আধুনিক পদ্ধতিতে ধানুয়া মরিচ চাষ

ধানুয়া মরিস চাষ 1|Dhanuya Chilli Seeds|অতি সহজ পদ্ধতিতে ধানুয়া মরিস চাষ|ধানুয়া মরিস চাষ
22nd September 2019 0 Comments

ধানুয়া মরিচ

বিভিন্ন প্রকার রান্নার জন্য মরিচ একটি অপরিহার্য উপাদান। মরিচকে অর্থকরী ফসল বলা হয়। এর ইংরেজি নাম Chilli ও বৈজ্ঞানিক নাম Capsicun annuum. বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মরিস চাষ হয়ে থাকে। তার মধ্যে ধানুয়া মরিচ অন্যতম।

 

ধানুয়া মরিচের জাতসমুহ

আমদের দেশে বিভিন্ন ধরনের ধানুয়া মরিচ চাষ করা হয়ে থাকে। যেমন- সাদা ধানুয়া মরিচ, কালো ধানুয়া মরিচ, লম্বা সাদা ও কালো ধানুয়া মরিচ ইত্যাদি রবি মৌসুমসহ এখন বিভিন্ন পদ্ধতিতে সারা বছর এই মরিচ চাষ করা হয়ে থাকে।

 

মাটি ও জলবায়ু:

পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত আলো বাতাসময় উর্বর দো-আঁশ মাটিতে মরিচ ভাল হয়।

অতিরিক্ত অম্ল মাটি ছাড়া প্রায় সব ধরনের মাটিতেই ধানিয়া মরিচ  জন্মে।

 

বীজ বপণ ও চারা রোপণ:

বর্ষা মৌসুমের জন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে এবং রবি মৌসুমের জন্য অক্টোবর-নভেম্বর মাস পর্যন্ত বীজ বপণের উপযুক্ত সময়। ধানুয়া মরিচ বছরের প্রায় যেকোনো সময়ই জন্মে। তবে রবি মৌসুমেই ফলন  ভাল হয়। যখন চারা প্রায় ১০ সে.মি. বা ৪ ইঞ্চি উঁচু হয় তখন জমিতে ৬০ থেকে ৭০ সে.মি. বা ২৫ থেকে ৩০ ইঞ্চি দূরত্বে সারিতে চারা রোপণ করতে হয় এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব হবে ৩০ থেকে ৪০ সে.মি. বা ১২ থেকে ১৬ ইঞ্চি।

 

সার প্রয়োগ:

জমি তৈরির সময় বিঘা (৩৩ শতক) প্রতি ১২০০ থেকে ১৩০০ কেজি জৈব সার, ৪০ কেজি টিএসপি, ৬ কেজি এমওপি এবং ১৫ কেজি জিপসাম সার মিশিয়ে দিতে হবে। চারা রোপণের ২৫, ৫০ ও ৭০ দিন পর প্রতি কিস্তিতে ইউরিয়া ৯ কেজি এবং এমওপি ৬ কেজি হারে উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

 

ধানুয়া মরিস চাষ
ধানুয়া মরিচ চাষ

 

পোকা-মাকড় ও রোগ-বালাই দমন:

মরিচের ক্ষেতে সাধারণত মাইট ও থ্রিপসের আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়। ওমাইট/ম্যালাথিয়ন/ পারফেকথিয়ন/মেটাসিসটক্স ১ চা চামচ ৫ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে সেপ্র করে এসব পোকা দমন করা যায়। রোগ-বালাইয়ের মধ্যে উইল্টিং, এ্যানথ্রাকনোজ/ডাইব্যাক ও ভাইরাস রোগ প্রধান। উইল্টিং রোগের জন্য রিডোমিল এমজেড ৭২, ২ গ্রাম/প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে বীজ তলায় ৭ দিন অন্তর ২ থেকে ৩ বার সেপ্র করে দমন রাখা যায়। এ্যানথ্রাকনোজ/ডাইব্যাক রোগের লক্ষণ দেখা গেলে টিল্ট নামক ছত্রাকনাশক ১ চা চামচ ১০ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর অন্তর ২ থেকে ৩ বার সেপ্র করতে হবে। ভাইরাস রোগ বিস্তারের বাহক সাদা মাছি ডায়াজিনন ২ চা চামচ ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করে দমন করা যায়।

 

পরবর্তী পরিচর্চা

সময়মত আগাছা দমন করতে হবে। অনাবৃষ্টির সময় সম্ভব হলে ক্ষেতে পানি সেচ দিতে হবে।

 

 

রিচ সংগ্রহ ও বীজ সংরক্ষণ:

গাছে মরিচ যখন পুরোপুরি পাকে সেই অবস্থায় উঠানো উচিত। পরিপক্ক, পুষ্ট এবং উজ্জ্বল লাল রঙের মরিচ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। পাকা মরিচ কেটে ভেতরের বীজ বের করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিয়ে বাতাস ঢুকতে পারে না এমন পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে।

অনলাইনে বীজ কোথায় পাওয়া যায়ঃ

দোকানের পাশাপাশি এখন অনলাইনে বীজ কিনতে পারবেন। কিনতে নিচে বীজ লেখা লিঙ্কের উপর ক্লিক করুনঃ

বীজ

Leave a Comment

Your email address will not be published.