উষনি শাক

29th October 2019 0 Comments

 স্থানীয় নাম :

বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকায় এই কুড়িয়ে পাওয়া শাকটির তেমন কোনো একক নাম নেই যে নামে সবাই একে চিনতে পারে।  দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয়দের ভেতর এই শাকটি উষনি শাক নামে পরিচিত। ময়মনসিংহের হাজং আদিবাসীরা এই শাকটিকে কালানাগুনি, উখলিপাতা নামে ডাকেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমাদের ভেতর অতি প্রিয় এই শাক ওজোন শাক নামে পরিচিত। মৌলভীবাজারের ওঁরাও আদিবাসীদের ভেতর শাকটি দুরুখ বাকু নামে পরিচিত।

ব্যবহার:

মূলত: পাতা শাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কোথায় পাওয়া যায় :

উষনি শাক বাড়ীর আশে পাশের পতিত জায়গায়, বাঁশ ঝাড়ের আশেপাশে, স্যাঁতস্যাতে জায়গায়, কলার বাগানের ঝোপ ঝাড়ে পাওয়া যায়। পাহাড়ি এলাকায় জুমের জমিতে এই শাক বেশী দেখা যায়। যেখানে জন্মে সেখানেই বিস্তৃতি দেখা যায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এই শাকের বিভিন্ন নাম আছে।

 

দেখতে কেমন :

Asteraceae পরিবারভূক্ত সপুষ্পক এই উদ্ভিদের এক ধরনের ঝাঁঝালো গন্ধ বের হয়। এই শাক মাটি থেকে বারো আঙ্গুল প্রস্হ হয়। এর পাতার রং সবুজ যা আকৃতিতে চিকন লম্বাটে হয়ে থাকে। এর ফুলের রং হলুদ যা আকারে খুব ছোট ছোট হয়। ফুল থেকে খয়েরী রংয়ের দানা দানা বীজ হয়। উষনি শাক কিছুটা ঝাঁঝালো স্বাদের হয়। বর্ষাকালে গাছের আকার বেশ বড়সড় হয় এবং পাতায় ঝাঁঝালো গন্ধ ও স্বাদ কম থাকে। শীতকালে গাছের আকার ছোট ও চিকন হয়ে যায় এবং শীতকালে ডালপালা অনেক চিকন হয়ে যায়। প্রাকৃতিক পরিবেশে এমনিতেই জন্মানো এই শাক চাষ করার কোনো ঘটনা জানা যায় না। সাধারনত: বীজের মাধ্যমেই প্রাকৃতিকভাবে এর অংকুরোদগম ঘটে।

কখন পাওয়া যায় :

প্রায় সারা বছরই দেখা যায়। পাহাড়ি এলাকায় জুমে ফসল বোনার পর পরই কচি চারা গুলো গজিয়ে উঠে এবং কচি শাক খেতে ভাল।

কিভাবে খাওয়া যায় :

শাক তোলার পর তাজা শাক ভাল করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এই শাক অন্যান্য শাকের মত তেল, মরিচ, পেয়াজ, লবন দিয়ে ভেজে খাওয়া হয়। এলাকাভেদে রান্নায় হলুদ-মরিচ বা অন্য মশলা স্বাদ মতো মেশানো যেতে পারে। চাকমা আদিবাসীরা নাপ্পি নামের একধরনের শুঁটকি দিয়ে রান্না করে এই শাক খেয়ে থাকেন।

 

উষনি শাকের ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে চলুন এক নজরে সেগুলো দেখে নেওয়া যাকঃ

 

১। শরীরে বিষ ব্যাথা হলে উষনি শাক খেলে উপকার পাওয়া যায়।

২। উষনি শাক আতুঁর ঘরে সন্তান প্রসবের পরে মাকে খাওয়ালে শরীরের ব্যাথা কমে যায়।

৩। দাঁত ব্যাথা হলে উষনি শাকের ফুলের রস ব্যবহার করলে ব্যথা দ্রুত ভালো হয়।

৪। উষনি শাক মূত্রবর্ধক, তাই শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল ও বিষাক্তদ্রব্যাদি দূর করতে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৫। উষনি শাকে শক্তিশালী প্রদাহবিরোধী(anti-inflammatory) ক্ষমতা বাত ও টিস্যুর প্রদাহ কমাতে দারুন কার্যকরী।

৬। উষনি শাক খেলে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৭। নিয়মিত উষনি শাক খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.