আমরুল ছোট ছোট সরু লতানো উদ্ভিদ। এটি মাটিতেই প্রসারিত হয়। আম (অপক্ক দ্রব্য), রুক্ষ বা রোগ নাশ করে বলে একে কোথাও কোথাও আমরুক বলে। পাতায় তিনটি হৃদপিন্ড আকারের টক পাতা থাকে বলে একে চুকাত্রিপতীও বলা হয়ে থাকে। কোথাও কোথাও এটিকে আম্বলী শাকও বলা হয়ে থাকে। সাধারণত এটি বাড়ীর আনাচে কানাচে ও জমিতে এবং ভাঙ্গা বাড়ীর গায়ে দেখা যায়। শিকড় থেকে গুচ্ছাবদ্ধভাবে প্রায়ই ৪টি করে লম্বা দন্ডের মাথায় তিনটি পাতা বিশিষ্ট পাতা ছাতার ন্যায় গজায়। ডাঁটার গোড়া থেকে গজানো লম্বা দন্ডের মাথায় ছোট ছোট হলুদ রং-এর ফুল হয়। ফল আকারে যবের মতো। প্রতিটি ফলের মধ্যে ছোট ছোট অনেক বীজ থাকে।

 

রাসায়নিক উপাদানঃ

আমরুল শাক পুরো অংশ শাক হিসেবে খাওয়া যায়। এই শাকের পাতায় প্রচুর ভিটামিন-সি, ক্যারেটিন, ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম রয়েছে। পাতা এবং কান্ডের ভেতর ট্রাট্রেটিক, সাইট্রিক এসিড, এবং ম্যাইলিক এসিড রয়েছে।

উপকারিতাঃ

১। আম রোগ হলে এই গাছের পাতা বেটে লাগালে এবং এর রস খেলে উপকার পাওয়া যায়।

২।  আমরুল টাটকা পাতার রস ধুতরার মাদকতা নিবারণ করে এবং রক্ত আমাশয় ভালো করে।

৩। আমরুল রস জ্বর নাশক। তাই জ্বর হলে এর রস খেলে জ্বর দ্রুত ভালো হয়।

৪। আমরুল শাক রান্না করে খেলে ক্ষুধা বৃদ্ধি হয়। এটি হজমীকারক।

৫। কোনো স্থানে ফোঁড়ায় যন্ত্রনা হলে আমরুলের পাতা বেটে প্রলেপ দিলে যন্ত্রণা লাঘব হয়। পাতা গরম পানিতে বেটে ফোঁড়ায় পুলটিস দিলে ফোঁড়া ফেটে যায়।

৬। বিছা কামড়ালে আমরুলের পাতার রস যন্ত্রনা ভালো হয়।

৭। শরীরের কোন স্হানে ব্যথা হলে এর পাতা বেটে সেই স্থানে প্রলেপ দিলে প্রদাহ যন্ত্রণা কমে যায়।

৮।  পুরাতন আমাশয় রোগে মাখন তোলা দুধের সাথে আমরুল পাতা সিদ্ধ করে দিনে খেলে উপকার হয়।

৯।  মুখের দূর্গন্ধনাশ ও দাঁত শোধনের জন্য আমরুল ব্যবহৃত হয়।

১০। আমরুল পাতার রস অল্প চিনির সাথে মিশিয়ে সরবতের মতো খেলে আমাশয় রোগজনিত পিপাসার শান্তি হয়।

১১। শিশুদের সর্দি বুকে বসে গেলে অথবা অল্প কাশি হলে মূলসহ আমরুল পাতার এক চা-চামচ রস গরম করে দিনে খাওয়ালে জমা সর্দি উঠে যায়। সরিষার তেলের সাথে আমরুলের রস মিশিয়ে গরম করে বুকে-পিঠে মালিশ করলে আরও ভালো হয়।

১২। অনেকে টক খেতে ভালোবাসেন, কিন্তু খেলে অম্ল হয়। এক্ষেত্রে আমরুল ব্যবহার শ্রেয়। কারণ এতে আছে অম্ল, মধুর ও কষায় এ তিনটি রসের সমন্বয়। তাই আমরুল অম্লপিত্ত রোগ না বাড়িয়ে অতৃপ্ত রুচিকে তৃপ্ত করে।

১৩।  গায়ে চুলকানি অনেক সময় পাঁচড়া হয়ে যায়। মনে হয় যেন দাদ হয়েছে। এমন ক্ষেত্রে আমরুল পাতার রস গায়ে মাখলে উপশম হয়।

১৪। মূত্রগ্রহ রোগ হলে-অর্থাৎ প্রস্রাবের বেগ হয় কিন্তু প্রস্রাব হয় না। অনেক ক্ষেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন পরে। আমরুল পাতার রস প্রতিদিন পানি মিশিয়ে খেলে দ্রুত ভালো হয়।

১৫। সাধারণত অনেকের টক জাতীয় কিছু খুব খেতে ইচ্ছে হয় কিন্তু খেতে গেলেই আর খাওয়া যায়না। সাধারণত এই সব ক্ষেত্রে আমরুল শাক খেলে টকের রুচি ফিরে আসে।

১৬। সরিষার তেলে আমরুলের রস মিশিয়ে গরম করে অথবা রোদে দিয়ে ওই তেল বুকে ও পিঠে মালিশ করলে সর্দিতে উপকার পাওয়া যায়।

১৭।  রাতে ঘুম কম হলে আমরুল পাতার রস করে খেলে ঘুম হবে এবং মাথা ঠাণ্ডা থাকবে।

১৮।  আমরুল পাতা ছেঁচে গরম পানিতে সিদ্ধ করে রসুন রসের সাথে মিশিয়ে মাথায় লাগালে পিত্তজনিত মাথাধরা ভালো হয়ে।

১৯। হাঁপানি হলে শ্বাস কষ্ট হয়। সেই সময় এই পাতার রস করে এক কাপ পরিমাণ খেলে ভাল উপকার পাওয়া যায়।

২০।  উচ্চরক্তচাপ হলে আমরুল পাতার রস আখের গুড় দিয়ে শরবত করে প্রতিদিন সকালে খেলে ভাল উপকার পাওয়া যায়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *