আমরম্নল

14th March 2020 0 Comments

আমরম্নল আমাদের দেশে শাক নামেই পরিচিত। এটা লৌকিক নাম। মূল নাম হলো চাঙ্গেরি। মনে হয় মূল নামটি প্রাক-আর্য কোন শব্দ থেকে উৎপন্ন। বাংলাদেশের বহু গ্রামেই অজ্ঞাতে, অস্থানে আমরম্নল জন্মায়। মুখ্যত তিনটি প্রজাতির গাছই বেশি দেখা যায়।


কি করে চিনবেন
বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এই শাক জন্মায়। মাটির বুক বেয়ে ওঠে ছোট ছোট উদ্ভিদ, চেহারায় সরম্ন এবং লতানো। অনেক সময় শুষনি শাকের সঙ্গে গুলিয়ে যায়। শুষনির ডাঁটির মাথায় থাকে। দুটি পাতা, কিন্তু আমরম্নলের তিনটি। শুষনি স্বাদে টক নয়, কিন্তু আমরম্নল তিক্ত; কষায় স্বাদযুক্ত। ডাঁটাগুলো ৩-৪ ইঞ্চি লম্বা হয়। চওড়ায় মোটা সুতোর মতো। ডাঁটার গোড়া থেকে ফুল বের হয়। ছোট হলুদ রঙের ফুল। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ফুল ও ফল হয়।


কি করে গাছ বসাবেন
আমরম্নল নেহাতই বুনো গাছ। প্রায়শই দেখা যায়, পোড়ো জমি ও বাড়ির আনাচে-কানাচে আমরম্নল ফলে আছে। ছোট ছোট যবের মতো ফল ধরে, যার ভেতরে থাকে বহুসংখ্যক বীজ। সেই বীজ ছড়িয়ে বা সরাসরি লতা বসিয়ে চওড়া, চ্যাটালো পাত্রে গাছ করম্নন। প্রচুর আলো- হাওয়াযুক্ত বারান্দায় হ্যাংগিং পস্ন্যান্ট হিসেবেও আমরম্নল রাখতে পাবেন। দেখতে ভালই লাগবে। আর সেরকম কোন যত্নেরই প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত পানিটুকু দিলেই হলো। আর মাটি জমি থেকে তুলে নিন।

ব্যবহার
বাচ্চাদের বুকে মাঝে মাঝেই এমনভাবে সর্দি বসে যায় যে বহু চেষ্টাতেও বুক পরিষ্কার হয় না। সঙ্গে যদি কাশিও থাকে, তবে একবেলা অথবা প্রয়োজনবোধে দুবেলা আমরম্নলের রস এক চা চামচ পরিমাণে সামান্য গরম করে শিশুকে খাওয়ালে দ্রম্নত উপকার পাওয়া যায়। বসা সর্দিও উঠে আসে। অনেকে অবশ্য সরষের তেলে আমরম্নলের রস মিশিয়ে গরম করে বা রোদে তাতিয়ে নিয়ে শিশুর বুকে-পিঠে মালিশ করেন। এটিও স্বীকৃত পন্থা। অনেক সময় কটিদেশে হাড়ের ব্যথা হয় সে ৰেত্রে আমরম্নল শাকের রস একটু গরম করে দুবেলা দু’চামচ করে খেলে দ্রম্নত উপকার পাওয়া যায়। তবে আমরম্নলের শ্রেষ্ঠ ব্যবহার অমস্নপিত্ত বা অম্বলের উপশমে।
টক ছুঁতে যারা ভয় পান, তারাও নির্ভয়ে আমরম্নল শাক খেতে পারেন, পেট সুস্থ রাখার এ এক আশ্চর্য দাওয়াই।

Leave a Comment

Your email address will not be published.