ষা প্যাকেটের বীজের মান খারাপ হলে শাস্তি- প্রদানের বিধান রয়েছে।

উচ্চফলনশীল বীজ

উচ্চফলনশীল কথাটি সংক্ষেপে উফশী নামেও পরিচিত। এই ধরনের বীজ উচ্চ বা বেশী ফলন দেয়। তবে উফশী শব্দ দিয়ে বীজের অন্যান্য গুন যেমন- গজানোর ক্ষমতা, বিশুদ্ধতা এসব বোঝানো হয় না।

উন্নত বীজ

স্থানীয় জাতের মধ্য থেকে বেছে ভালো গুণসম্পন্ন জাত বের করে ওই জাতের উন্নত বীজ পাওয়া যায়। উন্নত বীজ বলতে অধিক গজানোর ক্ষমতাসম্পন্ন , বিশুদ্ধ, রোগ ও পোকার আক্রমণের মাত্রা কম ইত্যাদি ভালো গুণের বীজকে বোঝায়।

 হাইব্রিড বীজ

একই ফসলের এক জাতের পুরুষ ও অন্য জাতের স্ত্রী ফুলের মিলনে যে সব নতুন জাত পাওয়া যায় তার মধ্যে কোন কোনটি তাদের বাবা-মা এর ভালগুনাবলী থেকেও উন্নত। এ ধরণের বীজকে হাইব্রিড বীজ বলা হয়। তবে হাইব্রিড বলতেই যে উন্নতমানের বীজ হবে তা নয়। হাইব্রিড বীজ চাষাবাদ করে অধিক ফলন পাওয়া গেলেও তা থেকে পরবর্তী মৌসুমে চাষ করার জন্য বীজ রাখা যাবে না। প্রতি বছরই নতুন হাইব্রিড বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য

১।কৌলিতাত্ত্বিক বিশুদ্ধতা

২। মিশ্রণ মুক্ততা

৩।রোগ ও কীটপতঙ্গ মুক্ততা

৪।অংকুরোদগম ক্ষমতা

৫. বীজের আর্দ্রতা

৬. বীজের আকার-আকৃতি ইত্যাদি ভাল মানের হবে।

 

 

অনলাইনে বীজ কোথায় পাওয়া যায়ঃ

দোকানের পাশাপাশি এখন অনলাইনে বীজ কিনতে পারবেন। কিনতে নিচে বীজ লেখা লিঙ্কের উপর ক্লিক করুনঃ

 

বীজ

Leave a Comment

Your email address will not be published.