অতিরিক্ত আঁচার খাওয়া তে হতে পারে মারাক্তক সমস্যা

25th November 2019 0 Comments

আচার এমন একটি খাবার যার নাম শুনলেই আপনার জিভে পানি চলে আসবে একদম। আমাদের মাঝে কম বেশি সবাই আচার খেতে পছন্দ করে। তবে তার মাঝে কেউ বেশি আবার কেউ কম। টক ঝাল মিষ্টি সব ভাবেই আচার তৈরি করা যায়। কেউ আচারে ঝাল বেশি খায় কেউ মিষ্টি কেউবা টক। আম,আমড়া,তেতুল, জলপাই,বড়ই আরো অনেক ফল রয়েছে যেগুলো দিইয়ে আচার তৈরি করা হয়ে থাকে। একটা ব্যাপার সব সময় বলা হয়ে থাকে অতিরিক্ত কোনো কিছুই আপনার শরীরের জন্য ভালো হয়না। ঠিক তেমনি অতিরিক্ত আচার খেলেও হতে পারে মারাক্তক কিছু সমস্যা।

আজেকের এই লেখাতে আমরা আপনাদের সেই ব্যাপারের অবগত করবো অতিরিক্ত আচারে আপনার যে মারাক্তক সমস্যা গুলো হতে পারে যে ব্যাপারে।

 

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক অতিরিক্ত আঁচার খাওয়া তে যে সমস্যা গুলো হতে পারেঃ

 

(১) একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে আচারে উপস্থিত নানাবিধ ক্ষতিকর উপাদান কিডনির উপর মারাত্মক চাপ ফেলতে থাকে। সেই সঙ্গে আচারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করা অতিরিক্ত নুন বের করে দেওয়ার জন্য়ও কিডনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ধীরে ধীরে এই অঙ্গটির কর্মক্ষমতা কমে যেতে থাকে। সেই সঙ্গে নানাবিধ কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। তাই সাবধান!

 

(২) আচার বানাতে অনেক বেশি মাত্রায় তেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর এই পরিমাণ তেল শরীরে প্রবেশ করলে কি হতে পারে জানা আছে? এমনটা হতে থাকলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও বাড়ে। তাই তো ভুলেও বেশি মাত্রায় আচার খাওয়া চলবে না। খুব ইচ্ছা করলে দিনে ১-২ চামচ চলতেই পারে। কিন্তু তার বেশি আচার খাওয়া মানেই কিন্তু হার্টের বিপদ।

 

(৩) অনেকেই মনে করেন ফল এবং অন্যান্য উপকারি উপাদান দিয়ে আচার বানানো হয় বলে এই মুখরোচক খাবারটি খেলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। বাস্তবে কিন্তু এমনটা একেবারেই হয় না। কারণ আচার বানানোর সময় যে পদ্ধতিতে ফল এবং সবজিকে শুকিয়ে নেওয়া হয় তাতে এইসব প্রকৃতিক উপাদানগুলির শরীরে উপস্থিত বেশিরভাগ পুষ্টিকর উপাদানই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আচার খেলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তো দূর হয়ই না, উল্টে অতিরিক্তি মাত্রায় তেল এবং নুনের প্রবেশ ঘাটার কারণে নানাবিধ শারীরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

 

(৪) আচারে থাকা তেল এবং নুন বেশি মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করতে শুরু করেল স্টমাক ফাংশন বিগড়ে যায়। সেই সঙ্গে পাচক রসের ক্ষরণও ঠিক মতো হয় না। ফলে একদিকে যেমন নানাবিধ পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, তেমনি মেটাবলিজম কমে যাওয়ার কারণে ক্ষিদেও কমে যেতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু কেস স্টাডিতে দেখা গেছে বেশি মাত্রায় আচার খেলে ডায়ারিয়ার মতো রোগে বারংবার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

 

(৫) একাধিক গবেষণায় এমনটা দেখা গেছে বেশি মাত্রায় ঝাল আচার খেলে পেটের অন্দরের অবস্থা এতটা খারাপ হয়ে যায় যে এই বিশেষ ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই খাদ্যরসিক বাঙালি আচার খাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাদগ্রন্থীর কথা শুনলে কিন্তু বিপদ! তাই ডাল বা পরটার সঙ্গে অল্প বিস্তর আচার খাওয়া চলতেই পারে। কিন্তু ভুলেও বেশি মাত্রায় খাওয়া চলবে না।

 

এছাড়াও আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্ট অনুসারে ক্যালরি ইনটেকের পরিমাণ কখনই ৩৭. ৫ গ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয়। কিন্তু প্রতিদিন মিষ্টি আচার খাওয়া শুরু করলে শরীরে ক্যালরি প্রবেশের পরিমাণ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। ফলে ডায়াবেটিসের মতো রোগের খপ্পরে পরার আশঙ্কা যায় বেড়ে। তাই তো প্রতিদিন আচার খেতে মানা করেন চিকিৎসকেরা।

 

তাহলে জেনে গেলেন তো কেনো অতিরিক্ত আচার খাওয়ায় সমস্যা। এখন যেহেতু সমস্যা গুলো আপনার জানা তাই আর না। আচার খাবেন তবে তা অতিরিক্ত ভাবে খাবেন না আপনার মুখের স্বাদের জন্য আপনি হালকা পরিমানে খেতে পারেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.