আধুনিক পদ্ধতিতে বেগুন চাষ

আধুনিক পদ্ধতিতে বেগুন চাষ
24th September 2019 0 Comments

বেগুন

বেগুন এক প্রকারের ফল যা সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।বেগুন গাছ প্রায় ৪০ থেকে ১৫০ সেমি দীর্ঘ হয়। পাতাগুলো ঘন এবং প্রায় ১০ থেকে ২০ সেমি দীর্ঘ ও ৫ থেকে ১০সেমি প্রশস্ত হয়। বুনো বেগুন গাছ  আরো বড় হতে পারে। বেগুনের ফুল  সাদা হতে গোলাপী বর্নের হয়। পাঁচটি পাপড়ি  থাকে। বেগুনের ফল বেগুনী  বা সাদা বর্ণের হয়। ফল অনেকটা লম্বাটে নলাকৃতির হয়ে থাকে। ফলের ভিতরে অনেকগুলো নরম বীজ থাকে।

 

বেগুনের জাত

বেগুন সারা বছর ধরে চাষ করা হলেও সব জাত সব সময় হয় না। বেগুন বাংলাদেশের স্থানীয় ফসল হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের চাষ হয়। শীতকালীন জাতগুলো আলাদা। এসব জাত কেবল শীতের সময়ই ভালো ফলন দেয়। আমাদের দেশের স্থানীয় জাতসমুহ হল- ইসলামপুরী(ময়মানসিংহ), নয়নকাজল(যশোর), সাহেব বেগুন(পটুয়াখালী), খটখটিয়া(ময়মানসিংহ), উত্তরা(রংপুর), রাখাইন বেগুন (পটুয়াখালী ও বরগুনা), প্লাস্টিক বেগুন(বেগুন), মাকড়া(যশোর), উত্তরা(সারাদেশ) ইত্যাদি। বর্তমানে অধিক ফলনশীল বেশকিছু হাইব্রিড জাত আছে তাঁর মধ্যে অন্যতম হল গালিভার, গ্রীনবল-১, শুকতারা, কাজলা এক্সট্রা লং, হীরা ইত্যাদি।

 

মাটি ও জলবায়ু

সাধারণত বেগুন ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ভালো ফলন দেয়। এর কম বা বেশি তাপমাত্রায় বেগুনের ফুল ও ফলধারণ ব্যাহত হয়। বাংলাদেশে শীতকালীন জলবায়ু বেগুন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এর কারণ হল বেগুন অত্যাধিক তাপমাত্রায় ভালো ফলন দেয় না। উচ্চতাপমাত্রায় বেগুনের ফুল ও ফল উৎপাদনে বিঘ্নিত হয় এবং এসময় অনিষ্টকারী পোকার আক্রমন বেশি হয়। বাংলাদেশে রবি বা শীত মৌসুমে বহু জাতের বেগুনের চাষ করা যায়, কিন্তু গ্রীষ্মকালের জাতের সংখ্যা কম। গ্রীষ্ম বা খরিপ মৌসুমে অনেকজাতের গাছে ফুলই হয় না অথবা ফুল ফুটলেও ঝরে পড়ে। আমাদের দেশের সব রকমের মাটিতে বেগুন চাষ করা যায় এবং ভাল ফলনও দিয়ে থাকে। তবে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। বেলে দোআাঁশ বা দোআাঁশ মাটিই এই চাষের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট।

 

চারা রোপন

বেগুন চাষের জন্য উর্বর জমি যেখানে বৃষ্টির পানি দাঁড়ায় না ও সবসময় আলো-বাতাস পায় এমন জমি নির্বাচন করতে হবে। এরপর উক্ত জমিতে ৪ থেকে ৫ বার চাষ দিয়ে তারপর মই দিয়ে জমির মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। ৫-৬ সপ্তাহ বয়সের চারা ৭৫ সেমি দূরত্বে সারি করে ৬০ সেমি দূরে দূরে রোপণ করতে হয়। লক্ষ্যণীয় চারার গোড়া রস ধরে রাখার জন্য চারার আটির গোড়াটি কাদার মধ্যে ডুবিয়ে নিতে হবে। তারপর চারা রোপণ করতে হবে। বিভিন্ন জাতের বেগুন গাছের আকার অনুযায়ী এ দূরত্ব ১০-১৫ সেমি কম বেশি করা যেতে পারে। জমিতে চারা রোপনের পর চারা যাতে শুকিয়ে না যায় সেজন্য সেচ দিতে হবে।

 

সার প্রয়োগ

কৃষকদের মতে গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে বেগুন চাষের জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরন অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে সেখান থেকে গোবর সংগ্রহ করা যাবে। নিজের গবাদি পশু না থাকলে পাড়া-প্রতিবেশি যারা গবাদি পশু পালন করে তাদের কাছ থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে। এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির আশেপাশে গর্ত করে সেখানে আবর্জনা, ঝরা পাতা ইত্যাদি স্তূপ করে রেখে পচা সার তৈরি করা সম্ভব।

 

রোগ-বালাই

ফিউজিয়াম ছত্রাক দ্বারা বেগুনের ঢলে পড়া রোগ হয়। গাছের গোড়া ও শেকড় বিবর্ণ হয়ে যায়। এ রোগ হলে পাতা নেতিয়ে পড়ে ও গাছ ঢলে পড়ে। পরবর্তীতে গাছ মারা যায়।

 

প্রতিকার

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পোকা দমন না হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে।

 

সেচ ও নিষ্কাসন

শীতকালীন ও আগাম লাগানো বর্ষাকালীন ফসলের জন্য বেগুনে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়।বেলে মাটিতে ১০-১৫ দিন পরপর সেচ দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।বর্ষাকালীন ও বারমাসী বেগুনের ক্ষেত্রে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

 

চাষের সময় পরিচর্যা

গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য মাঝে মাঝে গাছের গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে।জমিতে আগাছা দেখা দিলে মাঝে মাঝে তা পরিষ্কার করতে হবে।খরকুটো অথবা শুকনো কচুরিপানা দিয়ে মাটি ঢেকে দিলে মাটিতে রস অনেক দিন থাকবে।বয়স্ক গাছে ফল উৎপাদন কমে গেলে গাছের প্রধান কান্ড গোড়ার দিকে ২০ সে.মি. রেখে গাছের বাকি অংশ কেটে দিতে হবে। এরপর সার ও সেচ দিলে কান্ডের কেটে দেওয়া জায়গা থেকে দ্রুত শাখা-প্রশাখা বেরিয়ে ফল দেওয়া শুরু করবে।

 

বেগুন সংগ্রহ

খাওয়ার উপযোগী বেগুন ক্ষেত থেকে তোলার সময় সাবধানে সংগ্রহ করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে গাছের গায়ে যেন আঘাত না লাগে বা ক্ষত সৃষ্টি না হয়। গাছ থেকে তোলা বেগুন কাঁচা পাতা অথবা খড়ের উপর রাখতে হবে যেন বেগুনে আঘাত না লাগে; এটা অতি প্রয়োজনীয়।

উৎপাদিত ফসলের পরিমাণ

এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করলে গড়ে প্রায় ১০০-১২০ মণ বেগুন পাওয়া যায়।

 

 

অনলাইনে বীজ কোথায় পাওয়া যায়ঃ

দোকানের পাশাপাশি এখন অনলাইনে বীজ কিনতে পারবেন। কিনতে নিচে বীজ লেখা লিঙ্কের উপর ক্লিক করুনঃ

 

বীজ

Leave a Comment

Your email address will not be published.